নওগাঁয় কৌশলে ওএমএসের চাল চুরি ||মারপিটের ঘটনায় ডিলারসহ আহত পাঁচজন

আপডেট: জুন ৭, ২০২০, ৮:৪০ অপরাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি :


নওগাঁর রাণীনগরে হত দরিদ্রদের জন্য সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের (ওএমএস) চাল চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতে কার্ডধারীদের মাঝে অতিরিক্তি চাল বিতরণ করা হয়েছে। পরে ওএমএস ডিলার শরিফ উদ্দিন লোকজন নিয়ে অতিরিক্ত চালের মূল্য ৩০ টাকা করে আদায় করতে গেলে কার্ডধারীদের সঙ্গে মারপিটের ঘটনা ঘটে। এতে ডিলারসহ দুই পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছে।
আহতরা হলেন, উপজেলা সদরের দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনের ছেলে কার্ডধারী আশরাফুল ইসলাম মিঠু ও ছোট ভাই কার্ডধারী আবদুর রউফ রতন, একই গ্রামের মৃত রিয়াজুল শেখের ছেলে ওএমএসের ডিলার শরিফ উদ্দিন (৫৮), ছোট ভাই মোহাতাব হোসেন (৫৫) এবং মোহাতাবের ছেলে আবু সাইদ মৃদুল (১৮) আহত হয়। আহতদের রাণীনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, গত ৩০ মে দুপুরে নওগাঁ থেকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওএমএসের ডিলার শরিফ উদ্দিনের গুদাম ঘরে কালোবাজারে বিক্রির জন্য চাল মজুদ রয়েছে এমনটি সংবাদ পেয়ে গুদাম ঘর তল্লাশি করে ৬৭ বস্তা চাল মজুত পায়। কিন্তু ডিলার শরিফ উদ্দিন নিজেকে বাঁচাতে কৌশলের আশ্রয় নিয়ে চাল পরের দিন পর্যন্ত বিতরণ করা হবে এবং গ্রাহকরা আসেনি বলে জানালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফিরে যান।
৩১ মে রাণীনগর সদর খট্টেশ্বর ইউনিয়নের হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের চালের (ওএমএস) ডিলার শরিফ উদ্দিন এলাকার বেশ কিছু কার্ডধারীদের কাছে চাল বিতরণ করেন।
এ সময় উপজেলা সদরের দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের কার্ডধারী সুবিধাভোগী আবদুর রউফ রতন (৪৪) ও তার ভাই আশরাফুল ইসলাম মিঠুকে (৪৭) দুই কাডের্র বিপরীতে ৬০ কেজির পরিবর্তে ২০০ কেজি চাল সরবরাহ করে। পরে অতিরিক্ত প্রতি কেজি চালের দাম ৩০ টাকা হিসেবে ডিলার দাবি করলে মিঠু ও রতন ১০ টাকা কেজি দিতে চান। কিন্তু ওএমএস ডিলার শরিফ উদ্দিন ৩০ টাকা কেজি না দিলে চাল ফেরত দিতে বলে। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এরই জের ধরে শনিবার সকালে দক্ষিণ রাজাপুর মোড়ে এ চাল নিয়ে দ্বন্দ্ব বাধে। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটে। এতে দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম মিঠু ও ছোট ভাই আবদুর রউফ রতন এবং একই গ্রামের মৃত রিয়াজুল শেখের ছেলে ডিলার এসএম শরিফ উদ্দিন (৫৮) ছোট ভাই মোহাতাব হোসেন (৫৫) এবং মোহাতাবের ছেলে আবু সাইদ মৃদুল (১৮) আহত হয়।
আহত আশরাফুল ইসলাম মিঠু জানান, আমরা দুই ভাই মিলে চাল ৩০ কেজি করে মোট ৬০ কেজি চাল পাবো। কিন্তু আমাদেরকে ২০০ কেজি চাল দেয়া হয়েছে। পরের দিন অতিরিক্ত চালের দাম ৩০ টাকা কেজি দরে টাকা দাবি করে। আমরা ১০ টাকা কেজি দিতে চাইলে দর নিয়ে মতোবিরোধ বাধে। শনিবার চা-স্টলে আসলে আবারো ৩০ টাকা কেজি দরে চালের টাকা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না দিলে চাল ফেরত নিয়ে আসবে। এ নিয়ে কথা কাটাকটির এক পর্যায়ে ডিলার শরিফ ও তার লোকজন আমাদেরকে মারপিট করে।
এ ব্যাপারে ডিলার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক শরিফ উদ্দিন বলেন, তাদের সঙ্গে পারিবারিক ঝামেলায় মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। চাল নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন জানান, ওএমএসের চাল নিয়ে মারপিটের ঘটনার বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহুরুল হক বলেন, মারপিটের ঘটনায় উভয় পক্ষকে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।