নওগাঁর পানি নিষ্কাশনের নামে জোরপূর্বক বাড়ির প্রাচীর ভেঙে নালা নির্মাণের অভিযোগ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১, ৯:০৮ অপরাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি:


নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়নের মল্লিকপুর মাস্টারপাড়া এলাকায় ফসলি মাঠের পানি নিষ্কাশনের নামে জোরপূর্বক নালা নির্মাণ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে বিরোধের কারণে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গ্রামের একটি পক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

গত ১৫ সেপ্টম্বর মল্লিকপুর মাস্টারপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি ওই অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগে বলা হয়, তার বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব পাশে অবস্থিত শতবিঘা জমির ফসলি মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য মাঠের উত্তর পাশ দিয়ে তার বাড়ি সংলগ্ন পাকা রাস্তার নিচ দিয়ে পাইপের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের পথ ছিল।

কিন্তু সম্প্রতি গ্রামের প্রভাবশালী গোলাম সাকলাইন মান্নু ও তার ভাই তান্নুর নেতৃত্বে গ্রামের একটি পক্ষ পানি নিষ্কাশনের ওই পথটি বন্ধ করে দেয় এবং মিজানুরের বাড়ির দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশ দিয়ে সীমানা প্রাচীর ভেঙে ও পুকুর পূরন করে নালা নির্মাণ শুরু করেছে। বর্তমানে যে দিক দিয়ে নালা নির্মাণ করা হচ্ছে এতে প্রায় ২০০ মিটার দূরত্ব জুড়ে নালা নির্মাণ করতে হচ্ছে।

যা সম্পূর্ণ ভাবে মিজানুর রহমানের জমির ওপর দিয়ে। এতে তার বাড়ির প্রাচীর ভাঙা পড়ছে। এ ছাড়া তার বাড়ির উত্তর পাশের দেয়াল ঘেঁষে নালা নির্মাণ করায় বাড়ির দেয়াল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অথচ বাড়ির পূর্ব পাশ দিয়ে আনুমানিক ৫৫মিটার দূরত্বের নালা নির্মাণ করলেই কারও কোনো ক্ষতি ছাড়াই মাঠের পানি নিষ্কাশনের পথ বের হতো। নালার পাশাপাশি গ্রামের দক্ষিণ দিকে বসবাসরত শতাধিক পরিবারের লোকজনদের চলাচলের নতুন পথও তৈরি হতো।

পূর্ব পাশ দিয়ে নালা নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত জায়গাটিও মিজানুরের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন। তিনি গ্রামবাসীকে সেই প্রস্তাব দেওয়া সত্ত্বেও একটি পক্ষ তার প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে জোরপূর্বক বাড়ির প্রাচীর ভেঙে ও দেয়াল হুমকিতে ফেলে নালা নির্মাণ করছেন।

অভিযোগকারী মিজানুর রহমান বলেন, ‘মাঠের উত্তর পাশ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের যে পথটি ছিল সেখানে গ্রামের গোলাম সাকলাইনের ভাই তান্নুর জমি রয়েছে। সেই পাশ দিয়ে মানুষের চলাচলের শত বছরের পুরাতন একটি রাস্তাও ছিলো। সেই রাস্তা না রেখে তিনি সম্প্রতি সেই জমিতে মাটি ভরাট করে ফেলায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। তখন গ্রামের লোকজন সবাই বসে মাঠের উত্তর পাশে পাকা রাস্তা কেটে তাঁর নিচ দিয়ে পাইপের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন।

কিন্তু পরবর্তীতে গ্রামের একটি পক্ষ সেই পথটি বন্ধ করে দেয় এবং আমার বাড়ির উত্তর পাশ দিয়ে নালা নির্মাণের পাঁয়তাড়া করতে শুরু করে। এতে আমি আপত্তি জানাই। তাদের প্রস্তাব দেই যে, বাড়ির পূর্ব পাশ দিয়ে নালা করতে। এতে নালার দূরত্বও কমবে এবং খরচ অনেক কমে যাবে। এ ছাড়া আমার বাড়ির কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু জেদ পূরনের লক্ষ্যে তারা সেটা না শুনে গত তিন দিন ধরে জোর করে নালা নির্মাণ করে যাচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে গ্রামের একটি পক্ষে নেতৃত্বদানকারী গোলাম সাকলাইন বলেন, মিজানুরের বাড়ির উত্তর পাশ দিয়েই আগে মাঠের পানি নিষ্কাশনের পথ ছিল। সেখানে বাড়ি ও পুকুর খনন করায় পানি নিষ্কাশনের পথটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তিন-চার বছর ধরে মাঠে জলাবদ্ধতা লেগে আছে। গ্রামের লোকজন সবাই বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মিজানুরের বাড়ির উত্তর পাশ দিয়ে নালা করার। এখানে আমার একক কোনো সিদ্ধান্ত নেই। আর ওই পাশ দিয়ে নালা হলে মাঠের পানি ভালোভাবে নিষ্কাশিত হবে।

বর্ষাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুজ্জোহা বলেন, মল্লিকপুর স্কুল সংলগ্ন জলাবদ্ধতার সমস্যা নিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে জটিলতা চলছে। মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রকল্পের মাধ্যমে নালা করে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু গ্রামের কোনো লোকই নালা নির্মাণের জন্য জায়গা দিতে চায় না। এজন্য এতো দিন এই সমস্যার সমাধান হয়নি। সম্প্রতি আবারও একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য আমি ইউএনও মহোদয়কে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেছি।

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর্জা ইমাম উদ্দিন বলেন, এ ধরণের একটি অভিযোগ আমার কাছে এসেছি। যেহেতু একজন নালা নির্মাণের জায়গা দিতে চাইছে, আশা করছি এখন সেটির একটা সমাধান হবে। গ্রামবাসীর কোনো খরচ করতে হবে না, সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে নালা করে দেওয়া হবে। এর আগেও বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু তখন কেউ জায়গা না দেওয়ায় নালা তৈরি করা যায়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ