ধৃত বৃদ্ধই কি মুজিব ঘাতক, জিন পরীক্ষা

আপডেট: এপ্রিল ২৩, ২০২০, ৮:৩২ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


পশ্চিমবঙ্গ থেকে নিয়ে যাওয়া এক বৃদ্ধই শেখ মুজিবুর রহমানের ঘাতক রিসালদার (বরখাস্ত) মোসলেউদ্দিন কিনা, তা নিশ্চিত করতে তাঁর ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে বাংলাদেশি গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে। সত্তরোর্ধ্ব এই বৃদ্ধকে রোববার মধ্যরাতে উত্তর ২৪ পরগনার বেরি গোপালপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দেয়া হয় বলে দাবি ভারতীয় গোয়েন্দাদের একটি সূত্রের। এই সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা যৌথ জেরায় ধৃতকে মুজিব-ঘাতক বলেই মনে হয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দাদের। কিন্তু তার পরেও পরিচয় নিশ্চিত হতে বাংলাদেশে বসবাসকারী মোসলেউদ্দিনের নিকট আত্মীয়দের জিনের সঙ্গে বৃদ্ধের জিন মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। গোয়েন্দাদের দাবি, পরিচয় নিশ্চিত না-হলে ওই বৃদ্ধকে যাতে পশ্চিমবঙ্গে ফিরিয়ে দেয়া যায়, সেই কারণেই হস্তান্তরের গোটা বিষয়টি বেসরকারি বোঝাপড়ার স্তরে করা হয়েছে।
সম্প্রতি আটক করে ফাঁসিতে ঝোলানো শেখ মুজিবের আর এক ঘাতক ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আব্দুল মাজেদকে জেরার পরেই চার দশক ধরে গা ঢাকা দেয়া মোসলেউদ্দিনের খোঁজ মেলে বলে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সূত্রে দাবি। মাজেদের মতো সে-ও পশ্চিমবঙ্গে গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছে বলে জানা যায় বলে দাবি বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের। এই মোসলেউদ্দিনের গুলিতেই ১৯৭৫-এর ১৫ অগস্ট শেখ মুজিব নিহত হন। পরে ওই বছর ২ নভেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে ঢুকে সেনাদের যে দলটি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ এবং তিন মন্ত্রী মহম্মদ মনসুর আলি, সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং এএইচএম কামারুজ্জামানকে গুলি করার পরে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে, মোসলেউদ্দিন তাতেও ছিল। সুপ্রিম কোর্ট ২০০৯-এর নভেম্বরে মোসলেউদ্দিন-সহ ১২ জনের ফাঁসির রায় বহাল রাখে। কিন্তু অতীতে বেশ কয়েক বার গোয়েন্দাদের জাল কেটে পালায় ধুরন্ধর এই ঘাতক।
লকডাউনের মধ্যে সম্ভাব্য মোসলেউদ্দিনের খবর পেয়ে বাংলাদেশি গোয়েন্দারা দিল্লিতে ভারতীয় গোয়েন্দাদের শীর্ষ কর্তাদের জানান বলে ঢাকা সূত্রে খবর। সেই তথ্যের ভিত্তিতে গত শুক্রবার উত্তর চব্বিশ পরগনার একটি আধাশহর থেকে এই বৃদ্ধকে ধরে একটি গোপন জায়গায় জেরা শুরু করেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। ডেকে নেয়া হয় বাংলাদেশি গোয়েন্দা কর্তাদেরও। তার পরেই পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশি গোয়েন্দাদের হাতে বৃদ্ধকে তুলে দেয়া হয়েছে বলে ভারতীয় গোয়েন্দাদের একটি সূত্র জানিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা