নওগাঁয় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট: এপ্রিল ২৫, ২০১৭, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

এমআর রকি, নওগাঁ


নওগাঁ সদর উপজেলার দীঘলির বিলে ক্ষতিগ্রস্থ ধান খেতের একাংশ- সোনার দেশ

নওগাঁয় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি আর বাতাসে ধানের গাছগুলো পড়ে গিয়ে মাটি আর পানিতে একাকার হয়ে গেছে। ফলে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ধান মাটিতে শুয়ে পড়ায় কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছে।
তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বলেছেন ফসলের ক্ষতি হলেও ফলনের তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে জেলায় কি পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নিরুপণ করতে পারে নি কৃষি অফিস।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মওসুমে জেলায় ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬২ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমি অর্জিত হয়েছে। তুলনামূলক কমছে ধানের আবাদ। ভূপৃষ্টে পানিস্তর দিন দিন কমে যাওয়ায় ফলে স্বল্প সময়ে ও স্বল্প পানিতে ফসল উৎপাদনে কৃষকদের রবি শষ্যের প্রতি উৎসাহিত করা হচ্ছে। ফলে ধানের আবাদ এ বছর কমে যাওয়ায় বৃদ্ধি পেয়েছে রবি শষ্য। সোনালী ধানে ছেয়ে গেছে সারা মাঠ। কৃষকদের বুক ভরা আশা, কয়েকদিন পর মাঠের ফসল ঘরে তোলবে কিন্তু কৃষকদের সেই আশাই যেন গুড়ে বালি হয়েছে কালবৈশাখী ঝড় ও সেই সাথে হালকা শীলা বৃষ্টি।
গত বুধবার থেকে ঝড় ও শীলা বৃষ্টিতে ধানখেতে জমেছে পানি। বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে খেতের কাঁচা, আধাপাঁকা ও পাকা ধানগাছগুলো মাটিতে শুয়ে পড়ে একাকার হয়ে গেছে। জেলার অন্য উপজেলার তুলনায় সদর উপজেলা, আত্রাই, রাণীনগর, মান্দা ও মহাদেবপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ধানের ক্ষতি হয়েছে। ধান পরিপুষ্ট হয়ে পাকার আগেই মাটিতে পড়ে যাওয়া ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই ধান কাটতে হচ্ছে কৃষকদের। সময়ের আগে ধান কাটার ফলে ফলনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তারা। আবহাওয়ার এই অবস্থায় একই সঙ্গে মাঠে ফসল কাটার শ্রমিকও সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে বেশি দামে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে কৃষকদের।
সদর উপজেলার চকগ্রাণ গ্রামের কৃষক কামরুজ্জামান বলেন, ‘চার বিঘা জমিতে আঠাস ধানের আবাদ করেছি, বাতাসের কারণে ধানগাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে জমিতে এক গিরা পরিমান পানি জমে যাওয়ায় পড়ে যাওয়া ধানগাছ পানিতে ভাসছে। প্রতি বিঘায় প্রায় ৪-৫ মণ ধান কম হবে। জিরা ও আঠাস ধান লম্বা হওয়ার কারণে বাতাসে মাটিতে পড়ে গেছে। আবহাওয়া খারাপের কারণে ২-৩দিন আগেই কাঁচা ধান কেটে নিলাম। এছাড়া শ্রমিকও সঙ্কট। তিনবেলা খাবার দিয়ে জনপ্রতি ৩৫০-৪৫০ টাকা মজুরি দিতে হয়েছে। মজুরি আরো বাড়তে পারে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সত্যব্রত সাহা জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসের কারণে কিছু পরিমান জমিতে বোরো ধান হেলে পড়েছে। এখন বোরো ধান পাকা ও শক্ত অবস্থায় আছে। আশা করা যায় ফলনের তেমন কোন প্রভাব পড়বে না। তবে আমরা কৃষকদের উৎসাহিত করছি ৮০ ভাগ ধান পেকে গেলে অতিসত্ত্বর তারা যেন ধান কেটে নেয়।