ধামইরহাট পাটখেতে সংঘটিত জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২২, ১১:১৯ অপরাহ্ণ

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি :


নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানার ইউসুফপুর ইউনিয়নের পরাণপুর গ্রামে বোরাগাড়ী ব্রিজের কাছে পাটখেতে চাচাতো দুই ভাই জাকির (১৬) এবং রিমন (১৬) হত্যা রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই। আটো চার্জার গাড়ি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তদন্তের পর ঘটনার সাথে জড়িত ৯ জনকে আসামি করে ইতোমধ্যেই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পিবিআই।

তদন্তকারী অফিসার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে ১৩ জুন বিকাল অনুমান ৫টার সময় জয়পুরহাট সদর থানার পশ্চিম বিল্লাহ গ্রামে শহিদুল ইসলামের ছেলে রিমন হোসেন ওরফে ইমন (১৬) এবং ভাতিজা জাকির হোসেন (১৬) বাড়ি হতে অটো চার্জার গাড়ি নিয়ে ভাড়া মারতে বেরিয়ে যায়। অধিক রাত্রী হলেও তারা বাড়ি ফিরে না আসলে পরের দিন রিমনের মাতা বাদী হয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ২০১৯ সালে ১৮ জুন সকালে লোকমুখে জানতে পারে যে, ধামইরহাট থানা এলাকায় একটি পাটখেতে অজ্ঞাত দুইটি লাশ পড়ে আছে। পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের পরিচয় নিশ্চিত করে। ২০জুন ২০১৯ সালে নিহত রিমনের পিতা বাদী হয়ে ধামইরহাট থানায় অজ্ঞাত আসামীদের অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি থানায় রুজুর পর থানার তিন তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত করেন। পরে মামলাটি পিবিআই অধিগ্রহণ করে। ঘটনার প্রায় দীর্ঘ ১৯ মাস অতিবাহিত হবার পর পিবিআই নওগাঁ পুলিশ সুপার নয়মুল হাসান মামলাটির তদন্তভার এসআই (নিঃ) মো. শফিকুল ইসলাম এর উপর অর্পণ করেন। পিবিআই নওগাঁর পুলিশ সুপারের বিশেষ দিক-নির্দেশনায় ও সার্বিক সহযোগিতায় পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলাম এই মামলার হত্যাকা-ের মূল রহস্য উদঘাটন করেন।

পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান যে, অটো চার্জার গাড়ি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে আসামীগণ তাদের হত্যা করে। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জয়পুরহাট সদর থানার বড় মাঝিপড়া গ্রামের জোবাইদুল ইসলামের পুত্র আজিজুল হাকিম ওরফে চাচ্চু(১৯) ও উত্তর পেচুলিয়া গ্রামের মাসুদ রানার ছেলে মুন্না(২৫)সহ ৯জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামীগণ পুলিশ হেফাজতে নিহত রিমন এবং জাকিরকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং এদের মধ্যে একজন আসামী আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। আসামী আলামিন ওরফে মিঠুন, চাচ্চু, আজিজুল, তরিকুল, জনি, কিশোর অপরাধী আব্দুল্লাহ এবং কিশোর অপরাধী মোস্তাকিম সন্ধ্যা অনুমান সাড়ে ৬টার সময় মঙ্গলবাড়ী বাজারে আসে। সেখানে আসামী আজিজুল হাকিম ওরফে চাচ্চু এবং আল আমিন ওরফে মিঠুন ভিকটিমদের অটো চার্জার গাড়ি বিয়ে বাড়ি যাবার কথা বলে ঠিক করে। কপিলের মোড়ে এসে আসামী সোহেল রানা ওরফে জাফর এবং আসামী মুন্না ওই একই গাড়িতে উঠে। সেখান থেকে তারা সকলেই একই অটোগাড়িতে চড়ে ল্যাঙ্গাপীর বুড়ীমারী নামক জায়গায় যায়। আলামিন ও চাচ্চু মিলে এক বাড়ি থেকে ৩ টি টাইগারের বোতলে করে চোয়ানি (দেশীয় মাদক) কিনে আনে। তারপর তারা অটো গাড়ি নিয়ে হরিপুর ব্রিজের কাছে পৌঁছে। তারা সবাই মিলে চোয়ানি খায়। ভিকটিম জাকির ও রিমনকেও তারা চোয়ানি খাওয়ায়। পরে তারা চার্জার গাড়ি নিয়ে দূর্গাদহ বাজারে পৌঁছে। সেখান থেকে আসামি চাচ্চু ও আলামিন বাজার থেকে গামছা কিনে তাদের কপালে বেধে নিয়ে আসে। তারপর তারা সবাই ঘটনাস্থল পরানপুর গ্রামে বোরাগাড়ী ব্রিজের কাছে আসে। সেখানে পাটখেতে মেয়ে আছে বলে ভিকটিমদের একজন একজন করে পাটখেতে নিয়ে গিয়ে গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে রড ও র‌্যান্স দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নিশংসভাবে হত্যা করে তাদের অটোগাড়ী ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

পিবিআই এর অনুসন্ধানে এবং সোর্সের নিকট হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেফতার পূর্বক পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে আসামীদের দেওয়া তথ্য অনুসারে ছিনতাইকৃত অটো চার্র্জার গাড়ি চাঁপায় নবাবগঞ্জ জেলার নবজাগির পিরজপুর গ্রামের মুন্টুর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আরো জানান, আশা করি বাদী ন্যায় বিচার পাবেন।