নওগাঁ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নে নির্বাচন ।। সভাপতি-সম্পাদক পদ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০১৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নে ত্রিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ বহাল রেখে বাকী পদগুলোতে নির্বাচন দেয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সভাপতি পদপ্রার্থী ও অন্য পদপ্রার্থীরা। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আবদুর রাজ্জাক।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৪ নভেম্বর জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গৃহিত নির্বাচন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুসরণ করা হয় নি। সংগঠনের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ সংগঠনের মৌলিক স্বার্থেরও পরিপন্থি। নেতৃবৃন্দ কৌশলে এমন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন না যা সংগঠনের গঠনতন্ত্রে বর্ণিত অধিকার থেকে অন্য সদস্যরা বঞ্চিত হতে পারে। গঠনতন্ত্রে বর্নিত ১১ এবং ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যে প্রক্রিয়া নেতৃত্ব নির্বাচনের বিধান আছে এবার সাধারণ সভায় সে প্রক্রিয়া অনুসরন করা হয় নি। ২৩ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা আছে নির্বাহী কমিটির মেয়াদ তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই গোপন ব্যালটে নির্বাচন পরিচালনা কর্মকর্তা নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু সে মেয়াদ গত ৩০ নভেম্বর শেষ হলেও পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটিও যথাযথভাবে গঠন করা হয় নি।
সমস্ত গঠনতন্ত্রে কোন জায়গায় এমন কোন বিধান নেই যা সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। সাধারণ সভায় এমন কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না যা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন ছাড়াই আগের ব্যক্তিরা ওই পদে বহাল থাকতে পারবেন। এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণ শ্রমিক ও শ্রম পরিপন্থি। এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংগঠনের স্বেচ্ছাচারিতা ও একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে। গঠনতন্ত্রে উল্লেখিত নির্বাচন ও কমিটি গঠন সংক্রান্ত বিধান অনুসারে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সকল পদে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন করা এবং এসব অগঠনতান্ত্রিক ও অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান। এসময় তিনি আরো বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কতিপয় কিছু ব্যাক্তি সন্ত্রাসি কায়দায় সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চ ও চেয়ার, টেবিল ভাংচুর করে তা পন্ড করতে চেয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আজাহারুল ইসলাম, এসএম মতিউজ্জামান, ময়েন উদ্দিন, আবদুল মালেকসহ অন্য সদস্যবৃন্দ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, আমাদের সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক সবকাজ করেছি। নোমিনেশন বিক্রি শুরু হয়েছে। সারা জেলার প্রায় সাড়ে ৫ হাজার শ্রমিক আমাদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে বাকী ১৯টি পদের জন্য নির্বাচন করার অনুরোধ করেছে। বরং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন, বহিরাগত কিছু শ্রমিক নিয়ে এসে তারা হামলা ও ভাঙচুর করে এবং গাড়ি চলাচল বন্ধ করার চেষ্টা করে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ