নওগাঁয় আম নামানোর সময় নির্ধারণ

আপডেট: মে ১২, ২০২১, ৮:১৮ অপরাহ্ণ

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি:


আমের দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে ঠাঁ ঠাঁ বরেন্দ্র অঞ্চল নওগাঁ। এক সময় আমের জন্য চাঁপাই ও রাজশাহী প্রসিদ্ধ থাকলেও বর্তমানে আমের জগতে নওগাঁর অবস্থানও অনেক উচুতে। শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায়।
ইতোমধ্যেই জেলা প্রশাসন নওগাঁর আমকে ব্রান্ডিং ঘোষণা করেছে। বেশি মুনাফা পাওয়ার আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নওগাঁয় উৎপাদিত আমকে রাজশাহী ও চাঁপাই বলে বিক্রি করেন।
নওগাঁতে জাত ভেদে আম পাড়ার তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। নিরাপদ, বিষমুক্ত ও পরিপক্ব আম বাজারজাত নিশ্চিত করতে স্থানীয় আমচাষী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০মে এর আগে কোনো জাতের আম নামানো যাবে না।
সাপাহার উপজেলার আমচাষী বাবলু হোসেন বলেন এবার আমি ৮০বিঘা জমিতে আমের বাগান করেছি। চলতি মৌসুমে খরার পরিমাণ একটু বেশি হওয়ার কারণে গাছ থেকে অনেক আম পড়ে গেছে। এবার গাছে আগের মতো আম নেই। তবুও আমরা চলতি মৌসুমে আমের ভালো দাম আশা করছি। আমি প্রশাসনের বেধে দেওয়া নির্ধারিত সময়েই আম নামানো শুরু করবো।
গত ১১মে জেলা প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ভোক্তা অধিকারের স্বার্থে ও নওগাঁর আমের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে প্রতিবছর এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়ে থকে। তবে আবহাওয়া, তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাতসহ কোনো কারণে এই তারিখ পরিবর্তন করতে হলে তা সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের পূর্বানুমতি নিতে হবে। আর এই আদেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে আম বাগানগুলোতে কঠোর নজদারি রাখতে বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো: হারুণ-অর-রশীদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নওগাঁতে সাধারণত গুটি জাতের কিছু আম সবার আগে পরিপক্ক হয়। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার আগামী ২০মে থেকে এই আমটি গাছ থেকে নামাতে পারবেন চাষীরা। আর উন্নত জাতের আমগুলোর মধ্যে গোপালভোগ ২৭ মে এবং ক্ষীরশাপাত বা হিমসাগর ২জুন থেকে নামানো যাবে। এছাড়া নাগ ফজলি ৪জুন, ল্যাংড়া আম ১০জুন, ফজলি ২০জুন এবং আ¤্রপালি ২২জুন থেকে নামানো যাবে। আর সবার শেষে ৮জুলাই থেকে নামানো যাবে আশ্বিনা ও বারি-৪ জাতের আম।
জেলা প্রশাসক মো. হারুন-অর-রশীদ বলেন, অসময়ে আম পাড়া বন্ধে এবং ক্যালসিয়াম, কার্বাইড, পিজিআর, ফরমালিন, ইথিফনের মতো কেমিক্যাল ব্যবহারের মাধ্যমে যেন আম পাকানো না হয়, তার জন্য গাছ থেকে আম নামানোর ক্ষেত্রে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং পুলিশ কঠোর ভাবে মনিটরিং করবে। তিনি আরো বলেন তবে আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে কোথাও নির্ধারিত সময়ের আগে গাছে আম পাকলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়ে চাষিরা আম পাড়তে পারবেন। কৃষি ও খাদ্য পণ্যবাহী পরিবহন লকডাউনের আওতার বাইরে আছে, তাই আম চাষীদের আম রপ্তানিতে কোনো বেগ পেতে হবে না। নওগাঁর আম নিয়ে কোন জালিয়াতি কিংবা অন্যায়কে প্রশয় দেওয়া হবে না এবং কাউকে কোন প্রকারের ছাড় দেওয়া হবে না।

উল্লেখ, চলতি মৌসুমে নওগাঁতে ২৮ হাজার ৭৫০হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর ২৫হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩লাখ ২০মেট্টিক টন। মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ ২০হাজার মেট্টিক টন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ