নওগাঁয় জমজমাট কোচিং বাণিজ্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গড়ে তুলছেন কোচিং সেন্টার

আপডেট: জানুয়ারি ২০, ২০২২, ২:২৪ অপরাহ্ণ

এম আর রকি নওগাঁ:


করোনার বাড়তি সংক্রমণের মাঝেই নওগাঁয় শুরু হয়েছে জমজমাট কোচিং বাণিজ্য। চটকদার বিজ্ঞাপনে ছেঁয়ে গেছে শহর অলিগলি। স্বল্প পড়ায় ভালো ফলাফলের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়গামী না হয়ে আকৃষ্ট হচ্ছে

এসব কোচিং সেন্টারের দিকে। বাসা বাড়ি ভাড়া নিয়ে বাণিজ্যিক আদলে গড়ে তোলা এসব কোচিং সেন্টার। আর এসব কারবারে জড়িয়ে আছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। চলছে সকাল থেকে রাত অবধি কোচিং কারবার। কোচিং বাণিজ্যের অসুস্থ প্রতিযোগিতার লাগাম টেনে না ধরলে শিক্ষার্থীদের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে শিক্ষাবিদরা।

১৫ বাই ৩০ ফিটের এ ঘরে অন্তত ৪০ শিক্ষার্থীর এ পাঠ দানের চিত্র দেখে মনেই হতে পারে এটি কোন বিদ্যালয়। নওগাঁ কেডি’র মোড় এলাকায় কোচিং সেন্টারের এমন চিত্র পুরো শহর জড়েই দেখা মিলবে।

করোনার কারণে বেশ কিছু দিন বিদ্যালয় বন্ধ ছিল তার ঘাটতি পূরণেই কোচিংগুলোতে শিক্ষার্থীদের বেড়েছে উপচে পড়া ঢল। পাঠদানের এসব কক্ষে সামাজিক দূরত্বের বালাই তো নেই সটিক শিক্ষা দান সহ রয়েছে পর্যাপ্ত অবকাঠামোর ঘাটতি ।

অল্প সময়ে ভাল ফলাফলের শতভাগ আশ্বাসের চটকদার বিজ্ঞাপানে ছেয়ে গেছে শহরের অলিগলি। আর শিক্ষার্থীরা এসব বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে ছুঁটছে কোচিং সেন্টারের দিকে।

৫ম শ্রেণি থেকে একাদশ পর্যন্ত পাঠ দানে গড়ে তোলা এসব কোচিং সেন্টার চলে সকাল থেকে রাত অবধি। বিদ্যালয় ছেড়ে কোচিংমুখি হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা নানা কারণ তুলে ধরছেন।

শহরের কেডি’র মোড় পাঠশালা কোচিং সেন্টারের দু জন শিক্ষার্থী বলেন, আমরা বিদ্যালয়ের ক্লাসে সটিক শিক্ষা পায়না । এর ফলে কোচিং করে ঘাটতি পূরণ করতে হচ্ছে ।
বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা এসব কোচিং সেন্টারে শিক্ষকদের পাঠদানের গুনগত মান নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন । আর কোর্চিং পরিচালনার নীতিমালা না থাকায় দুর্বল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে বলে দাবি শিক্ষক নেতার।

জেলা কোচিং অ্যাসোসিয়েশন নওগাঁ সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান সবুজ, অনেক বেকারের কর্মসংস্থান হচ্ছে কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এ কারবার করছে এটা ক্ষতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।

শিক্ষার নামে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা না গেলে শিক্ষার্থীদের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে শিক্ষাবিদরা। নওগাঁ সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ (অব) মো: শরিফুল ইসলাম বলেন কোচিং কখনো শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক হতে পারে না। এ ব্যাপারে প্রশাসনের একটি তদারকি থাকা প্রয়োজন।

আর কোচিং কারবারে বিদ্যালয়ের শিক্ষক জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লুতফর রহমানের ।

জেলা কোচিং সমিতির তথ্য বলছে ৪৪ প্রতিষ্ঠান তাদের আওতাভুক্ত হলেও গত ৪ মাসে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছোট বড় আরো অন্তত শতাধিক কোচিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ