নওগাঁয় এলাকাবাসীর বাধার মুখে বন্ধ হলো নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২, ১:২২ অপরাহ্ণ


নওগাঁ প্রতিনিধি :


নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গৌড় নদী থেকে লিজ নেওয়ার নামে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় গ্রামের শতাধিক বাসিন্দারা। রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বিশা ইউনিয়নের মোহনঘোষ ও পারমোহনঘোষ গ্রামের বাসিন্দারা ধাওয়া করে এই বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর যাবত লিজ নেওয়ার নামে গৌড় নদীর একইস্থান থেকে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কিন্তু তারা লিজ নেওয়া বিভিন্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন না করে অবৈধ ভাবে একইস্থানে গভীর করে বালু উত্তোলন করে আসছে।

যার কারণে ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার মুখে পড়েছে নদীর তীর সংলগ্ন কৃষি জমি ও অর্ধশতাধিক গ্রাম। ইতিমধ্যে অনেক কৃষি জমি নদী গর্ভে বিলীনও হয়েছে। এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে নিয়ম মাফিক বালু উত্তোলন বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য উপজেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত ভাবে অভিযোগ দিলেও প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় নিজেদের কৃষি জমি ও বাড়ি-ঘর বাঁচানোর

জন্য শতাধিক গ্রামবাসী রবিবার বালু উত্তোলন করতে ট্রলার ও মেশিন নদীতে নিয়ে এলে বাধার সৃষ্টি করে। বাধার মুখে পড়ে সংশ্লিষ্টরা বালু উত্তোলন না করে চলে যায়। এর আগেও গ্রামবাসীরা বাধার সৃষ্টি করলে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আবার বালু উত্তোলন শুরু করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বাসিন্দারা জানান, গৌড় নদী থেকে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনের শুরু থেকেই আমরা প্রতিবাদ করে আসছি। কিন্তু কোন লাভ হচ্ছে না। নিজেদের ঠিকানা যেন নদী গর্ভে বিলীন না হয় সেই জন্য আমরা একত্রিত হয়েছি।

এবার আমরা কোন বাধা কিংবা হুমকিকে আর ভয় করবো না। বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীর গভীর হওয়ার কারণে ইতিমধ্যেই দুইজন শিশু নদীতে গোসল করতে গিয়ে গর্তে পড়ে মারা গেছে। আর কৃষি জমিতো প্রতিনিয়তই নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছেই। আমরা বাঁচতে চাই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকতেখারুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা চলমান রয়েছে। অনেক সময় প্রশাসনের লোকদের যাওয়ার খবর পেয়েই বালু উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যায়।

লিজ নেওয়া অংশ থেকে নিয়মমাফিক বালু উত্তোলন করার বিষয়ে একাধিকবার ইজারাদারকে নির্দেশনা প্রদানও করা হয়েছে। তবে চ’ড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক স্যার বরাবর বিষয়টি লিখিত ভাবে জানাবো।