নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু, নিহতের বাবা করলো হত্যা মামলা

আপডেট: মে ২৬, ২০২২, ১১:১৪ অপরাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি:


নওগাঁর পার্শ্ববর্তি বগুড়ার আদমদীঘিতে অজ্ঞাত যানবাহনের চাপায় মোহাম্মদ হীরা নামে এক ট্রাক হেলপারের মৃত্যু হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনার তার মৃত্যু হয়েছে সুরতহাল রিপোর্টে এর উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু ব্যক্তি শত্রুতার বিরোধের জেরে তাকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনেছেন নিহতের বাবা খলিলুর রহমান। তিনি ২০২১ সালের নভেম্বর ২২ তারিখ বাদী হয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর বুধবার রাত সাড়ে ১১ টায় উপজেলার সান্তাহার পূর্ব ঢাকা রোড এলাকায় আশা ফিলিং স্টেশনের সামনে সড়ক দূর্ঘটনায় রাস্তার পাশে মোহাম্মদ হিরার মৃতদেহ পড়েছিল। পরে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়ে দেন। এ বিষয়ে থানায় একটি ইউডি মামলা হয়।

কিন্তু নিহত হিরার পরিবারের দাবী পূর্ব শত্রুতায় ছেলেকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করে সড়ক দূর্ঘটনার নামে প্রচারনা করছে। এদিকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ এনে বশিপুর এলাকার নিহতের বাবা খলিলুর রহমান বাদী হয়ে জয়, মুন্না ও পাখিসহ ৬জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। এতে করে ওই আসমীদের মাঝে মিথ্যা মামলার হয়রানি করায় চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মন্তব্য সমাজে মানক্ষুন্ন করার জন্য একটি মহল এমন হয়রানি করাচ্ছে। এ ঘটনার তারা সুষ্ঠু তদন্তের দাবী জানিয়েছে।

আশা পেট্রোল পাম্পের কর্মচারী জিয়া ও মান্নান হোসেন বলেন, ওই রাতে পাম্পে আমরা কয়েকজন ডিউটি করছিলাম। ডিউটিরত অবস্থায় ওঠাৎ এক শব্দ শোনা গেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় একটা ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন অংশ থিতলে পড়ে আছে। দেখে মনে হলো কোন গাড়ি চাপায়া রাস্তা পার হতে গিয়ে এমন দূঘটনার শিকার হয়েছে। একটু পরে পুলিশ এসে লাশটি থানায় নিয়ে যায়।

হেলপার হিরার সহকর্মী জয় বলেন, ওইদিন রাতে ঢাকা থেকে সান্তাহারে ফেরার পথে আশা পেট্রোল পাম্পে ট্রাকটি গ্যারেজ করে খেতে যাই। খাওয়ার পর একটি ঝোঁপে আমরা দু’জনে গাঁজা সেবন করি।

এরপর আমি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ট্রাকে ফিরে। ট্রাকে ফেরার পর পিছনে তাকিয়ে দেখি হিরা নেই। হঠাৎ এক শব্দ শোনা গেলে নওগাঁ-বগুড়া সড়কে গিয়ে দেখি হিরা রাস্তার উপরে যানবাহনের চাপায় পিষ্ট হয়ে পড়ে আছে। আমি লাশটি রাস্তার পাশে টেনে নিয়ে এসে ভয় পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাই।

বগুড়া জেলা সিএনজি ও অটো টেম্পু মালিক সমিতির সভাপতি ও মামলার বিবাদী নূর ইসলাম বলেন, ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ট্রাক হেলপার শাকিল সান্তাহার মালগুদাম এলাকায় চাউল চুরি করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরে ফেলে আরেক হেলপার মুন্না। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে এসে হেলপার হিরা শাকিলের পক্ষ নিয়ে মুন্নার সাথে হট্টগোল থেকে এক পর্যায়ে মারাপিট করে।

এরপর হিরার পিতা খলিলুর রহমান ওই মারপিটের ঘটনায় ট্রাক মালিক সমিতির কাছে বিচার দেয়। বিচারে দুপক্ষের সমাধানের চেষ্টা করলে সবার সম্মতিক্রমে মুন্নার ৩হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তখন এই বিচার রায় না মেনে খলিলুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। কয়েকদিন পর থানা পুলিশ ৫হাজার টাকা জরিমানা করে দুপক্ষের সমাধান করেন। এই জের ধরে কারও কুপরামর্শে আমাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হিরার বাবা হত্যার অভিযোগ এনে মামলার আসামী করেছে। মামলার বাদী খলিলুর রহমানের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আদমদীঘি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমাস আলী সরকার ও উপ পরিদর্শক রকিব হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির সময় প্রাথমিক ভাবে মনে হয়েছে যানবাহনের চাপায় পিষ্ট হয়ে মারা গেছে। সন্দেহজনক কোন ঘটনা মনে হয়নি। এটা একটা দুর্ঘটনা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে খোলাসা হওয়া যাবে।

আদমদীঘি থানার উপ পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হযরত আলী বলেন, এ ঘটনার তদন্ত চলছে। বিস্তারিত পড়ে জানানো হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ