নওগাঁয় নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন : নাভিঃশ্বাসে সাধারণ মানুষ

আপডেট: এপ্রিল ২০, ২০২০, ১:৫০ অপরাহ্ণ

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি:


নওগাঁর রাণীনগরে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে সকল ধরনের পণ্যের দাম। এতে করে চরম বেকায়দায় পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে উচ্চ আয়ের মানুষরাও। প্রশাসনের যথাযথ মনিটরিং ও উদাসীনতার কারণে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজসহ বেড়েছে অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম।
অসাধু ব্যবসায়ীরা করোনা ভাইরাসের প্রভাবকে পুঁজি করে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে অধিক অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। এছাড়াও আসন্ন রমজানে এই সব নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরো বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। শুধুমাত্র প্রশাসনের কঠোর নজরদারিই পারে এই সমস্যার সমাধান করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে জানা গেছে যে, সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা চালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ১০টাকা, জিরাসাইলসহ অন্যান্য চালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৮-১০টাকা, পেঁয়াজ কেজি প্রতি দাম বেড়েছে ২৫-৩০টাকা, আলুর কেজি প্রতি দাম বড়েছে ১০টাকা। এছাড়াও মসলা জাতীয় পণ্যের দামও আকাশ ছোঁয়া হয়ে গেছে।
রাণীনগর বাজারের চাল ব্যবসায়ী মোকলেছুর রহমান বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে ব্যবসা হচ্ছে না বলেই চলে। যানবাহন বন্ধ থাকায় বাজারে চালের সরবরাহ কম। অধিক লাভের আশায় বড় বড় মিলাররা গুদামে চাল রেখেই বাজারে চাল ছাড়ছেন না। তাই বেড়েই চলেছে খুচরা বাজারে চালের দাম।
রাণীনগর বাজারে পণ্য কিনতে আসা ক্রেতা রইচ উদ্দিন, মোহসিনসহ আরো অনেকেই বলেন, করোনা ভাইরাসের নামে যদি বাজারের এই অবস্থা হয় আসন্ন রমজানকে ঘিরে তাহলে বাজারের আর কি অবস্থা হতে পারে। তাহলে আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজনরা কোথায় যাবো। তাই বাজারকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসতে হলে প্রশাসনকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করতে হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তরমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, আমি নিজেও মাঝে মধ্যে বিভিন্ন বাজার মনিটরিংএ যাচ্ছি। এছাড়াও বাজার মনিটরিং দলকে সঙ্গে নিয়েও বাজারকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আনতে চেষ্টা করছি।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল আলম বলেন, আমি নিজেও বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করছি। কিছু কিছু অসাধ্য ও লোভী ব্যবসায়ী আছেন যারা বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ থাকলেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বৃদ্ধি করে। এরা সরকারের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে নষ্ট করছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করলে বাজার স্বাভাবিক হবে বলে আমি মনে করি। আর এক্ষেত্রে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালন করার জন্য আমি নির্দেশনা প্রদান করেছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ