নওগাঁয় পুলিশের নির্যাতনে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট: এপ্রিল ১১, ২০১৭, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি


নওগাঁর আত্রাই পুলিশের নির্যাতনে জালাল হোসেন (৩৮) নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তবে হার্টঅ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে দাবি পুলিশের। উপজেলার পারকাসুন্দি গ্রামে গত রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত পরিবার ও গ্রামবাসীর দাবি, অতীতে কোন মামলা বা মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল না ওই পরিবারের।
এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে পরদিন গতকাল সোমবার দুপুরে পুলিশের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোকলেছুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসময় নিহতের পরিবারকে ঘটনা তদন্তপূর্বক  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। বিকেল ৬টা পর্যন্ত নিহতের লাশ আসকানের বাড়িতেই ছিল। নিহত জালাল উদ্দিন জেলার রানীনগর উপজেলার মৃত ছলিম উদ্দিনের ছেলে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, রোববার সকালে পার্শ¦বতী রাণীনগর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রাম থেকে অসুস্থ মামা আসকানকে দেখতে আত্রাই উপজেলার দক্ষিন পারকাসুন্দি গ্রামে গিয়েছিলেন জালাল হোসেন। পরিবারের দাবি, গভীর রাতে ঘুম থেকে ডেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে পুলিশ। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র আনতে বলে মামি জোসনা বানুকে। জোসনা বানু অন্য ঘরে জাতীয় পরিচয়পত্র আনতে গেলে এরই এক ফাঁকে জালাল হোসেনকে কোন কারণ ছাড়াই বেদম মারধর শুরু করে পুলিশ। এরপর মারধরের চিৎকার শুনতে পেয়ে জোসনা বানু ঘরে এসে দেখেন জালালকে মেরে মেঝেতে শুয়ে রাখা হয়েছে। এসময় জোসনা বেগম চিৎকার শুরু করলে গ্রামবাসীরা এগিয়ে আসে।
গ্রামবাসীরা বলেন, নিহতের বুকে ও পিঠে আঘাতের দাগ রয়েছে। অতীতের কোন মামলা বা মাদকের অভিযোগ নেই ওই পরিবারটির বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে সোমবার বিকালে আত্রাই উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফছার আলী বলেন, শুধু এটিই নয়। মাঝে মধ্যেই গ্রামবাসীকে নেশাদ্রব্য দিয়ে ফাঁসিয়ে চাঁদা দাবি করে পুলিশ।
এদিকে সোমবার বিকালে আত্রাই থানার ওসি বদরুদ্দোজা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ আসামি ধরতে গিয়েছিল সেখানে। আর ওই যুবক পুলিশী নির্যাতনে নয়, মারা গেছেন হার্টঅ্যাটাকে। এ ঘটনায় থানায় কোন মামলা হয় নি বলেও জানান ওসি।