নওগাঁয় এক সপ্তার ব্যবধানে চালের দাম বাড়তি, ক্ষোভ ক্রেতাদের

আপডেট: জুন ১৭, ২০১৭, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

এমআর রকি, নওগাঁ


নওগাঁয় খুচরো বাজারে চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়ে গেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা ধানের দর বৃদ্ধির প্রভাব বলছেন। অন্যদিকে চালের ক্রেতা ও খুচরো ব্যবসয়ীরা বড় ব্যবসায়ীদের মুনাফা লাভের কৌশল বলে অভিযোগ করছেন। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বেড়েছে।
নওগাঁর চালের বাজারে মণ প্রতি প্রকার ভেদে ১শ থেকে ১৫০ টাকা দাম বেড়েছে। দাম বৃদ্ধির তালিকায় বেশি রয়েছে চিকন চাল। নওগাঁর বাজারে মোটা চাল গেল দু সপ্তা আগে ৪২ থেকে ৪৪ টাকা ছিল। এখন সেটা ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা। অন্যদিকে নাজির শাল ৫৬ টাকা  জিরাশাল ৫২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
জেলার আড়তগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তুলনামূলক চিকন চালের দাম বেড়েছে বেশি।
খুচরো চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে খুচরো বাজারে। শহরের খুচরো বাজারের ব্যবসায়ী উত্তম কুমার জানান, গেল বছর যেখানে এসময় চালের দাম ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, এ বছর সেখানে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা। মূলত চিকন চালের দাম বেশি বেড়েছে। গেল সপ্তা থেকে দুই থেকে তিন টাকা কেজিতে দাম বেড়েছে। এর ফলে বাজাওে ক্রেতার সমাগমও কমে গেছে বলে জানান তিনি ।
শহরের আড়ত পট্টি সুলতানপুর গিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধানের দাম গত এক সপ্তা মণ প্রতি ৫০ থেকে ৮০ টাকা বেশি হয়েছে। কারণ হিসাবে ব্যবসায়ীরার বলছেন, মিল চালাতে গিয়ে ধান সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কিন্ত বাজারে পর্যাপ্ত ধান নেই ফলে দাম বাড়ছে।
ব্যবসায়ীদেও মধ্যে মহাদেবপুরের মেসার্স ওসমান অটোরাইসমিলের পরিচালক ওসমান আলী ও হাপানিয়া ভাই ভাই চাউল কলের মালিক আবদুল বারিক জানান, চালের দাম সাধারণত কমই আছে। যে হারে ধানের দাম বাড়ছে, তাতে চালের আরো দাম বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে হটাৎ লাফিয়ে চালের দর বেড়ে যাওয়ায় আয় ব্যয়ের হিসাব মিলছে না সাধারণ মানুষের।  ক্রেতা ও খুচরো ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর জন্য বড় ব্যবসায়ীদের মুনাফা লাভের কৌশল হিসাবে দেখছেন। কয়েকজন জন ক্রেতা আক্ষেপ করে জানান, আয় যা তাই আছে। কিন্ত চালের দাম লাফিয়ে ১০ টাকা বেড়েছে এটা খুব কষ্টকর। এক সপ্তা আগে যেখানে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চিকন চাল দুই হাজার সাড়ে ৪শ টাকায় বিক্রি হতো। সেই চাল এখন বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার সাড়ে ৫শ টাকায়।
নওগাঁ থেকে প্রতিদিন ১শ’র অধিক চাল বোঝাই ট্রাক রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে চালা সরবরাহ করে থাকে। বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে প্রশাসনের জোর নজরদারি দাবি করছেন ক্রেতা সাধারণ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ