ধামইরহাটের আলতাদিঘীতে ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের উপচেপড়া ভীড়

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৭, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

ধামইরহাট প্রতিনিধি


ধামইরহাটের আলতাদিঘীতে ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের উপচেপড়া ভীড়-সোনার দেশ

নওগাঁর ধামইরহাটের ঐতিহ্যবাহী আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যানে ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের উপচেপড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। আলতাদিঘী ও দুইশ বছরের পুরাতন শালবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার দর্শনার্র্থীদের আগমন ঘটেছে। জানা গেছে, নওগাঁ জেলার একমাত্র প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা ধামইরহাটের বনাঞ্চলকে গত ৩ বছর আগে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়েছে তাই এর উন্নয়ন ও উন্নতিতে কাজ চলছে। উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের অন্তর্গত প্রায় দুইশ বছরের প্রাচীন আলতাদিঘী ও শালবনকে কেন্দ্র করে বর্তমান সরকার এলাকাটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশের উত্তরাঞ্চলে বিশেষ করে বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার শালবন (বনাঞ্চল) ধংস হলেও নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার মইশড়, দাদনপুর, খয়েরবাড়ী, মোল্লাপাড়া,অমরপুর ও জোতমাহমুদপুর মৌজা নিয়ে প্রায় ১ হাজার দুইশ বিঘা জমির উপর শালবন (রির্জাভ ফরেস্ট) এখনও রয়েছে। বনের মূল্যবান গাছপালা চুরি রোধ ও শালপাতা সংগ্রহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে বনাঞ্চল এখন গহিন বনভূমিতে পরিনত হয়েছে। এ বনাঞ্চল এমনিতেই এক সৌন্দর্যময় ঐতিহাসিক কীর্ত্তি। বনের মাঝে ঐতিহাসিক আলতাদিঘী যার দৈর্ঘ্য প্রায় এক কিলোমিটার। উত্তর দক্ষিণে লম্বা এবং উত্তর ধারের বেশ কিছু অংশ ভারতীয় এলাকা হওয়ায় দর্শনার্থী ও পর্যটকদের ভারতীয় কাটা তারের বেড়া ও দুই দেশের আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার দেখার সৌভাগ্য হয়। জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পর ধামইরহাট উপজেলা সদর থেকে বনাঞ্চল ও দিঘী পর্যন্ত পাকা রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। উপজেলা সদর থেকে ভ্যান, বাস, মাইক্রোবাস, ভুটভুটি যোগে তিন-চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া যাবে অনায়াসে। ভারত সীমান্তের কোল ঘেঁষে অবস্থিত আলতাদিঘী ও শালবনে বিরল প্রজাতির বিভিন্ন প্রকার জীবজন্তু ইতোমধ্যে অবমুক্ত করা হয়েছে। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উপলক্ষে এ শালবন ও আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যানকে দেখার জন্য হাজার হাজার দর্শনার্থী ভীড় জমায়। জয়পুরহাট থেকে আসা দর্শনার্থী রতন জানান, এলাকাটি নিঃসন্দেহে বিনোদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এছাড়া শালবন এলাকায় ঈদ মৌসুমে পর্যাপ্ত পরিমাণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। ধামইরহাটের পার্শ্ববতী পত্নীতলা উপজেলার ভ্রমণ পিপাসু মনিরুজ্জামান চৌধুরী মিলন বলেন, বন এলাকায় দূরের যাত্রীদের জন্য একটি রেস্ট হাউজের ব্যবস্থা থাকা দরকার। অন্যদিকে উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে আত্রাই নদীর উপর নব নির্মিত তর্কি উদ্দিন পার্সী (রহঃ) মাহী সন্তোষ সেতুর সৌন্দর্য ও নদীর পাশে চর বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য ওই এলাকায় হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমেছে। এ ব্যাপারে ধামইরহাট বনবিট কর্মকর্তা লক্ষণ চন্দ্র ভৌমিক বলেন, এবার ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে থেকে বিনোদন ও ভ্রমণ পিপাসু হাজার হাজার মানুষ এসে এ বনের সৌন্দর্য উপভোগ করছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার বিলুপ্ত প্রায় টমটম গাড়ী (ঘোড়ার গাড়ী) ও ঘোড়ায় চড়ে অনেক দর্শনার্থীর আগমন ঘটেছে এ বনে। শালবন ও প্রাকৃতিক সৌন্দয্যে ভরপুর আলতাদিঘীকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পর থেকে অজগর, মেছো বাঘ, গন্ধগোকুল, তক্ষক, বানর, হনুমান, টিয়াসহ বিভিন্ন বিরল প্রজাতির প্রাণি এ বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ