নওগাঁ-৬ আসন ৩৮ বছর পর এমপি পেলেন আত্রাই উপজেলাবাসী

আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০২৪, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি:


৩৮ বছর পর নিজ উপজেলায় এমপি পেলেন নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা। সংসদ নির্বাচনে আঞ্চলিকতার টানে দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ ভোট দিয়ে তরুণ প্রজন্মের আইকন খ্যাত স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক সুমনকে এমপি হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। আত্রাইবাসী তাই বর্তমানে উচ্ছ্বসিত।

গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে অ্যাডভোকেট ওমর ৬ হাজার ৭৪৬ ভোট বেশি পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আ’লীগ মনোনিত নৌকা মার্কার প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হেলালকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া এ নির্বাচনে আ’লীগের স্বতন্ত্র, জাতীয় পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, পিপিপি ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থীসহ মোট আটজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৭ হাজার ৯৭৩।

রাণীনগরের ৫৪টি ভোট কেন্দ্রে ভোট সংগ্রহ হয়েছে শতকরা ৪৪ দশমিক ৪৬ ভাগ এবং আত্রাই উপজেলায় ৬০টি কেন্দ্রে ভোট সংগ্রহ হয়েছে শতকরা ৪৮ দশমিক ৯৪ ভাগ।
সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় নির্বাচনে সিপিবির প্রার্থীতা নিয়ে আত্রাই উপজেলা থেকে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন আত্রাই উপজেলার রসুলপুর গ্রামের সুমনের বাবা বীরমুক্তিযোদ্ধা ওহিদুর রহমান।

১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে সিপিবির প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করে নিজের ভগ্নিপতি বিএনপির প্রার্থী আলমগীর কবিরের কাছে পরাজিত হন। এরপর ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ওহিদুর রহমান আবারো আলমগীর কবিরের কাছে পরাজিত হন।

পিতার উত্তরসূরি হিসেবে দুই সন্তানের জনক ওমর ফারুক সুমন ২০১৪ সালের পর থেকে নির্বাচনি এলাকা রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার মাঠে সরব ছিলেন। বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিশেষ করে বন্যাকবলিত আত্রাইবাসীর পাশে সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে ছুটে গেছেন। সুমন তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের কর্ণধার প্রধানমন্ত্রীর বার্তা প্রতিটি মানুষের কাছে পৌছে দিতে পেরেছেন।

তিনি অসহায় ও গরিব মানুষদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করেছেন। নানা রকমের সামাজিক কর্মকাণ্ডের ফলে এই আসনে নিজেকে ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসেবে নিজ অবস্থান করে নেন। বিগত সময়ে দলের মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। বরং শতবাধা ও বিপত্তি উপেক্ষা করে সমর্থকদের নিয়ে মাঠে সরব থেকেছেন, দলের হয়ে কাজ করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আত্রাই উপজেলায় ভোটার সংখ্যা বেশি হওয়ায় নওগাঁ-৬ আসনে অবশ্যই প্রার্থীকে প্রথমে আত্রাইয়ে বিজয়ী হতে হবে। আত্রাই থেকে ১৯৮৬ সালে ওহিদুর রহমান প্রথম অল্প সময়ের জন্য এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর যোগ্য দলীয় কোনো প্রার্থী আত্রাইয়ে না থাকায় এমপির স্বাদ পায়নি উপজেলাবাসী। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে এই সুযোগ হয়তো আত্রাইবাসী পেতেন না।

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে শুধু আত্রাইবাসী নয়, রাণীনগরের ভোটাররা বিশেষ করে তরুণ ও বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুমুল জনপ্রিয় ব্যক্তি হয়ে ওঠেন সুমন। রাণীনগরবাসীও সুমনকে রেকর্ড পরিমাণ ভোট দিয়েছেন। সাবেক এমপি মরহুম ইসরাফিল আলমের পর এই আসনের মানুষ একজন শিক্ষিত, কর্মঠ ও তরুণকে এমপি হিসেবে পেলেন যার মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া এই দুই উপজেলাকে দ্রুতই এগিয়ে নেয়া সম্ভব। আর এ ধারা অব্যাহত রাখতে হলে এমপি সুমনকে এই অঞ্চলে বৈষম্যহীন, লুটপাটহীন, হানাহানি মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এলাকায় এলাকায় গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছেন। সুমন এলাকায় উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ের হবে- এমনই প্রত্যাশা দুই উপজেলার মানুষের।

আত্রাইয়ের আ’লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সদস্য চৌধুরী গোলাম মোস্তফা বাদল বলেন, সুযোগ কাজে লাগাতে এবার নির্বাচনে আত্রাইবাসীর শ্লোগান ছিলো ‘আত্রাই থেকে এমপি চাই’। সুমনের জয় মানে পুরো আত্রাইবাসীর জয়। কারণ আত্রাই উপজেলার সব শ্রেণিপেশার মানুষ দলবল নির্বিশেষে সুমনকে ভোট দিয়েছেন। স্বাধীনতার পর থেকেই বিলবেষ্ঠিত আত্রাইবাসী আমরা চরমভাবে অবহেলিত অবস্থায় আছি।

নবনির্বাচিত এমপি অ্যাডভোকেট সুমন বলেন, ১৯৯১ সালে ছাত্রলীগে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি নিই। এমপি নির্বাচিত হওয়ার জন্য আমাকে দীর্ঘ বন্ধুরপথ পাড়ি দিতে হয়েছে। শত অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। আমার পথচলার একমাত্র শক্তি ছিলো এই আসনের মানুষদের অকৃত্রিম ভালোবাসা, সাহস ও অনুপ্রেরণা। এই জয় আমার নয়, এই আসনের সব মানুষের জয়।

এই বিজয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিজয়।
সুমন বলেন রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলা নিয়ে আমি অনেক স্বপ্ন বুনেছি। আমি বদলে দেয়ার অঙ্গিকার নিয়ে সবার কাছে ভোট প্রার্থনা করেছি। সবার সার্বিক সহযোগিতায় মানবতার মা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে সেই স্বপ্ন ও অঙ্গিকারগুলো বাস্তবায়ন করতে চাই। শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে সুস্থ পাঠদানের মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বের হওয়ার জন্য একটি চর্চা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

এছাড়াও আত্রাই উপজেলাকে বন্যামুক্ত রাখতে যুগোপযোগী কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করতে চাই। দুই উপজেলার হাসপাতালের বেহাল দশা কাটিয়ে অসহায় ও দুস্থ মানুষদের কাছে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। দুই উপজেলায় তিনটি রেলওয়ে স্টেশন দীর্ঘদিন যাবত অবহেলিত অবস্থায় আছে। সেগুলোকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর বিরতি নিশ্চিত করতে কাজ করবো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ