নওগাঁয় কুমড়ো বড়ি বিক্রি করে অনেক পরিবার স্বাবলম্বী

আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০১৭, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি



নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কুমড়োর বড়ি তৈরি ও বিক্রি করে এখন অনেক পরিবার স্বাবলম্বী। সরে জমিনে উপজেলার সাহেবগঞ্জ পালপাড়ায় গিয়ে দেখা যায় ৬/৭টি পরিবারকে কুমড়োর বড়ি তৈরি করতে। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের এ কুমড়োর বড়ি তৈরি করার আগে পারিবারিক অবস্থা তেমন স্বচ্ছল ছিল না। সংসারে সব সময় অভাব অনটনে হাহাকার লেগেই থাকতো। এক বেলা পেট ভরে খেলে অন্য বেলায় খেতে পারবে কি না তা নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হতো তাদের। কিন্তু বর্তমানে কুমড়োর বড়ি তৈরি করে তারা এখন স্বাবলম্বী।
এই কুমড়োর বড়ি তৈরি করতে হয়, ডাউল ভিজিয়ে রোদে শুকিয়ে গুড়ো করে ছোট ছোট বড়ি করে পরে টিনের উপর কিংবা বাঁশের চাটাই বা মাচার উপর শুকানো হয়। আগের দিনে ডাউল শিল পাটায় পরিবারের মেয়েরা সারারাত ধরে গুড়ো করে তা সারা দিন রোদে শুকানোর পর কুমড়োর বড়ি তৈরি করতো। কিন্তু বর্তমানে সরকারের উন্নয়নের ভাবনায় দেশ ডিজিটালের সাথে সাথে কুমড়োর বড়ি তৈরি করার যন্ত্রও যেন ডিজিটাল হয়েছে। এখন আর সারারাত শিল-পাটায় ডাউল গুড়ো করতে হয় না। ডাউল গুড়ো করার মেশিনের সাহায্যে ঘন্টার মধ্যই অনেক ডাউল গুড়ো করে বড়ি তৈরি করা যায় এমনটাই জানালেন উপজেলার সাহেবগঞ্জ পালপাড়ার এক কুমড়োর বড়ি তৈরি কারিগর ।
কুমড়ো বড়ি তৈরির কারিগর নারায়ন চন্দ্র বৈরাগী জানান, কুমড়োর বড়ি তৈরি করতে প্রথমে তাদের প্রচুর পরিশ্রম করতে হতো। কিন্তু এখন ততটা পরিশ্রম করতে হয় না। কেননা এখন মেশিনের মাধ্যমে ডাল গুড়ো করা হয়, শুধু হাত দিয়ে বড়ি তৈরি  করতে হয়।
কুমড়োর বড়ি  তৈরির আরেক কারিগর শ্রী গোপাল চন্দ্র বৈরাগী জানান, বড়ি তৈরিতে আমাদের পাশাপাশি পরিবারের নারীরাও কাজ করে  থাকে। আমি এক দিনে আমার চাতালে ১০০ থেকে ১২০ কেজি কুমড়োর বড়ি তৈরি করতে পারি। তারা হাট বাজারে কুমড়োর বড়ি খুচরা বিক্রি করে ১৬০-২০০ টাকা কেজি এবং ঢাকা থেকে পাইকার এসে পাইকারী নেন ১২০/১৩০ টাকা কেজি দরে। বড়ি সারা বছর তৈরি করা গেলেও এটা শীতের সময়টাতে বেশী তৈরি করা হয়। কুমড়ো বড়ি তৈরি করে যেমন সমাজে বেকারত্ব দূর হচ্ছে। অভাব-অনটন দূর  হচ্ছে। সংসারের অনেকটা স্বচ্ছলতা আসছে। তেমনি অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হওয়া যাচ্ছে। অপর দিকে কুমড়ো বড়ি দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ