নওগাঁয় লাইসেন্স ও ছাড়পত্রবিহীন ইটভাটায় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে গাছ

আপডেট: মার্চ ২১, ২০২০, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি


নওগাঁয় ইটভাটাতে  পোড়ানো জন্য রাখা খড়ি-সোনার দেশ

নওগাঁর ধামহারহাটে নিয়ম বর্হিভুত ভাবে ইটভাটায় জ্বালানি কাজে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই ইটভাটাগুলো চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি ভাটার চিমনির (স্থায়ী) মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হলেও ঝুঁকির মধ্য দিয়েই ইট পোড়ানো হচ্ছে। অবৈধভাবে গড়ে উঠা এসব ভাটার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
নওগাঁ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ব্যবসা ও বাণিজ্য শাখা সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ইটভাটা রয়েছে ১৬৫ টি। এরমধ্যে ধামইরহাট উপজেলায় রয়েছে ১৪টি। জেলায় ইটভাটার মোট লাইসেন্স রয়েছে ১৪টি। তবে পরিবেশ অধিদফতর থেকে কয়টি ভাটার ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে নতুন অফিস হওয়ায় তা জানে না নওগাঁ পরিবেশ অধিদফতর। অবৈধভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নিবার্হী অফিসারদের বেশ কয়েকবার চিঠি দেয়া হয়েছে।
ধামহারহাটে ইটভাটাগুলোর নেই কোন লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র। অবৈধভাবে গড়ে উঠা বড়শিবপুর (ইক্ষু সেন্টার) মেসার্স টিএম ব্রিকস এর পাশে ধান ও গমের খেত রয়েছে। জাহানপুর গ্রামে মেসার্স এলএসকে ব্রিকসের আধাকিলোমিটার দুরে দুইটি স্কুল রয়েছে। নানাইচ (শল্পী বাজার) মেসার্স এমবিএম ব্রিকস চিমনির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এসব ইটভাটায় দেদারছে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য ভাটাগুলোর চিত্র একইরম। যেন দেখার কেউ নেই। ইট তৈরির কাজে ব্যবহৃত মাটি নেয়া হচ্ছে ফসলি জমি থেকে। জমির উপরের অংশের মাটি কেটে নেয়ায় উবর্রতা হারাচ্ছে। অবৈধভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নিবার্হী অফিসারকে বেশ কয়েকবার চিঠি দেয়া হলেও কোন পদক্ষে গ্রহণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলার নানাইচ গ্রামের হামিদুল ইসলাম, মোজাহার আলী ও মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ইটভাটার কালো ধোঁয়া ঘরবাড়ি ও গাছে পড়ে। গত কয়েক বছর ধরে ফলের গাছগুলোতে ভাটার ধুলা-বালির স্তুপ পড়ায় ফুল আসা কমে গেছে। এতে করে ফলের পরিমাণও কমেছে। ফসলির জমির মাটি অবাধে ইটভাটায় নেয়ার হলে জমি উর্বরতা হারাচ্ছে।
নানাইচ গ্রামের মেসার্স এমএনটি ব্রিকসের ম্যানেজার নজরুল ইসলাম বলেন, ২০০৪ সালে চিমনি (স্থায়ী) তৈরি করা হয়েছিল। গত ২০১৪ সালে চিমনির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। চিমনি পরীক্ষা করা হয়েছে, কোন সমস্যা নাই। দিনে প্রায় ১৫মনের মতো ভাটায় খড়ি পুড়ানো হচ্ছে। ইউএনও স্যার মাঝেমাঝে রাস্তা দিয়ে আসা-যাওয়া করেন। ভাটাতে এখনো কোন ধরনের অভিযান চালানো হয়নি।।
ধামইরহাট উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় ১৪টি ইটভাটা আছে। গত চারবছর আগে হাইকোর্টে রীট করে ভাটা পরিচালনার করার অনুমতি নিয়েছি। কোন লাইসেন্স বা পরিবেশের ছাড়পত্র নাই। খড়ি পুড়ানোর কোন বিষয় এবং চিমনির (স্থায়ী) মেয়াদ যে শেষ হয়েছে তা আমার জানা নেই।
ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গণপতি রায় বলেন, সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে পরিবেশ বান্ধব ইটভাটার নিয়ে। ইটভাটার কারণে ফসলি জমির টপসয়েল নষ্ট হয়ে উর্বরতা হারাচ্ছে। পরিবেশ অধিদফতর থেকে শিগগিরই ভাটাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তারপরও যদি কোন ইটভাটা পরিবেশের জন্য হুমকি স্বরুপ হয়ে থাকে তাহলে তাৎক্ষনিক ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে কাঠ পুড়ানো নিয়ে কোন ভাটার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
নওগাঁ পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মকবুল হোসেন বলেন, আমাদের জনবল কম থাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়না। তারপর জেলার মান্দায় চারটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে তিনটির ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া একটির ইট পানি দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।