নওগাঁর আত্রাই নদীতে ব্রিজ নির্মাণে ধীরগতি || সরকারের লাখ লাখ টাকা লোকসান

আপডেট: জুন ৮, ২০২০, ৮:৫০ অপরাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি:


আত্রাই নদীতে নির্মাণাধীন ব্রিজ- সোনার দেশ

কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার কারণে নওগাঁর আত্রাইয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করে সনাতন পদ্ধতিতে আত্রাই নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারের লাখ লাখ টাকা লোকসানের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, আত্রাই নদীর উপর অবস্থিত বেইলি ব্রিজ দেবে যাওয়ার কারণে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সাংসদ মো. ইসরাফিল আলমের চেষ্টায় জরুরিভাবে সরকার সেখানে স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত অনুসারে জিওবি এবং জাইকার অর্থায়নে প্রায় ১শ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের বাস্তবায়নে মীর আখতার টোমাইহাল টেক জেভি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত ২৫মার্চ ২০১৮ তারিখে কাজ শুরু করে। শুরু থেকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়াই সনাতন পদ্ধতি ব্যবহারের কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সমাপ্ত হয়নি বলে স্থানীয়রা বলেন। এছাড়াও নদীতে বালি দ্বারা ৮/৯ বার বাঁধ নির্মাণ করে কাজ শুরু করলে বার বার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে তা ভেঙে নদীর খনন স্থানগুলো ভরাট হয়ে সরকারের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সাংসদ মো. ইসরাফিল আলম বলেন, ব্রিজ নির্মাণে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহান না করা, নদীতে বালি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ, কাজের ধীরগতি এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্রিজের কাজ সমাপ্ত না হওয়ার বিষয়টি খুবই হতাশার। সরকার যেখানে দেশের উন্নয়নখাতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছেন সেখানে কিছু প্রভাবশালী ঠিকাদারদের কারণে সে উন্নয়নখাতগুলো ভেস্তে যেতে বসেছে। উন্নয়ন কাজগুলো নিয়ম মাফিক যথাসময়ে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নিয়মিত মনিটরিং করার জন্য একটি টিম গঠন করা প্রয়োজন।
উপজেলা চেয়ারম্যান এবাদুর রহমান প্রামানিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বার বার বলা সত্ত্বেও এক্সচেঞ্জ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মের তোয়াক্কা ও আমাদের কথায় কর্নপাত না করে তাদের মতো করে ব্রিজের কাজ করে যাচ্ছে। বালি দ্বারা নদীতে বাঁধ নির্র্মাণ করে এলাকাবাসীর অপূরণীয় এবং সরকারের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
এলাকাবাসী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে অতিদ্রুত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রিজের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করার দাবি জানান।