নওগাঁয় বোরো মৌসুমকে ঘিরে সক্রিয় ভেজাল সার কারবারীরা

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৭, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

এমআর রকি, নওগাঁ  


নওগাঁয় বোরো মৌসুমকে ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ভেজাল সার কারবারীরা। একই কোম্পানির একাধিক নাম ব্যবহার করে অধিক ধান উৎপাদন হবে এমন আশ্বাসে কৃষকের হাতে তুলে দিচ্ছেন ভেজাল সার ও কীটনাশক। শক্তিশালী বাজার মনিটরিং না থাকায় নাম সর্বস্ব কিছু কোম্পানির প্রতিনিধিরা মাঠ পর্যায়ে সরাসরি বিপনণ করছে এসব সার ও কীটনাশক। ভালো ফলনের আশায় কৃষকরা এসব কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ভেজাল সার কীটনাশক প্রয়োগে জমির দীর্ঘ মেয়াদি ক্ষতিসহ আর্থিক লোকসান গুণতে হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মৌসুম ঘিরে এমন প্রতারণা ঠেকাতে তারাও তৎপর আছেন ।
উদ্বৃত্ত ফসল উৎপাদনে উত্তরের জেলা নওগাঁর কৃষকরা বড় একটি ভূমিকা পালন করে থাকে। রোপা আমন ধান কেটে তোলার পর এখন বোরো চাষে ব্যস্ত এখানকার কৃষকরা। জমি তৈরি থেকে ধান ঘড়ে তোলা পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকে সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীরা। বোরো মৌসুমকে ঘিরে এবার তাদের বাড়তি টার্গেট। কৃষক ধান রোপণের প্রথমে জমিতে প্রয়োগ করছে ইউরিয়া, এমওপি, ডিওপি নামক বিভিন্ন সার। কৃষককের ধারণা, অধিক ফলন উৎপাদনে এসব সার প্রয়োগ করা জরুরি। কিন্ত জেলার প্রান্তিক পর্যায়ে সার ডিলাররা নাম সর্বস্ব কোম্পানির এসব ভেজাল সার বিভিন্ন ব্যান্ডের নাম ব্যবহার করে কৃষকের হাতে তুলে দিচ্ছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, ভালো ফলনের আশ্বাসে এসব সার কীটনাশক প্রয়োগে কাজের কাজ হচ্ছে না উল্টো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বদলগাছী উপজেলার মির্জাপুর এলাকার কৃষক তাজ উদ্দিন, শরিফুল ইসলাম জানান, জমিতে ধান রোপণের আগে ইউরিয়া, ডিওপি এমওপি সহ খল প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। এবার স্থানীয় হাট থেকে ডিওপি ও এমওপি কিনতে গিয়ে দেখি ৫ প্রকার। দামেও বেশ তারতম্য। কোনটার কী সুফল তা জানি না। তবে দাম কম পাওয়ায় বেলারোশিয়ান নামের ডিওপি ব্যবহার করি। গোলাম মওলা নামের আরো এক কৃষক জানান, এক সপ্তা আগে আলু খেতে মড়ক লাগলে সেখানে ৪ বার পাউডার স্প্রে করে কোন ফল পাই নি। এতে আমার ১৪শ টাকা লোকসান গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কোম্পানির প্রতিনিধিরা তৃনমূল ডিলারদের কাছে এসব সার ও কীটনাশক অধিক মুনাফার অফারে দিয়ে থাকেন। সার ডিলাররা তাদের মুনাফা হাতানোর লক্ষ্যে কৃষককে তুলনামূলক কম দামে এসব সার কীটনাশক তুলে দিচ্ছেন।
সার ব্যবসায়ীরা বলছেন, একই নামে একাধিক ব্রান্ড রয়েছে। কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করছেন তারা। নওগাঁর বদলগাছী সদরের সার ডিলার  শ্রী জিতেন্দ্র নাথের গুদামে গিয়ে দেখা মেলে বিভিন্ন ব্রান্ডের ডিওপি-এমওপিসহ পটাশ সার। এর মধ্যে সম্প্রতি সান্তাহার বাফার থেকে তোলা শক্ত হওয়া ইউরিয়া সার নিয়ে বিব্রত এ ডিলার। ব্যবসায়ী জিতেন্দ্র নাথ বলেন, ক্রেতার চাহিদার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, কোন মনিটরিং না থাকায় অসাধু কারবারীরা এ সুযোগ নিচ্ছে । বদলগাছী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোস্থফা অলি আহম্মেদ চৌধরী ও রাইগাঁ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মুনজুরুল আলম জানান, অসাধু কারবারীরা কৃষকের হাতে এসব ভেজাল সার ও কীটনাশক তুলে দিচ্ছে আর ক্ষতি হচ্ছে কৃষককের। তারা দাবি জানান, কৃষি বিভাগ থেকে একটা বৈধ কীটনাশক কোম্পানির তালিকা জনপ্রতিনিধিদের কাছে দেয় সেক্ষেত্রে বিষয়টি সহজ হয়। মৌসুমের শুরুতে ভেজাল সার কারবারীদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানসহ তাদের দৌড়াত্ম ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে বলে দাবি করলেও বাস্তবতা ভিন্ন।
জেলা কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে সার কীটনাশকের লাইসেন্স বাণিজ্য করার ফলে নাম সর্বস্ব কোম্পানির প্রতিনিধিরা সুযোগ নিয়ে এ কারবার করছে। চলতি বোরো মৌসুমে নওগাঁয় ১ লাখ ৯৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। ভেজাল সার কারবার রোধে প্রশাসনের জোর নজরদারী চায় জেলার কৃষকরা।
এ বিষয়ে নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সত্যব্রত সাহা বলেন, অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ