নওগাঁয় কৃষকের ধান কেটে দিলো ছাত্রলীগ

আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০২০, ৯:০৮ অপরাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি


নওগাঁয় কৃষকের ধান কাটছে ছাত্রলীগ-সোনার দেশ

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে মরণঘাতি করোনা ভাইরাস। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। কর্মহীন হয়ে পড়েছে সর্ব সাধারণ। বিপাকে শ্রমজীবীরা। করোনা ভাইরাস ঠেকাতে জেলায় জেলায় লকডাউন করা হয়েছে। বাইরের জেলার সঙ্গে নওগাঁর যোগাযোগ প্রায় বন্ধ করা হয়েছে। একপ্রকার ঘরবন্দি জীবন যাপন চলছে। কর্ম না থাকায় বিপাকে পড়তে হয়েছে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের। ঘরবন্দি থেকে তারা এখন অসহায়। এ বন্দিদশা থেকে কবে মিলবে মুক্তি তা কেউ বলতে পারছে না।
এরইমধ্যে বোরো ধান পাকতে শুরু করেছে। লকডাউনের কারণে শ্রমিক সংকটে পড়েছে। তবে ধানের বাম্পার ফলন হলেও করোনা আতঙ্কে ধানকাটা শ্রমিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে ধান কাটা মাড়াইয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে কৃষক। ইতোমধ্যে নওগাঁ জেলা ছাত্রলীদের উদ্যোগে সদর উপজেলার মধ্যে কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২২ এপ্রিল) সদর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের গুটারবিল থেকে কৃষক দেওয়ান আব্দুল মতিনের প্রায় ৩বিঘা জমির ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে অর্ধশতাধিক ছাত্রলীকর্মি। ছাত্রলীগের এমন উদ্যোগকে প্রশংসা করছেন সকলেই।
কৃষক দেওয়ান আবদুল মতিন আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, শ্রমিক সঙ্কটের কারণে পাকাধান কাটতে পারছিলাম না। এলাকায় যে পরিমাণ শ্রমিক আছে মজুরি বেশি। আকাশের অবস্থা মাঝে মধ্যে খারাপ হচ্ছে। ঝড় হলে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে। তাই বাধ্যহয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারাও কোনো টাকা পয়সা ছাড়াই ধান কেটে দিতে রাজি হয়। ছাত্রলীগের ছেলেরা যেভাবে আমার ধান কাটতে সাহায্য করেছে তা ভোলার নয়। কৃতজ্ঞ তাদের প্রতি।
নওগাঁ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাব্বির রহমান রেজভি ও সাধারণ সম্পাদক আমানুজ্জামান শিউল বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে অন্য জেলা থেকে ধান কাটার শ্রমিক না আসায় বিপাকে কৃষকরা। শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক অসহায় ও বর্গাচাষী কৃষক ধান কাটতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে প্রান্তিক কৃষকের ধান কাটার কাজ শুরু করেছি। গত কয়েকদিন আগে প্রান্তিক কৃষকের ধান কেটে দিতে সহযোগিতা করার জন্য ফেসবুকে একটা পোস্ট দেয়া হয়। জেলা ছাত্রলীগের উপ-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক বিশাল আহমেদের সঙ্গে এক কৃষক যোগাযোগ করেন। বিশাল ওই কৃষকদের বিষয়য়ে আমাদের অবগত করে। আমরা তাকে ধান কেটে দিতে আশ্বস্ত করি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ধান কেটে ওই কৃষকের ঘরে তুলে দেয়া হয়।
তারা আরো বলেন, এই করোনা মহামারিতে অসহায় ও বর্গাচাষি কৃষকদের পক্ষে শ্রমিকদের মজুরি দেয়া কষ্টসাধ্য। আমাদের পক্ষ থেকে ওইসব কৃষকদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। আগামীতে অসহায় ও বর্গাচাষি কৃষকদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এসময় জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রিয়াজ খান, রোমান হাসান ও রাব্বি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক মাহমুদ, মেহেদী হাসান, একরামুল হক সজীব, সাংগঠনিক সম্পাদক স্পধন চৌধুরী, তানভীর আরেফিন শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ আসিফ ও উপ-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক বিশাল আহমেদ সহ সদর উপজেলা ছাত্রলীগ ও স্থানীয় শিকারপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।