ধূমপান ছাড়ার অব্যর্থ কিছু উপায়

আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০২০, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


চোখ বন্ধ করে সিগারেটে টান দিয়ে মনে করুন ধোঁয়া নাক দিয়ে যাচ্ছে। যেতে যেতে তা গোখরা সাপের আকার ধারণ করছে। ফুসফুসে গিয়ে ফণা তুলে ছোবল মারছে। আর ঢেলে দিচ্ছে নিকোটিন নামের বিষ।
“ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর”, এই আপ্তবাক্যটি সবারই জানা। কিন্তু জানার পরও তা করে থাকি অনেকেই। ধূমপানের ফলে ক্যান্সার, হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকির বিষয়টি জানার পরেও ধূমপায়ীরা ব্যর্থ হন এ বদভ্যাস থেকে সরে আসতে।
যে সব বস্তুর ব্যবহার বাদ দিলে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো যায় তামাক তাদের মধ্যে শীর্ষে। তামাক ব্যবহারকারীদের অন্তত অর্ধেকই ক্ষতিকর প্রভাবে মারা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসেব অনুযায়ী, প্রতিবছর সারাবিশ্বে প্রায় ৬০ লাখ লোক তামাকের ক্ষতিকর প্রভাবে মারা যায় (সর্বমোট মৃত্যুর প্রায় ১০%) যার প্রায় ৬ লাখ পরোক্ষ ধূমপানের স্বীকার।
তামাক মূলত হৃৎপিণ্ড, লিভার ও ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। ধূমপানের ফলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD) (এমফাইসিমা ও ক্রনিক ব্রংকাইটিস সহ), ও ক্যান্সার (বিশেষত ফুসফুসের ক্যান্সার, প্যানক্রিয়াসের ক্যান্সার, ল্যারিংস ও মুখগহ্বরের ক্যান্সার) এর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়। তামাক উচ্চ রক্তচাপ ও প্রান্তীয় রক্তনালীর রোগ করতে পারে। এর প্রভাব নির্ভর করে একজন ব্যক্তি দৈনিক কয়টি ও কয় বছর ধরে ধূমপান করে তার ওপর।
তাই ধূমপান ত্যাগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এই অভ্যাস থেকে সরে আসার কিছু কার্যকরী উপায়-
-ধূমপান ছাড়ার জন্য প্রথমে দরকার ইচ্ছাশক্তি। আপনার ইচ্ছাশক্তি যত প্রবল হবে তত তাড়াতাড়ি আপনি ধূমপান ছাড়তে সক্ষম হবেন।
-অনেকেই সিগারেট ছাড়ার কথা ভেবে পকেটে তা রাখেন না। ভাবেন, পকেটে থাকলেই খেতে ইচ্ছে করবে। তবে, অনেক ক্ষেত্রেই সঙ্গে না থাকলে ধূমপান করার ইচ্ছে আরও বেশি হয়। পকেটে সিগারেট না রাখলে দেখা যাবে, আপনি অন্যের কাছ থেকে তা চেয়ে খাচ্ছেন। তাই সিগারেট ও ম্যাচ পকেটেই রাখুন।
-শুধু খেয়াল রাখুন, কোন সময়গুলোতে আপনি সিগারেট ধরান। ধূমপানের ইচ্ছা একেকজনের একেক সময়ে প্রবল হয়। কেউ টেলিফোনে আলাপ করতে করতে, কেউ আলোচনার শুরুতে, কেউ টিভি দেখার সময়, কেউ খাবারের পর, কেউ বা চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে সিগারেট ধরান। এ সময়গুলোতে অনেকটা নিজের অজান্তেই তা ধরিয়ে ফেলেন অনেকে। যদি ধরিয়েই ফেলেন, তখন নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, আপনি এখন সত্যি সত্যি সিগারেট খেতে চান কি না?
-যদি সত্যি সত্যিই সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছা হয়, তা হলে অন্যসব কাজ বাদ দিয়ে আরাম করে বসুন। চুপচাপ বসে তা খান। মনোযোগ দিয়ে সিগারেট খান।
-সিগারেট খাওয়ার সময় শরীরের প্রতি মনোযোগ দিন। চোখ বন্ধ করে তাতে টান দিয়ে অবলোকন করুন ধোঁয়া নাক দিয়ে যাচ্ছে। যেতে যেতে তা গোখরা সাপের আকার ধারণ করছে। ফুসফুসে গিয়ে ফণা তুলে ছোবল মারছে। আর ঢেলে দিচ্ছে নিকোটিন নামের বিষ। একটা বিষাক্ত সাপ ছোবল মারলে আপনার দেহ-মনে যে অনুভূতি সৃষ্টি হতো ক্ষণিকের জন্য তা করুন। স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুভূতি না এলে অভিনয় করুন। (মনে করুন, মঞ্চে নাটক করছেন। নাটকে আপনাকে অভিনয় করতে হচ্ছে সাপে আক্রান্ত পথিকের ভূমিকায়। সত্যি সত্যি সাপ ছোবল মারলে আপনার যে মনোদৈহিক প্রতিক্রিয়া হতো, তাই করুন)। মনের চোখে আপনার নাক মুখ গলা হৃৎপিণ্ড পাকস্থলীর প্রতিক্রিয়া অবলোকন করুন। খারাপ হলে চিন্তা করুন।
-পুনরায় সিগারেটে টান দিন। মনে করুন, আরেকটা গোখরা সাপ ফুসফুসের দিকে যাচ্ছে। পূর্বের প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি করুন। আবারো খারাপ হলে চিন্তা করুন।
-এই পদ্ধতিতে পুরো সিগারেট শেষ করুন। এই পুরো প্রক্রিয়ায় আপনার যে অনুভূতি হলো তা একটি কাগজ বা ডায়েরিতে লিখে রাখুন। ঠিক তা ভেবে চিন্তা করুন।
-সবকিছু বাদ দিয়ে শুধু মনে রাখুন, অন্যের সামনে বা অন্য কোনো কাজ করতে করতে সিগারেট খাবেন না। যখন খেতে ইচ্ছে করবে, অন্য সবকিছু বাদ দিয়ে নিরিবিলি বসে এই প্রক্রিয়ায় তা খাবেন।
কয়েকদিন এভাবে চালিয়ে গেলে অচিরেই দেখবেন, আপনার দেহ-মন নিজ থেকেই সিগারেট প্রত্যাখ্যান করছে। তাতে টান দিতেই কাশি চলে আসছে। বিস্বাদ লাগছে। সিগারেটের ধোঁয়া গন্ধ লাগতে শুরু করেছে। এভাবে খুব সহজেই ধূমপানের বদভ্যাস থেকে আপনি পুরোপুরি মুক্ত হতে পারবেন।