নওগাঁয় পৌনে পাঁচ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত || ৭৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল হানি

আপডেট: আগস্ট ২৪, ২০১৭, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি


নওগাঁয় বন্যার পানি যত কমছে বানভাসী মানুষের ক্ষতি ততটাই বাড়ছে।  জেলায় এ পর্যন্ত ৪লাখ ৭৪ হাজার ৬শ ৫৫ জন মানুষ বন্যায় ক্ষতির শিকার হয়েছেন। ৫শ ৮১ টি গ্রামের ৯৬ হাজার ৬শ ২৫ পরিবার বন্যায় সর্বস্ব হারিয়েছে । জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস জানায়  ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ অব্যাহত আছে।  এ পর্যন্ত ফসল হানি হয়েছে ৭৫ হাজার ৭শ ৩৬ হেক্টর জমি । নওগাঁ জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান জানিয়েছেন বন্যার্ত মানুষের জন্য এ পর্যন্ত  ৬শ ৩৬ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ২৫ লাখ ৯৫ হাজার ৯৫৫ টাকা নগদ বিতরণ করা হয়েছে । তথ্য মতে, জেলার ১১ টি উপজেলার মধ্যে ১০ টি উপজেলায়  বাঁধ ভেঙে এবং নদীর পানি উপচে পড়ে বন্যা দেখা দেয়। এর মধ্যে ছোট যমুনা নদীর ইকরতারা নামক স্থানে বাঁধ ভেঙে নওগাঁর শহরের পূর্ব দিকের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এখনো শহরের বোয়ালিয়া কীর্তিপুরসহ প্রায় শতাধিক গ্রাম হাঁটু পানিতে নিমজ্জিত। ভেসে গেছে কয়েক হাজার পুকুরে মাছ এবং রোপা আমন ও রোপা আউশ খেত। অন্যদিকে জেলার রানীনগরে আত্রাই নদীর বাঁধ ভেঙে আত্রাই রানীনগরের বিরাট একটি এলাকা প্লাবিত হয়ে আছে। রানীনগরের গোনা ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত খান জানান, তার ইউনিয়নে এখন এমন কোন খেত নেই যেখানে কৃষক ঘরে তুলতে পারে। একই অবস্থা মান্দা, মহাদেবপুর, নিয়ামতপুর, বদলগাছী, সাপাহার এবং পতœীতলায়। আত্রাই নদীর বাঁধ ভেঙে এসব উপজেলায় মাঠ ঘাট তলিয়ে যায় । পতœীতলার উপজেলা এবং মান্দা উপজেলায় সব চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। এসব উপজেলায় ৪১ টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। তবে আশ্রয় শিবিরে আশ্রিতদের অভিযোগ তাদের এক বেলা খাবার দিলে বাকি সময়টা অভুক্ত থাকতে হচ্ছে। মান্দা উপজেলা সদরে রেবা আখতার মাদ্রাসা আশ্রয় কেন্দ্রের কয়েক জন এ অভিযোগ করে জানান, সকালে একবার খাবার দেয় খিচুড়ি। এর পর থেকে আর কোন খোঁজ নেওয়ার কেউ থাকে না।  ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে এখানে সাড়ে ৩শ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ