নওগাঁয় শিম খেতে পচন, চিন্তিত চাষিরা

আপডেট: অক্টোবর ২৩, ২০১৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ


এমআর রকি, নওগাঁ
নওগাঁয় পাতা পচা রোগে শিম চাষিরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। ভালো ফলনের আশা থেকে হতাশা দেখা দিয়েছে কৃষকদের মধ্যে। অনাবৃষ্টি ও ভ্যাপসা গরমে শিমে পচন রোগ হওয়ায় নওগাঁয় আগাম শিমের কাঙ্খিত ফলন ও বিক্রি করতে পারে নি চাষিরা। কৃষি বিভাগের কোনো সহযোগিতা না পাওয়ার এ লোকসান বলে অভিযোগ শিম চাষিদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁয় প্রায় ৫ হাজার বিঘা জমিতে শিম চাষ করা হয়েছে। জেলার মধ্যে সদর উপজেলার বর্ষাইল, বক্তারপুর, কীর্ত্তিপুর ইউনিয়ন সবজি চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় ইউনিয়নের অধিকাংশ জমিতেই শিম, লাউ, টমেটো, কপি, মরিচ ও কুমড়ার চাষ করা হয়ে থাকে।
তবে এই তিন ইউনিয়নের সবচেয়ে বেশি চাষ করা হয় শিম। অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় এই তিন ইউনিয়নেই প্রায় বাইশ বিঘা জমিতে আগাম শিম চাষ করা হয়েছে। প্রতি বছর হাজার হাজার মণ শিম উৎপাদন হয়ে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়ে থাকে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয় কোনো পাইকারি বাজার না থাকায় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকার আসেন না। এ সুযোগে প্রান্তিক শিম চাষিদের বাড়ি, জমি বা ছোট ছোট বাজার থেকে ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা কম মূল্যে কিনে নেন। এতে শিমসহ অন্য সবজি চাষিরা ন্যায্যমূল্য পান না। এদিকে লাভবান হন ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা।
নওগাঁ সদর উপজেলা ছাড়াও মহাদেবপুরের চান্দাস, ঝাড়গ্রাম, লক্ষ্মীপুর, ভালাইন, এনায়েতপুর ইউনিয়নে আগাম শিম চাষ করা হয়। তবে মহাদেবপুর উপজেলায় তুলনামূলক শিম ফুলে কম পচন রোগ দেখা দিয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর শিম কম ধরা ও বিক্রিও কম হয়েছে।
কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর সদর উপজলার শিম চাষীরা আশ্বিন মাসের মধ্যেই আগাম এই শিম প্রতি বিঘায় প্রায় ৩০-৪০ হাজার টাকার বিক্রি করা সম্ভব হতো। কিন্তু চলতি বছর একদিকে বৃষ্টি অন্যদিকে গরম আবহাওয়া থাকায় শিমের ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই ফুলে পচন দেখা দেয়। এখন পর্যন্ত হাতে গোনা শিম চাষী বাজারে ২-৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। এতে অধিকাংশ কৃষকদের লোকসান গুণতে হবে।
সদর উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের ইমরান হোসেন জানান, এক বিঘা জমিতে শিম চাষ করতে ২০-৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। চলতি বছর শিমে পচা রোগ দেখা দিলেও বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক স্প্রে করেও পচা রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হওয়ায় এখন পর্যন্ত শিম বিক্রি করা সম্ভব হয় নি। কীটনাশক ব্যবসায়ীরা এসে তাদের কিটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু কোনোভাবেই ফুল পচন রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে শিম চাষিদের লোকসান গুণতে হবে এমনটিই জানিয়েছেন কৃষকরা।
কুয়ানগর গ্রামের নূর ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর শিম গাছ ভালো হলেও শিমের ফুলে পচা রোগ দেখা দিয়েছে। শিম গাছে বিভিন্ন কীটনাশক দিয়েও এখন পর্যন্ত পচা রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় নি। প্রতিদিন পচন ধরা ফুল ও জালা (কুড়ি) শিম ফেলে দিতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন বাড়তি খরচ হওয়ায় উৎপাদন খচর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
খরখরিপাড়া গ্রামের আফজাল হোসেন জানান, আগাম এই শিম গত বছরের এই সময়ের মধ্যে প্রতি বিঘা থেকে প্রায় ৩০-৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু পচা রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হওয়ায় কোনো শিম গাছে ধরে নি। এতে জেলার হাজার হাজার কৃষকদের লোকসান গুণতে হবে। কৃষি বিভাগ থেকেও কোনো পরামর্শ না পাওয়ার অভিযোগ করেন শিম চাষিরা।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সত্যব্রত সাহা কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে সার্বক্ষণিক শিম বা সবজি চাষিদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ কারণে আগাম শিম চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। পাশাপশি বর্তমানে শিমের দামও ভালো পাচ্ছেন। অপর প্রশ্নে তিনি বলেন, পচন রোগে শিম চাষিদের কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার সঠিক পরিমাণ বা তালিকা কৃষি বিভাগের হাতে নেই।