নওগাঁয় কাশ্মীরি ও বলসুন্দরী বরইয়ের সফল চাষ

আপডেট: মার্চ ২৩, ২০২০, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

আবদুর রউফ রিপন, নওগাঁ


নওগাঁয় কাশ্মীরি ও বলসুন্দরী বরইয়ের বাগান-সোনার দেশ

নওগাঁর পোরশায় উন্নত জাতের কাশ্মীরি ও বলসুন্দরী বরই চাষ করে সফলতা পেয়েছেন চাষিরা। ভাল ফলন ও দাম পেয়ে খুশি তারা। জেলায় প্রথম কাশ্মীরি ও বলসুন্দরী বরইয়ের সফল চাষ হওয়ায় অনেকেই এখন বাগানটি দেখতে যাচ্ছেন। আগামীতে উন্নতজাতের এ বরইয়ের বাগান আরো বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন চাষি ও কৃষি অফিস।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, নাতিশীতোষ্ণ ও উষ্ণমন্ডলীয় জলবায়ু বরই চাষের জন্য উপযোগী। এ উপজেলায় বাণিজ্যিক ভাবে ১১৬বিঘা জমিতে উন্নতজাতের বরই চাষ হয়েছে।
পোরশা উপজেলার মোল্লাপাড়া গ্রামের যুবক হাফিজুল ইসলাম বেলাল গত বছর ইউটিউবে উন্নত জাতের কাশ্মীরি ও বলসুন্দরী বরইয়ের উপর একটা ভিডিও প্রতিবেদন দেখেন। এরপর থেকে এ বরই চাষের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। এরপর বিভিন্ন জায়গায় এ জাতের বরইয়ের চারা খোঁজ করেন। পরে নাটোরের বাইপাস থেকে চারা সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। তিনিই প্রথম উপজেলার ছাওড় ইউনিয়নের খাতিপুর সোনাডাংগা এলাকায় ২০১৯ সালে আগস্টে ৭ একর জমি ইজারা নিয়ে কাশ্মীরি ১ হাজার ৭৫০টি ও বলসুন্দরী ১ হাজার ৭৫০টি বলসুন্দরী বরইগাছ রোপন করেন। রোপনের তিন মাস পরই গাছে ফুল ধরতে শুরু করে।
ইতোমধ্যে তার বাগান থেকে বরই বাজারে আসতে শুরু করেছে। ফলন ভাল, দেখতে সুন্দর এবং খেতেও সুস্বাদু এ বরইয়ের বাগান দেখতে আসছেন আশপাশের চাষিরা। আগামীতে এ জাতের বরই চাষের জন্য তারা আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে কৃষি অফিস থেকে চাষিদের বরই বাগান তৈরিতে সার্বিক সহযোগীতা করা হলে আগামী বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
চাষি হাফিজুল ইসলাম বেলাল বলেন, ইউটিউবে উন্নত জাতের কাশ্মীরি ও বলসুন্দরী বরইয়ের উপর একটা ভিডিও প্রতিবেদন দেখি। এরপর চারা সংগ্রহ করি। প্রতি বিঘা জমি ১২ হাজার টাকা বিঘা হিসেবে ১২ বছরের জন্য ইজারা (লীজ) নিই। জমি, গাছ রোপন ও শ্রমিকসহ এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ টাকার মতো বরই বিক্রি হয়েছে। আরো দেড় লাখ টাকার মতো বিক্রি হবে। প্রতিমণ বরই ৩ হাজার ২শ টাকা মণ (৮০ টাকা কেজি) দরে পাইকারী বিক্রি করা হচ্ছে। এ বরই চাষ লাভজনক বলে মনে করেন তিনি। তবে নতুন জাতের বরই চাষ করায় কেমন হবে এই নিয়ে চিন্তিত থাকলেও প্রথম অবস্থায় সফল হয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, এ জাতের বরই ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সময়ের দিকে বাজারে উঠতে থাকে এবং মার্চের মাঝামাঝিতে শেষ হয়। বরই বিক্রি করতে তেমন সমস্যায় পড়তে হয়নি। বাগান থেকে পাইকাররা এসে নিয়ে যাচ্ছেন। নওগাঁ শহর ও এর আশপাশের উপজেলা থেকে পাইকাররা আসছেন। এবছর গাছে অল্পপরিমান ফল আসছে। আবহাওয়া ভাল ও অনুকূলে থাকলেও আগামীতে এর দ্বিগুন পরিমান ফল গাছে আসবে। আগামীতে পরিকল্পনা হচ্ছে- বর্তমানে যে ২০ বিঘা জমিতে বরই আছে, আরো ১০ বিঘা বৃদ্ধি করে মোট ৩০ বিঘাতে রোপন করা। অনেকে এসে বরইয়ের উপর পরামর্শ নিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলার গাংঙ্গোর গ্রামের বাগান ইজারা নেয়া মালিক মজিবুর রহমান বলেন, ১৯ বিঘা বলসুন্দরী বরইয়ের বাগান ফুল দেখে প্রায় ৮ লাখ ১০ হাজার টাকায় এক বছরের জন্য ইজারা নিয়েছিলাম। ৩মাস পরিচর্চা করে সব খরচসহ প্রায় ১২ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। পানি সমস্যার কারণে গাছ তেমন বাড়তে পারেনি। তবে যে আশা করেছিলাম তা হয়ত পূরণ হবে না। চট্টগ্রাম থেকে পাইকারা এসে ৮০-১২০ টাকা কেজি দরে পাইকারী কিনে নিয়ে গেছে।
পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহফুজ আলম বলেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে এটি ভারতীয় উন্নত জাতের বরই। নাতিশীতোষ্ণ ও উষ্ণমন্ডলীয় জলবায়ু বরই চাষের জন্য উপযোগী। ভাল দাম পাওয়া আশায় কৃষকরা এখন নতুন নতুন ফসল ও ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কাশ্মীরি ও বলসুন্দরী বরই চাষে ফলন বেশি ও দাম ভাল হওয়ায় কৃষকদের ওই জাতের বরই চাষে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কৃষকদের এই লাভজনক ফল চাষের প্রতি উদ্বুদ্ধ করণের মাধ্যমে আরো ব্যাপক হারে বরইচাষ করার জন কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সার্বিক সহযোগীতা করা হচ্ছে। আগামী বছর বরই চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদী তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ