নওগাঁয় খাল খননে বেড়েছে রবিশস্য চাষ, বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি

আপডেট: জুলাই ৩, ২০২২, ১২:৫৪ অপরাহ্ণ


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ :


উত্তরের খাদ্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত নওগাঁ। এই জেলায় ধান ও চাল উৎপাদনের পাশাপাশি মাছের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত আত্রাই নদীর তীর ঘেষে গড়ে ওঠা জেলার আত্রাই উপজেলা। বিল আর খালে বেষ্টিত এই আত্রাই উপজেলা।

এই উপজেলার অধিকাংশ মানুষই নদী ও খাল-বিল থেকে মাছ আহরন করে এবং পুকুরে মাছ চাষ করে জীবন নির্বাহ করে। এই উপজেলায় পাওয়া আত্রাই নদীর মাছের সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে।

জানা গেছে, মাছের উৎপাদন ও রবিশস্য চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আত্রাই উপজেলার তিনটি খাল পুন:খননে আর্থ সামাজিক উন্নয়নের সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মুক্ত হতে চলেছে। রবিশস্য, মৎস্যচাষ, হাস পালন, সবজি চাষসহ বিভিন্ন ভাবে স্থায়ী ভাবে উপকৃত হতে যাচ্ছে প্রায় ১০হাজার মানুষ।

খালে জমে থাকা পানি সেচের মাধ্যমে কৃষিকাজে ব্যবহারের মাধ্যমে দ্বিগুন পরিমাণ ফসল ও মাছ উৎপাদন করে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ।

উপজেলার তিনটি খালে ১২০০সদস্য বিশিষ্ট গ্রামীন পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির অধিনে স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর নওগাঁ (এলজিইডি) অর্থায়নে ২৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ১৯কিমি দৈঘ্য খালটি খনন কাজ ইতিমধ্যে সম্পূর্ন হয়েছে। উপকারভোগীরা সুফলও পেতে শুরু করেছে। এর ফলে রবিশস্যসহ বছরে তিনবার ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে।

২০২১-২২ অর্থ বছরে উপজেলার বুড়িগঞ্জ, ইসলামগাথী, মারিয়া, কাশিয়াবাড়ি, চকতেমুখ খালের পুন:খননের কাজ ইতিমধ্যে সম্পূর্ন হয়েছে। খালটি আত্রাই নদীর শাখা গৌড় নদী থেকে শুরু হয়ে মাঠের মধ্যে দিয়ে নাগর নদীর সাথে সংযুক্ত হয়েছে।

খাল খননের পূর্বে বন্যার সময় ভরা নাগর নদীর পানিতে মাঠের ফসল নিমজ্জিত হয়ে থাকত। এর কারনে বছরে বোরো ধান উৎপাদনেও ব্যাঘাত ঘটতো। কিন্তু বর্তমানে খালটি পুন খনন হওয়ায় কৃষকের ভাগ্য ফিরেছে।

গৌড় নদী দিয়ে পানি সরাসরি নিস্কাশন হওয়ায় ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা উপকারভোগীরা।
উপজেলার ইসলামগাথী গ্রামের চাষী মুজিবর রহমান, মকবুল হোসেনসহ অনেকেই বলেন, পূর্বে জমিতে ধান চাষে সেচ বাবদ ৫শ থেকে ৬টাকা টাকা খরচ করতে হতো চাষীদের।

কিন্তু বর্তমানে তা আর করতে হবেনা। তাই ধান চাষে তাদের খরচও হবে কম। এতে সব থেকে বেশি উপকার পাবেন চাষীরা। কৃষি কাজের সুবিধার পাশাপাশি গৃহবধূরা হাঁসও পালন করতে পারবেন।

এছাড়াও মাছচাষ ,সবজ্বি উৎপাদনসহ বিভিন্ন কাজে খালটি ব্যবহার করে গ্রামীন অর্থনৈতিক উন্নয়নে অনেক ভ’মিকা রাখবে খালের এই পুন:খনন।
স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর নওগাঁ (এলজিইডি) এর নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ বলেন, আত্রাই নদীর বুড়িগঞ্জগ্রাম হয়ে পাচুপুর বিহারীপুর, শফিকপুর, বাঁশবাড়িয়া, গুড়নাই, জগদশ, নৈদিঘি, পতিসর, কাশিয়াবাড়ি, তেতুলিয়া পর্যন্ত এবং বরশাতাগ্রাম হয়ে নন্দীগ্রাম, ইসলামগাথী, খরসতী হয়ে আত্রাই পতিসর রাস্তা পর্যন্ত খালটির পুন:খনন কাজ ইতিমধ্যই সম্পূর্ন হয়েছে।

খাল পুন;খননের সুফল ভোগ করতে শুরু করেছেন উপকারভুগীরা। তিনটি খাল খননের ফলে মাল্টিডাইমেশন উপকার পাচ্ছেন তারা। তিনটি খাল থেকে প্রায় ১৮৭৬ হেক্টর জমিতে সারা বছর ফসল ফলানোর সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে।

যার উপকারভুগীর সংখ্যা ১০হাজার থেকে ১২হাজার। যারা এবছর অন্যান্য আবাদের পাশাপাশি রবিশস্য উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছেন। খালটি পুন:খননের ফলে এই অঞ্চলের কৃষি খাতে ব্যাপক সফলতা স্বপ্ন দেখছেন এই কর্মকর্তা।

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন হেলাল বলেন, এই এলাকার বিশেষ ফসল ধান। সবসময় এই অঞ্চলের মানুষ যেন জমি সেচ দিতে পারে মুলত সেই লক্ষ্যেই এই খালগুলো পুন:খনন করার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

বিগত দিনে এই অঞ্চলে একটি ফসলও ভালো ভাবে উৎপাদিত হতো না। কিন্তু এই খালগুলো খননের ফলে এই অঞ্চলের মানুষ কৃষি কাজে ব্যাপক সফলতা বয়ে আনবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ