নওগাঁয় অর্ধশত গণকবর এখন গোচারণ ভূমি || সংরক্ষণে নেই কোন উদ্যোগ

আপডেট: মার্চ ১৫, ২০১৭, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

এমআর রকি, নওগাঁ



মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশপ্রেমিক মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতিচিহ্ন বধ্যভূমি ও গণকবরগুলো হারিয়ে যাচ্ছে নওগাঁ থেকে। স্মৃতিফলক ও চিহ্ন ঠিকমত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও কেও পালন করে নি। বর্তমান প্রজম্মের কাছে এই চিহ্নগুলো অজানা অচেনাই থেকে যাচ্ছে। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন থেকে স্মৃতি চিহ্ন সংরক্ষণে সরকারের কছে বারবার আবেদনেও মিলছে না কোন সাড়া।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নওগাঁর ১১টি উপজেলায় অযতœ আর অবহেলায় পড়ে আছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের অর্ধশত গণকবর। ঝোপঝাড় আর ডোবা নালায় পরিণত হয়ে বিস্মৃত হতে চলেছে এসব গণকবর। কিছু গণকবর চিহ্নিত করা গেলেও তা সংরক্ষণে কোন প্রদক্ষেপ না নেওয়ায় সেগুলো পরিণত হয়েছে গোচারণ ভূমিতে। সরকারিভাবে বা মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো সংগঠন এ জেলায় মুক্তিযুদ্ধের ওপর  কোন গবেষণা কেন্দ্র গড়ে না তোলায় আগামী প্রজম্ম মুক্তিযুদ্ধের সটিক ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শহীদ পরিবারের সন্তানদের দাবি গণকবরগুলো সংরক্ষণ করে সরকার নতুন প্রজম্মের কাছে তুলে ধরবে। নওগাঁর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম জানান, নতুন প্রজম্মের জন্য নওগাঁর গণকবরগুলো সংরক্ষণ করতে এখনোই প্রদক্ষেপ নেয়া দরকার। ১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল নওগাঁ সদর উপজেলার দোগাছী গ্রামে ৬৭ জন নীরিহ গ্রামবাসীকে কুপিয়ে হত্যা করে একটি পুকুরে ফেলে রেখে যায় হানাদার বাহিনী। কয়েকজনের লাশ আত্মীয়-স্বজন নিয়ে গেলেও বাকি লাশ কুকুর শেয়াল খেয়ে ফেলে। বাঁশ আর ঝোপঝাড়ে সেই ছোট পুকুরটি স্মৃতি বহন করছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ, সব সরকার শুধু প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্ত বাস্তবায়ন নেই। একই অবস্থা পার নওগাঁ মন্ডল পাড়া গণকবরের । এছাড়া মান্দার পাকুরিয়া, আত্রাইয়ের আতাইকুলাসহ অনেক গণকবর এখনো খোঁজ মিলে নি ।
অন্যদিকে গণকবরগুলো হারিয়ে যাওয়ার শেষ চেষ্টা হিসাবে তাল গাছে শুধু একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এভাবে অর্ধশত গণকবর স্মৃতির আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে। আগামী প্রজম্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে গণকবরগুলো সংরক্ষণে এগিয়ে আসবে প্রশাসন এমন দাবি শহীদ পরিবারের সন্তানদের।
নওগাঁ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হারুন অল রশীদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংসদের পক্ষ থেকে কয়েকবার আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, যেসব গণকবর চিহ্নিত হয়েছে, সেখানে যথাযথ সংরক্ষণ ও মিনি যাদুঘর করে সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাস থাকবে।
এদিকে নওগাঁ জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান জানালেন, যেসব বধ্যভূমি চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলো বাউন্ডারি ওয়ালসহ সেখানে মিনি মিউজিয়াম করার প্রস্থাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে দেয়া আছে।