ধান খেতের পোকা দমনের সফল উপায় পরিবেশ বান্ধব ‘আলোক ফাঁদ’ || কমছে কীটনাশকের ব্যবহার

আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০১৯, ১:৩১ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি


রাণীনগরে ধান খেতের পোকা দমনের সফল উপায় পরিবেশ বান্ধব ‘আলোক ফাঁদ’ অনুষ্ঠিত হয়-সোনার দেশ

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কৃষকদের কাছে ধানে আক্রান্ত পোকা-মাকড় চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জনপ্রিয় একটি পদ্ধতির নাম হচ্ছে আলোক ফাঁদ। দিন দিন উপজেলার কৃষকরা এই কৃষিবন্ধব পদ্ধতির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
বর্তমানে উপজেলার ৮ইউনিয়নের ২৪টি ব্লকে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ও উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগিতায় সন্ধ্যায় আমন ফসলের খেতে পোকা-মকড়ের উপস্থিতি যাচাইয়ের জন্য এই আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিটি বর্তমানে কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আমন ধানের খেতের আইলে কোথাও পানি ভর্তি পাত্রে, কোথাও কাগজের উপড় আলো জ্বেলে ধানে আক্রমণাত্মক বিভিন্ন পোকা ধরছেন। কৃষকরা নিজেই জমিতে এই পোকাগুলোর উপস্থিতি দেখে ধান খেতে পোকার আক্রমণের আগেই কোন ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে তা খুব সহজেই নিরূপন করতে পারছেন। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষকরা নিজেই তাদের আমন খেতে কোন ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে তা স্থানীয় কৃষি অফিসের সহযোগিতায় প্রয়োগ করতে পারছেন। এতে করে পোকার আক্রমনের আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারছেন উপজেলার কৃষকরা। এই আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে এলাকার অনেক কৃষক বর্তমানে খুব কম ওষুধ ব্যবহার করছেন। এতে কৃষকদের খরচ অনেকটাই কমে আসছে এবং ধানের উৎপাদনের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন উপজেলার কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা, সম্প্রতি রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার সকল উপজেলায় ধান খেতে পোকা-মাকড়ের উপস্থিতি পর্যবেক্ষনে একযোগে এই আলোক ফাঁদ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সোহেল, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান বাবু প্রমুখ। এবার আমন মৌসুমে উপজেলায় ১৬ হাজার ৪ শ ৫৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের অনুপ্রেরনায় কৃষকরা বর্তমানে এই ‘আলোক ফাঁদ’ পদ্ধতির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষকরা সহজেই আমন ধানের শত্রু বিভিন্ন পোকা নিধন করতে পারছেন। এতে করে আমন খেত পোকার আক্রমন থেকে রক্ষা পাচ্ছে।
উপজেলার খট্টেশ্বর গ্রামের কৃষক লোকমান, জিসারুল, সিরাজ ও কাশিমপুর গ্রামের কৃষক জাহেদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর, সালাস, আব্দুর রাজ্জাক, আবদুল মান্নান জানান, আমরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে অনেক উপকৃত হচ্ছি। সহজ লভ্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করে তারা খুব সহজেই খেতের পোকা-মাকড়গুলো নিধন করতে পারছেন। পোকা-মাকড়গুলোর উপস্থিতি চিহ্নিত করে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন। এতে করে তাদের খরচ অনেকটাই কমে এসেছে। এটা পরিবেশ বান্ধব একটি পদ্ধতি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম জানান, এটি একটি সহজলভ্য পদ্ধতি। কৃষকরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে খুব সহজেই ধান খেতে পোকা-মাকড়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেন। কৃষকরা যদি এই পদ্ধতিটি আমন মৌসুমে অব্যাহত রাখেন তাহলে একদিকে তাদের ধান উৎপাদনে খরচ কম হবে এবং অপরদিকে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ