নওগাঁয় ঝড়ে ভাঙা ও মরা গাছ কাটার শর্ত, কাটা হলো সজীব গাছ

আপডেট: এপ্রিল ১, ২০২০, ১০:৩০ অপরাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি


রাণীনগরে ঝড়ে ভাঙা ও মরা গাছেল পরিবর্তে কেটে ফেলা সজীব গাছ- সোনার দেশ

টেন্ডারে লেখা রয়েছে ঝড়ে ভাঙা/মরা ৯টি গাছ কাটার কথা। কিন্তু মরা এবং ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত গাছের পরিবর্তে কেটে নেয়া হয়েছে জীবিত ৯টি গাছ। এ ঘটনা ঘটেছে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায়। ইজারাগ্রহীতা আবদুস সালাম এক লাখ টাকা মূল্যের গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।
সূত্র জানায়, গাছগুলো কর্তনে খাতাপত্রে সরাসরি নিলাম এবং ঝড়ে ভাঙা ও মরা গাছ দেখানো হয়েছে। অথচ ইজারা গ্রহীতা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজস করে নামমাত্র মূল্যে জীবিত গাছ কেটে নিয়েছেন । উপজেলা চত্বরে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ সম্প্রসারণের অজুহাতে এই গাছগুলি কাটা হচ্ছে। অথচ মসজিদ থেকে অনেক দূরে রয়েছে এই গাছগুলি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২২ মার্চ নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দফতর থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে ঝড়ে ভাঙা ও মরা গাছ কর্তনের ইজারা প্রদান করা হয়। উপজেলা পরিষদ চত্বরের পশ্চিম দিকে অবস্থিত এই ৯টি গাছের মধ্যে ৮টি ইউক্যালিপটাস ও ১টি বড় পুরাতন রেইন্ট্রি গাছ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ উপজেলা চত্বরে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা মরা কোনো গাছ নেই। তাই ইজারা গ্রহীতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজস করে জীবিত গাছগুলি কেটেছেন। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। ফলে সবগুলি গাছ কর্তন করা হলেও রহস্যজনক ভাবে রেইনট্রি গাছটির কিছু ডালপালা কাটার পর গাছ কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে।
বুধবার ( ১ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইজারা গ্রহীতার পক্ষের লোকজন ক’দিনে উপজেলার পরিষদের অভ্যন্তরের জীবিত ৮টি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে ফেলে রেখেছে। তবে ১টি রেইনট্রি গাছের ডালপালা কর্তন করা হলেও কাজ বন্ধ থাকায় গাছটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে।
টেন্ডার কমিটির সদস্য উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাইদুর রহমান মিঞা বলেন, নির্বাহী কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক সাহেবের অনুমতি নিয়ে এই কাজ করেছেন। তবে বিস্তারিত জানতে চাইলে আপনি নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন।
মুঠোফোনে গাছ বিক্রির কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে এই কাজ করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি নিউজ না করতে এবং সরাসরি দেখা করতে অথবা তার কাছে প্রতিবেদকের প্রতিনিধিকে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেন। অন্য একটি প্রশ্নে তিনি এ সংশ্লিষ্ট কোনো কাগজপত্র দিতে বা দেখাতে অনীহা প্রকাশ করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ