নওগাঁর আদিবাসী পল্লীর মানুষের কাছে পৌঁছে না স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টিহীনতায় শিশুরা

আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০১৭, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

এম আর রকি, নওগাঁ


নওগাঁর আদিবাসী পল্লীগুলোতে পৌঁছে না সরকারি স্বাস্থ্যসেবা। সমাজের মুল ধারা থেকে পিছিয়ে পড়া এসব পল্লীতে  অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে উঠছে নতুন প্রজ¤œ। মাতৃত্বকালীন অপুষ্টির শিকার হয়ে জন্ম নিচ্ছে বিকলাঙ্গ ও প্রতিবুুদ্ধ শিশু।  সচেতনার অভাবে রোগ শোকে কাতর হয়ে স্বাস্থ্যসেবা থেকে দূরে থাকা এসব পল্লীর প্রবীণরা স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত হয়ে ঢলে পড়ছে মৃত্যুর কোলে। অভিযোগ রয়েছে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মীরা খোঁজ রাখে না এসব পল্লীর মানুষদের। সরকারের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য সেবা কার্ড চালুর দাবী স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কারী সংশ্লিষ্ট দের ।
নওগাঁ জেলা সদর সহ বরেন্দ্র এলাকায় রয়েছে ৫১১টি  আদিবাসী পল্লী । এসব পল্লীতে প্রায় ৩ লাখ আদিবাসী নারী ও পুরুষ বাস করে। সমাজের মূল ধারা থেকে পিছিয়ে পড়া এসব আদিবাসী  জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ  জানে না সরকারের  স্বাস্থ্যসেবা খাতগুলো কি। মাতৃত্ব কালীন অপুষ্টির শিকার হয়ে এসব পল্লীতে জন্ম নিচ্ছে বিকলাঙ্গ ও প্রতিবুদ্ধি শিশু। সুষম স্বাস্থ্য সেবার অভাবে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে এসব পল্লীর প্রবীণরা ঢলে পড়ছে মৃত্যুর কোলে । মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য সহকারীদের পদচারনা কালে ভদ্রে কখনো পড়ে এসব পল্লীতে। অভিযোগ রয়েছে আশ পাশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে গেলেও বেশির ভাগ সময় বন্ধ পান। ফলে সরকারের স্বাস্থ্যসেবা থেকে দূরে থাকছে এসব পল্লীর নারী ও পুরুষরা।  সেবা বঞ্চিত নারীদের ক্ষোভের অন্তনেই। নওগাঁ সদর উপজেলার ঝিকড়া আদিবাসী পল্লীর সুরেকা পাহান, দেবী বালা, এবং অনন্ত উড়াউ জানান, এখানে স্বাস্থ্য কর্মীরা আসে না। স্বাস্থ্য সচেতন সম্পর্কে এ আদিবাসী পল্লীর মানুষদের তেমন ধারনা নেই। দেখা গেছে এখানে বেশ কয়েকটি শিশু জম্মের পর থেকেই প্রতিবুন্ধী। অধিকাংশ শিশুরাই এখানে অপুষ্টির শিকার। বয়স্করা নানা রোগে কাতর হয়ে পড়ে আছে। এদের মধ্যে একজন যোগী পাহান। বয়স ৫০ হবে। কিন্ত বেশ কিছু রোগে আক্রান্ত হয়ে এখন শয্যশায়ী। তারসাথে কথা বলা হলে সে তার দু:খের কথা গুলো বলার চেষ্টা করছিল। কিন্ত শ্বাস জনিত রোগে অনেক কথায় বোঝা যাচ্ছে না । এখানে মোট ৪০টি ঘর আদিবাসী। অত্যান্ত মানবেতর জীবনযাপনকারী এ পল্লীর আদিবাসীরা রোগ শোক ছাড়া স্থানীয় কিছু ভূমি দস্যুদের হাতে নিপীড়নের শিকার। এসব আদিবাসীদের উচ্ছেদের চেষ্টা করছে তারা ।
সরকারের স্বাস্থ্য সেবা এসব পল্লীর দোড় গড়ায় পৌঁছানোর জন্য স্বাস্থ্যসেবা কার্ড চালু ও ডাটা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে। নওগাঁ জেলা ড্রাগ সমিতির সভাপতি কেন্দ্রিয় সদস্য আতাউর রহমান এবং বেসরকারি  এ উন্নয়ন সংস্থা বিএসডিও’র  কর্মী ফিরোজ আলম বলেন, অবশ্যই সরকার কে অনগ্রসর গোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য আলাদা একটা ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ জেলায় বিশেষ কাজ করছেন বলে দাবী করছেন সিভিল সার্জন ডা. রওশন আরা খানুম। তিনি বলেন, শুধু আদিবাসী নয় সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রান্তিক পর্যায়ে কমিউনিটি সেবা আগের থেকে এখন অনেক উন্নত করা হয়েছে ।
সমাজের পিছিয়ে পড়া এসব জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা গেলে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য দিবস সার্থক হবে এমন কথা বলছে সুশীল সমাজ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ