নওগাঁয় কঠোর লকডাউনের প্রথম দিনে কড়াকড়ি নজরদারিতে প্রশাসন

আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০২১, ৮:০৫ অপরাহ্ণ

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি:


দিন দিন বেড়েই চলেছে মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। রাজশাহী বিভাগের মধ্যে বর্তমানে নওগাঁ করোনা ভাইরাস সংক্রমণে হটস্পটে পরিণত হয়েছে। করোনা ভাইরাসের এই সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে সারা দেশের ন্যায় নওগাঁতে শুরু হয়েছে এক সপ্তাহের সর্বাত্মক কঠোর লকডাউন। এই লকডাউন মানাতে যথেষ্ট তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে রমজানের শুরুর দিনে কঠোর লকডাউনে বিভিন্ন অজুহাতে যে সব মানুষ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন তাদেরকে পুলিশি জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে।
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লকডাউনে মানুষের ঘর থেকে বের হওয়া নিষেধ থাকলেও নি¤œ আয়ের মানুষ অনেকে রাস্তায় নেমেছেন। যানবাহন না থাকলেও রাস্তায় বেশকিছু রিকশা-ভ্যান ও মোটরসাইকেল চোখে পড়েছে। আবার অনেক মানুষ পায়ে হেঁটে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যায়। বন্ধ রযেছে দোকানপাট, কাঁচা বাজারগুলো খোলা জায়গায় স্থানান্তরের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে কাঁচাবাজারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই ছিল না।
বুধবার ভোর ৬টা থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের মুক্তির মোড়, ব্রিজের মোড়, দয়ালের মোড়, ট্রাক টার্মিনাল ও পশ্চিম ঢাকা রোডসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মোড়ে পুলিশি তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। যানবাহন বন্ধ থাকায় রিকশা, অটোরিক্সা, চার্জার, অটোচার্জার, ভ্যান ও ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল করে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় কাজে যাচ্ছে। পুলিশ তাদের থামিয়ে জিজ্ঞাসা করছেন কোথায় যাচ্ছেন, কেন যাচ্ছেন। কিন্তু সদুত্তর না পাওয়ায় অনেককেই রিকশা থেকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বেশি প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি দিয়ে তাকে তার গন্তব্যে পৌছে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে দোকানপাট খোলা রাখার দায়ে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত জরিমানা করতে দেখা গেছে।
পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণে সরকারের দেওয়া কঠোর লকডাউন ও আইজিপি স্যারের দেওয়া নির্দেশনা মোতাবেক জেলা পুলিশ লকডাউন পালনে সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছে। যতদিন এই লকডাউন চলবে ততদিন জেলা শহরে ও জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও পুলিশের কড়াকড়ি নজরদারি অব্যাহত রাখা হবে। কারো কোনো অজুহাত মেনে নেওয়া যাবে না।
জেলা প্রশাসক মোঃ হারুন-অর-রশীদ জানান, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকার এই লকডাউন ঘোষণা করেছে। তাই সকলকে অন্ততঃপক্ষে নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে লকডাউন মেনে চলার আহবান রইলো। এছাড়াও লকডাউন চলাকালীন জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন ভ্রাম্যমান আদালত শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করবেন। এই অভিযানে অভিযুক্ত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়াও স্বাস্থ্য বিধি পালনে মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে প্রচারমাইকের মাধ্যমে প্রচারনা অব্যাহত রাখা হয়েছে। যতদিন এই লকডাউন চলবে ততদিন এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।