নওগাঁয় কর্মহীনদের ঘরে এক মাসের খাবার সামগ্রী পৌঁছে দিলো ‘আদর্শ মালশন’

আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০২০, ১:০৮ অপরাহ্ণ

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি:


‘মানুষ মানুষের জন্য’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গড়ে তোলা হয়েছিলো ‘আদর্শ মালশন’ নামের সংগঠনটি। নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার প্রত্যন্ত একটি গ্রামের নাম মালশন। দেশে করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়ে লাখ লাখ মানুষ। এই মালশন গ্রামের কয়েক যুবকের উদ্যোগে গড়ে তোলা আদর্শ মালশন নামের সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রায় দুইশ’ হতদরিদ্র পরিবারকে এক মাসের খাবার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। খাবার সামগ্রী হিসেবে চাল, ডাল, তেলসহ ১১ ধরনের খাবার বিতরণ করা হয়।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, করোনা ভাইরাসের এই সংকটে কর্মহীনদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে উপজেলার বড়গাছা ইউনিয়নের মালশন গ্রামের কিছু যুবকের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় ‘আদর্শ মালশন’ নামের সংগঠন। এই সংগঠনের মাধ্যমে মালশন গ্রাম ও তার আশেপাশের গ্রাম থেকে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত চাকরিজীবী, প্রবাসী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের আর্থিক সহযোগিতায় কর্মহীনদের পাশে খাবার সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তারই অংশ হিসেবে কয়েকদিন ধরে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষদের ঘরে ঘরে গিয়ে এক মাসের জন্য প্রয়োজনীয় এই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
মালশন গ্রামের আলতাফুন, ধলু প্রামানিকসহ কর্মহীন হয়ে পড়া অনেকেই বলেন, গ্রামের ছেলেরা আমাদের বাড়িতে এসে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রী দিয়ে গেলো। আমরা খুবই খুশি হয়েছি। সরকার যদি এই ভাবে সহযোগিতা দিতো তাহলে আমাদের আর কোনো কষ্ট থাকতো না।
সংগঠনের সদস্য আব্দুর রহিম জানান, অমাদের গ্রামের যে সব ব্যক্তিরা দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত আছেন তাদেরকে নিয়ে আমরা একটি ফেসবুকে গ্রুপ পেজ খুলি। অসহায় কর্মহীন হয়ে পড়া পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিলে যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিকভাবে সহযোগিতা প্রদান করে। সেই সহযোগিতার মাধ্যমে গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারকে এক মাসের প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রী প্রদান করলাম।
তিনি আরও জানান আগামীতেও আমরা এই ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো। এভাবে যদি আমরা যারা সামর্থবান আছি তারা সবাই সাধ্য অনুযায়ী আশেপাশের কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই তাহলে সংকটময় সময় যতই দীর্ঘ হোক না কেন খাবারের অভাব কোনো কর্মহীনদের ঘরেই থাকতো না। কারণ মানুষ মানুষের জন্যই।