নওগাঁয় ১৩ হাজার ২৮৯ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা

আপডেট: ডিসেম্বর ১২, ২০১৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি


চলতি আমন মৌসুমে চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের আওতায় সরকার খাদ্য উদ্বৃত্ত নওগাঁ থেকে ১৩ হাজার ২৮৯ মেট্রিক টন চাল মিল মালিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করবে। কৃষকদের কথা চিন্তা ভাবনা না করেই সংশ্লিষ্ট বিভাগ গত মাসের ২৬ তারিখে চাল কেনার ঘোষণা দেয়। এতে বলা হয় মিল মলিকদের কাছ থেকে ৩৩ টাকা কেজি দরে চাল কেনা হবে। এ ঘোষণায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে কৃষকদের মাঝে। এদিকে বাজারে মোটা জাতের ধান বর্গা চাষিদের দেড় থেকে দুই হাজার টাকা লোকসানে বেচতে হচ্ছে জানিয়েছেন কৃষকরা।
ধান কেনার কোন ঘোষণা না এলেও রোববার থেকে  নওগাঁয় চাল কেনা শুরু করে জেলা  খাদ্য অধিদফতর। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সত্যব্রত সাহা জানান, খাদ্যে উদ্বৃত্ত নওগাঁয় চলতি আমন মৌসুমে উফশী (চিকন) ও স্থানীয় (মোটা) জাতের ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৪ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু আবহাওয়া আমন ধান চাষে অনুকুলে থাকায় ২ লাখ ১ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়। এর মধ্যে স্থানীয় (মোটা) জাতের ধান ২২ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর ধানের উৎপাদনও ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই কৃষিবিদ।
জেলা খাদ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে নওগাঁ সদরে ৫ হাজার ৫২২ টন, আত্রাইয়ে ৩৮৪ টন, রানীনগরে ১ হাজার ৬৪ টন, মহাদেবপুরে ৪ হাজার ৩৭৬ টন, পতœীতলায় ৪৭০ টন, বদলগাছীতে ১৭৩ টন, ধামইরহাটে ২৯৩ টন, সাপাহারে ৮ টন, পোরশায় ২৬৬ টন, মান্দায় ২৬৬ টন ও নিয়ামতপরে থেকে ৩৮০ টন চাল কিনবে খাদ্য মন্ত্রাণালয়। নওগাঁ মহাদেবপুর উপজেলার  উত্তর গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান  জানান, গত ইরি বোরো মৌসুমে প্রান্তিক কৃষকরা সরকারি গুদামে সরকারের নির্ধারিত ২৩ টাকা দরে সরাসরি ধান দিতে পারায় ধানের ভালো দাম পেয়েছেন।
চলতি আমন মৌসুমে সরকারি গুদামে জেলার কৃষকরা ধান বিক্রি করবে এমন আশায় মোটা জাতের ধান চাষ করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রাণালয় হঠাৎ করে শুধু মাত্র চাল (চাতাল) ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাল কেনার সিদ্ধান্ত  নেয়ায় হতাশ হয়েছেন তারা। এতে তাদের লোকসান গুণতে হবে।
একই গ্রামের হামিদুর, আব্বাস ও কুদ্দুস আলী বলেন, এক বিঘা জমি আমন ধান চাষ করতে ৮ হাজার থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। আর মোটা জাতের আমন ধান প্রতি বিঘাতে ১২ থেকে ১৫ মণ উৎপাদন হয়। বর্তমানে সাড়ে ৭শ’ থেকে ৭শ’ ৬০ টাকা প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে বাজারে। এই হিসেব থেকে প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১১ হাজার টাকায় আসছে। কিন্তু বর্গ চাষিদের জমির মালিক অর্ধেক ধান দিয়ে প্রতি বিধায় দেড় থেকে দুই হাজার লোকশান গুণতে হচ্ছে। কৃষকরা জানিয়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা যখন ধান মাড়াই শুরু করে তখন সরকার ধান-চাল কেনা শুরু করে না। যখন মধ্যস্বত্তভোগীদের হাতে যখন ধান চলে যায় তখন সরকার ধান-চাল কেনা শুরু করে। এতে প্রতি বছর কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মধ্যস্বত্তভোগীরা লাভবান হয়ে যায়।
তথ্যমতে নওগাঁয় ৩০ লাখ লোকের মধ্যে ২৭ লাখ লোক কৃষির সঙ্গে জড়িত। অপরদিকে জেলায় ১২শ’ মিল রয়েছে। সারা দেশের ৩০ জনের মতো চালের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন।
জেলা চাউল মিল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চাতাল ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকার চলতি মাসের ১ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে চুক্তি নির্দেশনা হয়েছে। চুক্তি শেষে আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত চাল গুদামজাত করা হবে। দ্রুত সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ শুরু করা হবে। তিনি আরো বলেন, প্রতি কেজি চাল ৩৩ টাকা দরে কেনার এই সিদ্ধান্ত সরকারের সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত উল্লেখ  করেন। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুস ছালাম জানান, চলতি মাসের পহেলা তারিখে সন্ধ্যায় সরকারি নির্দেশিকা  হাতে পাওয়ার পর জেলা ও উপজেলায় মিলার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। মিল মালিকদের জন্য বরাদ্দ অর্থাৎ বিভাজন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জেলার মিল মালিকদের সঙ্গে চুক্তি শেষে চাল গুদামজাত শুরু করা হবে। ১১ ডিসেম্বর প্রথম পর্যায়ে নওগাঁ সদর এলএসডিতে চাল সংগ্রহ উদ্বোধন করেন নওগাঁ সদর আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক । প্রতি বছর খাদ্য উদ্বৃত্ত নওগাঁয় প্রায় ৮৪ ভাগ জমিতে ধান চাষ করা হয়। আর নওগাঁ থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ১২ লাখ টন ধান-চাউল সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ