ধামুইরহাটের অপহৃত আ’লীগ নেতা বদলগাছী থেকে উদ্ধার

আপডেট: মার্চ ১, ২০১৭, ১:০৮ পূর্বাহ্ণ

বদলগাছী প্রতিনিধি


নওগাঁর ধামুইরহাট উপজেলার অপহৃত আওয়ামীলীগ নেতা ও অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল জলিল (৬৫) কে বদলগাছী বারফালা গ্রাম থেকে উদ্ধার করেছে বদলগাছী থানা পুলিশ। বারফাল গ্রামের স্থানীয় লোকজন জানায়, গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে বারফালা গ্রামের ভ্যান চালক হারুন অর রশিদ আলু বিক্রির জন্য কোলাহাটে যাওয়ার পথে হিজলতলী নামক স্থানে আব্দুল জলিলকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পায়। তখন হারুন তার বাঁধন খুলে দিয়ে কোলা হাটে যায়। বাঁধন মুক্ত হয়ে আব্দুল জলিল বারফালা গ্রামে গিয়ে সহযোগিতা চাইলে গভীর নলকুপের ড্রেনম্যান সহিদুল ও সিদ্দিক রাস্তা সংলগ্ন ভুট্টুর বাড়িতে তাকে আশ্রয় দেয়। খবর পেয়ে গ্রামের লোকজন ছুটে আসে সেখানে। পরে বদলগাছী থানায় খবর দিলে এসআই আকতারুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আব্দুল জলিলকে উদ্ধার করে ধামুইরহাট থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে কিভাবে অপহরণ করা হলো এবিষয়ে আব্দুল জলিলের মতামত জানতে চাইলে তিনি জানান গত ২২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা রাতে তার বাড়ীর সামনে থেকে তার চোখে-মুখে অচেতন নাশক ¯েপ্র করে তাকে অপহরণ করে। এরপর তাকে অজ্ঞাত স্থানে ছোট্ট একটি ঘরে আটকিয়ে রাখা হয়। মাঝে মধ্যে খাবার দেওয়া হয় আবার অচেতন নাশক ¯েপ্র করে অজ্ঞান করে রাখা হয়। গত সোমবার দিবাগত রাতে তাকে মাইক্রো যোগে এনে এখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। অপহরণকারীদের সে চিনতে পারছে কিনা জানাতে চাইলে তিনি জানান এ বিষয়ে যা বলার তা কোর্টে বলবেন। খবর পেয়ে ধামুইরহাট থেকে ছুটে আসে তার ছেলে সাজ্জাদ হোসেন। সাজ্জাদ হোসেন জানায় স্থানীয় মাদ্রাসার ওয়াকফা জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ ঘটনার জের ধরে তাকে অপহরণ করা হতে পারে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর থেকে তাকে খুজে না পাওয়ায় ঐ রাতেই ধামুইরহাট থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। জিডি নং ৭০৪, তারিখ: ২২/০২/২০১৭ ইং বলে সাজ্জাদের ভাষ্যে জানা যায়। সাজ্জাদ আরও জানায় অপহরণকারীরা তাদের পরিবারের কাছে কোন মুক্তিপন দাবি করে নি। সার্বিক বিষয় জানার পরে বারফালা গ্রামের ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন এটি একটি অপহরন নাটক সাজানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে ধামুইরহাট থানার ওসি রকিবুল ইসলাম এর সংগে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আব্দুল জলিল ধামুরইহাট উপজেলার সাগিদার গাংরা গ্রামের মৃত ফজের আলীর পুত্র বলে জানা যায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ