ধামইরহাটের কাস্টমস করিডর নেই কোন অগ্রগতি

আপডেট: ডিসেম্বর ১২, ২০১৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

ধামইরহাট প্রতিনিধি


নওগাঁ জেলা সদর থেকে ৫৬ কিলোমিটার দূরে অনেকটা ছিটকে পড়া ধামইরহাট উপজেলা। তার উপর বাংলা ভারতের কোল ঘেঁষে পূর্ব-পশ্চিম লম্বা এ উপজেলার অবস্থান, তাই আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে অনেকটা বঞ্চিত উপজেলাবাসী। ধামইরহাট উপজেলার চৌঘাট-জগন্নাথপুর সীমান্ত এলাকায় কাস্টমস করিডর প্রকল্পটি স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে ফাইলবন্দী অবস্থায় পড়ে আছে। আওয়ামীলীগ ও চারদলীয় জোট সরকারের আমলে এলাকায় কাস্টমস করিডর চালুর পরিকল্পনা করা হলেও তার কোন অগ্রগতি হয় নি।
এদিকে ঐ সম্ভাব্য স্থানে কাস্টমস করিডর চালু হচ্ছে বলে ব্যাপক প্রচার করা হলে ওই এলাকায় জমি কেনার জন্য ব্যবসায়ী মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। এছাড়াও সরকারিভাবে পুলিশ ফাঁড়ির জন্য ২ একর ও কাস্টমসের জন্য ৩ একর বরাদ্দকৃত সম্পত্তি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পাকিস্তান শাসনামলে ওই এলাকায় ইপিআর ক্যাম্প ও কাস্টমস অফিস চালু ছিল। ১৯৭৩ সালে ভারত সরকার লেনদেন বন্ধ করে দেয় যা এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল জলিল স্থানীয় জনগণের দাবির মুখে উল্লেখিত কাস্টমস করিডরের জন্য জায়গাটি পরিদর্শন করে কাস্টমস করিডর চালু করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন পরিদর্শন দল ওই স্থানটি পরিদর্শন করেন। পরর্বতীতে ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলে এ প্রকল্পের আর কোন অগ্রগতি হয় নি। ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে ধামইরহাট এমএম ডিগ্রি কলেজ ও নজিপুর জিয়া ময়দানের জনসভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া চৌঘাট পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস করিডর স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর আগে ১৯৯৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাপাহার উপজেলার খঞ্জনপুর আশ্রয়ন প্রকল্প উদ্বোধনের সময় ও ধামইরহাট এমএম ডিগ্রী কলেজ মাঠে ১৯৯৯ সালে জনসভায় ঘোষনা দিয়েছিলেন নতুন করে কোথাও যদি কাস্টমস করিডর চালু করা হয় তার আগেই চৌঘাট-জগন্নাথপুর কাস্টমস করিডর চালু করা হবে।
উল্লেখ্য, ধামইরহাট উপজেলা সদর থেকে ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট শহর অবধি ব্রিটিশ আমল থেকে একটি প্রসস্ত সড়ক পথ আজো বিদ্যমান। তাছাড়া ঐ সীমান্তে পাকিস্থান আমলে ধামইরহাট উপজেলা চৌঘাটে একটি চেকপোস্ট চালু ছিল। ধামইরহাট ও ভারতের বালুরঘাট শহরের মধ্যে মাত্র দূরত্ব মাত্র ৬ কিলোমিটার। যদি ওই জায়গায় কাস্টমস করিডোর চালু করা যায় তাহলে খুব কম সময়ে উভয় দেশের মালামাল আনা নেয়া করা যেত এবং লোকজনের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজতর হতো। উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ওয়ালিউজ্জামান বলেন, কাস্টমস করিডর হলে এলাকার উন্নয়ন হবে। ধামইরহাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র রেজুয়ান হোসেন জানান, এলাকার উন্নয়ন হলে জনগনের উন্নয়ন হবে এবং সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হবে। উত্তর চকরহমত গ্রামের শিক্ষক আলাল হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার ধামইরহাটের কাস্টমস করিডর প্রকল্পটি করবেন বলে আমি আশা করি।