নওগাঁয় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে প্রাথমিকের পাঠদান

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১, ১২:৪৪ অপরাহ্ণ


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি:


নওগাঁর আত্রাই উপজেলার প্রায় ২শো বছরের পুরনো গুড়নই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান। করোনা ভাইরাস মহামারির দীর্ঘবিরতির পর শুরু হওয়া পাঠদানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা খুশি হলেও আতঙ্কে থাকেন সব সময় যে কখন ঝুঁকিপূর্ণ পাঠদান ভবনের পলেস্তার মাথার উপর খুলে পড়ে। কখন যে কোন দুর্ঘটনা ঘটবে তা কেউ জানেন না এই আতঙ্ক নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে।

নওগাঁর আত্রাই উপজেলাধীন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চার কক্ষ বিশিষ্ট একতলা ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে কার্যক্রম। ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে স্থাপিত হয়ে সরকারী ভাবে আনুমানিক ১৯৫০সনে একটি ভবন নির্মিত হয় এ বিদ্যালয়ে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় সিমেন্টের টেম্পার কমে গিয়ে প্রতিনিয়ত ছাদের পলেস্তা এবং দেয়ালের প্লাস্টার খুলে পড়ছে। এতে যে কোন সময় বড় রকম দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে জানা যায়, আত্রাই উপজেলার গোড় নদী সংলগ্ন গুড়নইগ্রামে ১৮৬০সনে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ৩০নং গুড়নই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। পরবর্তিতে ১৯৫০সনে চার কক্ষ বিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর তিন কক্ষের একতলা দুটি ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে সাতটি কক্ষের মধ্যে চারটি কক্ষে ছাদের পলেস্তার প্রতিনিয়ত খুলে পড়ছে। করোনা মহামারির প্রভাব কমে এলে বিদ্যালয় খুলে দেয়ার ঘোষণায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান নিয়ে উৎকন্ঠায় আছেন শতাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও শিক্ষকরা। এছাড়া গত বছর বন্যায় বিদ্যালয়ের তিনটি গাছ নদীর পেটে বিলিন হওয়ায় প্রধান ভবনের সাথে নদী এসে লেগে গেছে। অতিদ্রæত নদীভাঙ্গন রোধের পদক্ষেপ না নিলে ভবনটি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যেতে পারে বলে এলাকার লোকজন মনে করেন।
গুড়নই গ্রামের অভিভাবক মোকলেছুর রহমান, হাবিবা বেগমসহ অনেকেই বলেন প্রত্যন্ত এই অঞ্চলে প্রাথমিক বিদ্যাপিঠ বলতে গুড়নই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়লয়টিই। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ের কক্ষগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক ও ঝুঁকিপূর্ন। সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর আমাদের পর চরম উৎকন্ঠায় থাকতে হয়। কখন শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকদের মাথার উপর ছাদের পলেস্তার খুলে পড়বে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। আমরা এই বিদ্যালয়ের প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জহুরুল ইসলাম বলেন, অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলী দ্বারা বিদ্যালয়ের পাঠদান ও অন্যান্য কার্যক্রম ভালো ভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। বিদ্যালয়ের পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙ্গে নতুন করে ভবন নির্মাণ করা না হলে এই অঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ একেবারেই ভেঙ্গে পড়বে। এছাড়া নদী ভাঙ্গনতো রয়েছেই।

প্রধান শিক্ষক নূর জাহান খাতুন বলেন, জরাজীর্ন ঘরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। কেননা মোট সাতটি ঘরের মধ্যে চারটি ঘরের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। আবার বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙ্গনের ফলে প্রধান ভবনটি নদীগর্ভে বিলিনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ এবং নদীগর্ভে বিলিনের হাত থেকে রক্ষার্থে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
উপজেলা প্রকৌশলী পারভেজ নেওয়াজ খান বলেন, করোনা মহামারির মধ্যেও বিদ্যালয়ে সংস্কার মেরামত এবং আধুনিক ভবন নির্মাণ কার্যক্রম চলমান আছে। আগামীতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এ বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ কার্যক্রম করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ