নওগাঁয় তীব্র শীতে ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত রোগিদের ভীড়

আপডেট: ডিসেম্বর ১৩, ২০১৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি


নওগাঁয় তীব্র শীতে আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। গত সপ্তা থেকে শীতের তীব্রতা  বেড়ে যাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধরা এসব শীতজনিত রোগে আক্রন্ত হচ্ছেন। হঠাৎ রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায়  হাসপাতালে দেখা দিয়েছে বেড সঙ্কট। শীতজনিত রোগ থেকে শিশু ও বৃদ্ধদের নিরাপদে থাকতে সকালে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
গত ৫ দিন থেকে উত্তরের হীমেল হাওয়া আর কনকনে শীত পড়ছে নওগাঁয়। ভোর থেকে কুয়াশা পড়ছে সকাল পর্যন্ত। হঠাৎ শীত বেড়ে যাওয়ায় ডায়রিয়া, ব্রনকাইটিস পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে গতকাল নওগাঁ সদর হাসপাতালে ৭০টি শিশু ভর্তি হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন প্রায় দুইশো শিশু আসছে চিকিৎসা নিতে। শিশু ও বৃদ্ধ রোগির চাপ বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন দায়িত্বরত নার্স ও চিকিৎসরা।
আক্রান্ত শিশুর স্বজনরা বলছেন, শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। নওগাঁ সদর উপজেলার গোয়ালা গ্রামের বাসিন্দা মুনজু আরা ও কোমাইগাড়ী এলাকার সুফিয়া বলেন, বাচ্চার ডায়রিয়া হওয়ার পর হাসপাতালে আসি কিন্ত গত দুইদিন থেকে এখানে শুধু স্যালাইন ছাড়া আর কিছু পাচ্ছি না। বাচ্চাকে ওষুধ কিনে খাওয়াতে অনেক টাকা চলে গেছে। এদিকে হঠাৎ রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জেলা সদর হাসপাতালে মাত্র ১০টি শিশু বেড রয়েছে। অথচ প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫টি শিশু রোগি ভর্তির জন্য আসছে। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত এসব শিশুকে জায়গার অভাবে ওই ওয়ার্ডের মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে বলা হয়েছে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি হওয়ায় হাসপাতালে রোগির চাপ বাড়লেও ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে।
এ বিষয়ে নওগাঁ সদর হাসপাতাল তত্বাবধায়ক ডা. আনজুমান আরা জানান, হঠাৎ শীতের কারণে রোগির চাপ বেড়েছে। তবে এখনো সহনীয় পর্যায়ে আছে। শীত বাড়লে আরো রোগির চাপ হবে বলে তিনি মনে করেন। এ ক্ষেত্রে বাচ্চাদের শীতে প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যেতে না দেয়া ও উঞ্চ জায়গায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি।