ধামইরহাট ইঁদুর ও পোকার আক্রমণে আমন ধান

আপডেট: অক্টোবর ১, ২০২২, ১১:১৬ অপরাহ্ণ

ধামইরহাট প্রতিনিধি:


ধামইরহাট উৎপাদনীয় উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি ইঁদুর ও পোকার কবলে আমন ধান। এতে করে আমন ধান নিয়ে কৃষকেরা হতাশায় ভুগছেন।
জানা গেছে, সবুজ আমন ধানের মাঠে ইদুরের উপদ্রোপ, মাঠের সর্বত্রই ইঁদুরের অত্যাচার বেড়েছে। পানিতে সাঁতার দিয়ে ধান গাছ কেটে সাবাড় করছে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোন ফল পাওয়া যায়নি। উপজেলার পুস্তইল গ্রামের মৃত আইজান আলীর পুত্র বুলবুলের ৮বিঘা জমির ধান কেটে সাবাড় করেছে। টুটিকাটা গ্রামের জিল্লুর রহমান(কাপড় ব্যবসায়ী) জানান টুটিকাটা মাঠে ৫ বিঘা জমিতে ইঁদুর ধান গাছ কেটে সাবাড় করেছে। তাই আমি রাত জেগে ঢোল বাজাচ্ছি ভয়ে ইঁদুর পালিয়ে যাচ্ছে। চড়া দামে ডিজেল কিনে জমিতে সেচ দিয়ে রোপা লাগাতে কৃষকেরা হিমছিম খাচ্ছেন। এর মধ্যে মাঠে ইঁদুর ও পোকার উপদ্রব বাড়ছে। কীটনাশক ভেজাল সার চিনতে অসুবিধা হওয়াতে কৃষকেরা ভেজাল কীটনাশক মাঠে স্প্রে করে ফল পাচ্ছে না।

ইঁদুর ধান গাছ কেটে কেটে সাবাড় করেছে। মাঠে পানি থাকা শর্তেও সাঁতার কেটে ধান গাছ কেটে ফেলেছে। কৃষকেরা মশাল জ্বালিয়ে রাতে পাহাড়া দিচ্ছেন। দিন রাত ঢোল বাজাচ্ছেন। আক্রান্ত এলাকাগুলো হচ্ছে আড়ানগর ইউনিয়নের চকভবানী, খিয়ারশুকনা, সেননগর, কর্ণাই। আলমপুর ইউনিয়নের চৌঘাট, জোতওসমান, চককালু, দেউলবাড়ী। উমার ইউনিয়নের পুস্তইল, টুটিকাটা, চকসবদল, বানিয়াপাড়া। ধামইরহাট ইউনিয়নের জগৎনগর ও রুপনারায়নপুর। চলতি রোপা আমন মৌসুমে ২০ হাজার ৩৯ হেক্টর জমিতে রোপা লাগানো হয়েছে। কৃষি অফিসে যোগাযোগ করা হলে আলেপ উদ্দীন পিপি জানান গমের সাথে কীটনাশক, চানাচুর, বিস্কুট, গুড় মিশ্রন করে ইঁদুর চলাচলের রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে কিংবা কলায় পাতায় রেখে দিতে হবে। মিশ্রন গুলোতে হাত বা মুখের স্পর্শ না লাগে স্পর্শ হলেই ইঁদুর মানুষের গন্ধ পাবে আর মিশ্রন খাবে না।

সর জমিনে ঘুরে জানা গেছে ধান গাছ গামুড় হয়েছে এ সময় ইঁদুর ও পোকার আক্রমণ বাড়ে গিয়েছে। আশ্বিন মাস কৃষকের হাতে প্রয়োজনীয় টাকা পয়সা নেই । সহজ শর্তে ব্যাংকগুলো ঋণ দিচ্ছে না বলে কৃষকের অভিযোগ। বিগত ইরি বোরো মৌসুমে খরা , ঝড়া একাধিক কাল বৈশাখীতে কৃষকের ঘরে ঘরে পর্যাপ্ত ধান ওঠে নি। চলতি আমন মৌসুমেও কৃষকেরা চিন্তাই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। রহিম নামের কৃষক জানান কীটনাশক প্রয়োগ করেও ফল হয় নি। কৃষি অফিসের পরামর্শে মিশ্রন প্রয়োগ করে আমি ইঁদুর তাড়া করেছি। উপজেলা কৃষি অফিসার তৌফিক আল জোবায়ের জানান আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবারও ফলন ভালো হবে।