নওগাঁয় থামছে না পাউবোর জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ

আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২২, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি:


নওগাঁর রাণীনগরে থামছে না পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জায়গা দখল করে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ। প্রভাবশালীরা পেশী জোরের মাধ্যমে অনুমতি না নিয়েই নিজেদের ইচ্ছে মাফিক জায়গা দখল করে নির্মাণ করছেন ব্যক্তিগত অফিস, সমিতির অফিস আবার কেউ নির্মাণ করছেন স্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অপরদিকে, নিজেদের ক্ষমতা অনেকটাই কম বলে হাফ ছাড়ছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সূত্রে জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলাকে দুই ভাগে ভাগ করেছে ছোট যমুনা নদী। বর্তমানে এই নদীর দুই পাশ দিয়ে বিভিন্ন জনমুখর ও বাজার-হাট এলাকায় অনুমতি ছাড়াই নদীর তীরের জায়গা দখল করে গড়ে তুলছেন বহুতল ভবন। অবৈধ দখলদারদের অত্যাচারে ছোট যমুনা নদী বর্তমানে মৃত প্রায়।

উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের হরিশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীত দিকে বিশ্ববাঁধ সংলগ্ন স্থানে ওই গ্রামের অছির উদ্দিনের ছেলে এজাদুল ইসলাম একই গ্রামের দিনমজুর বেলাল হোসেনের জমি পেশীবলের মাধ্যমে অবৈধভাবে দখল করে গড়ে তুলছেন হরিশপুর (উত্তরপাড়া) সাত তারা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের কার্যালয় বহুতল ভবন। ইতিমধ্যই বাঁধের নিচে একতলা ভবনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বর্তমানে উপরে আরো একতলা ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে।

এতে করে ওই এলাকায় নদীর জায়গা দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এই সব ভবন নির্মাণ বিষয়ে কিছুই জানেন না। একইভাবে উপজেলার কুজাইল বাজার, বেতগাড়ী বাজার, কৃষ্ণপুরের প্রেমতলীসহ উপজেলার জনমুখর স্থানগুলোতে ছোট যমুনা নদীর দুই তীরের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে বহুতল ভবন ও ব্যবসালয় তৈরির মহো উৎসব চলছে।

হরিশপুর (উত্তরপাড়া) সাত তারা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি এজাদুল ইসলাম বলেন, আমাদের একটি সমিতি আছে। সেই সমিতির কার্যালয় নেই। তাই দখলদারের কাছ থেকে পজিশন নিয়ে সমিতির বহুতল কার্যালয় নির্মাণ করছি। ভবনের জায়গার মধ্য কিছু খাস জায়গাও রয়েছে। সরকার যদি কখনো এই জায়গা ফেরত নেয় তখন এই বহুতল ভবন ভেঙ্গে জায়গা ছেড়ে দিবো। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছেন কি না এই বিষয়ে এজাদুল ইসলাম বলেন বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য কারো কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি।

ওই জমির প্রকৃত দখলদার একই গ্রামের মনছের আলীর ছেলে দিনমজুর বেলাল হোসেন বলেন, ওই জায়গাটি পূর্বে পৈতিক ছিলো কিন্তু বর্তমানে তা সরকারের। আমি সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত চাষাবাদ করে আসছি। আমি দিনমজুরের কাজ করি আর এই জমি থেকে যে ফসল পাই তা দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে কোনমতে জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু এজাদুল পায়তারা করে ওই ৩শতাংশ জমিটি জোবর দখল করে সমিতির নামে বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। এজাদুল প্রভাবশালী হওয়াই আমি বর্তমানে নিরুপাই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন সরেজমিনে পরিদর্শন করে দখলদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফউজ্জামান বলেন, নদীর বাঁধ থেকে নদীর ভিতরের দিকে পাউবোর কিছু জায়গা অধিভুক্ত করা থাকে। তাই সেই জায়গায় ভবন নির্মাণ করার কোন সুযোগ নেই। বর্তমানে ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীর দুই তীরের জায়গা অবৈধ ভাবে দখল করে কয়েক হাজার ভবন নির্মিত হয়েছে। আমরা সেই সব অবৈধ ভবনগুলোর তালিকা তৈরি করছি। তালিকা তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবো। কর্তৃপক্ষের পরবর্তি নির্দেশনা পেলেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।