নগরভবনে তালা || কর্মচারী-শ্রমিকদের আন্দোলনে স্থবির রাসিক

আপডেট: জুন ১৯, ২০১৭, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগর ভবনের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে শ্রমিক কর্মচারীদের বিক্ষোভ-সোনার দেশ

দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। নগর ভবনের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। সরকারিভাবে নির্ধারিত বেতনসহ ১১ দফা দাবিতে প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীরা বিক্ষোভ করেন। গতকাল রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালিত হয়। তবে কর্মসূচি চলাকালে রাসিক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নগর ভবনে ছিলেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারিরা নগর ভবনের প্রধান ফটকের সামনে সমবেত হন। সকাল নয়টার দিকে তারা নগর ভবনের প্রধান ফটক, শালবাগানে রাসিকের গ্যারেজ এবং শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান চিড়িয়াখানায় ও উদ্যানে তালা ঝুলিয়ে দেয় কর্মচারিরা।
১২টার দিকে কর্মচারি ইউনিয়নের নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন রাসিকের ১৬জন কাউন্সিলরসহ কর্মকর্তারা। পরে তাদের দাবি আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যে মেনে নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। পরে তারা রাসিকের প্রধান ফটকের তালা খুলে দেয়। তবে এ বৈঠকে মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ছিলেন না।
এদিকে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রধান ফটকে তালা দিয়ে কর্মসূচি চলাকালে বিভিন্ন দাফতরিক কাজে নগর ভবনে আসা কয়েকশ মানুষ ফিরে যান। এসময় প্রধান ফটকের সামনে নগরভবনে প্রবেশ প্রত্যাশীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন। গতকাল কর্মসূচি চলাকালে রাসিক’র ২২টি শাখায় সব ধরনের দাফতরিক কার্যক্রম বন্ধ ছিলো। এর ফলে সেবাপ্রার্থীরা তাদের সেবা থেকে বঞ্চিত হন।
এসময় নগরীর সিপাইপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলাম নামের একজন ঠিকাদার দাফতরিক কাজে নগর ভবনের প্রকৌশল শাখায় আসেন। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, আমি সকাল সাড়ে নয়টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রচণ্ড গরম আর রোদের মধ্যে প্রধান ফটকের সামনে অপেক্ষা করেছি। কিন্তু নগরভবনে প্রবেশ করতে পারি নি। প্রকৌশল শাখায় আমার জরুরি কাজ ছিলো। আজকে একটি বিল পাশ হবার কথা ছিলো। কিন্তু নগর ভবনে প্রবেশ করতে না পারার কারণে এবং দাফতরিক কাজ বন্ধ থাকায় আমার বিলটি ফাইলবন্দি হয়ে রয়েছে। একই ধরনের মন্তব্য করেন প্রধান ফটকের সামনে অবস্থানরত অন্য সেবাগ্রহীতারাও।
এছাড়া শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার প্রধান ফটকসহ অন্য ফটকগুলোতে তালাবদ্ধ ছিলো সকাল নয়টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত। এসময় কয়েকশ দর্শনার্থী উদ্যানের ভেতরে আটকা পড়ে যান। আর উদ্যানে প্রবেশ করার জন্য অপেক্ষায় থাকেন কয়েকশ দর্শনার্থী। পরে প্রধান ফটকসহ অন্যান্য ফটকের তালা খুলে দেয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তাছাড়া রাসিক’র শালবাগান এলাকার গ্যারেজ থেকে গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোন পরিবহন বের হতে দেয় নি শ্রমিক ও কর্মচারীরা। এমনকী এসময় মেয়রের গাড়িটিও গ্যারেজের ভেতর আটকা ছিলো।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি দুলাল শেখ বলেন, গত বছরের ২৪ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে সিটি করপোরেশনের দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত দক্ষ কর্মচারিদের দৈনিক ৫০০ টাকা এবং অদক্ষ অনিয়মিত কর্মচারিদের প্রতিদিন ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু গত এক বছরেও রাজশাহী সিটি করপোরেশন কর্মচারিদের দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি করেনি। অন্যান্য সিটি করপোরেশনের সরকারি নিয়মে বেতন দেয়া হলেও রাসিকে ৩৩০ টাকা করে দেয়া হয়। এর ফলে রাসিকের দুই হাজার দুইশ কর্মচারি সরকারি নিয়মে তাদের মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একারণে শ্রমিক-কর্মচারীরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কষ্টে জীবনযাপন করছেন।
অপরদিকে করপোরেশনের সাধারণ সম্পাদক আজমীর আহম্মেদ মামুন বলেন, গত ১২ জুন থেকে রাসিকের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে। তারা মানববন্ধন, সমাবেশ ও স্মারকলিপি দিয়ে মেয়রের কাছে তাদের দাবি তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, রাজশাহী ছাড়া অন্য সিটি করপোরেশনগুলোতে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের বেশি বেতন দেয়া হয়। দক্ষ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে পাঁচশ এবং অদক্ষ শ্রমিকদের সাড়ে চারশ টাকা প্রদান করা হয়। কিন্তু রাজশাহী সিটি করপোরেশনে দেয়া হয় মাত্র ৩৩০টাকা। আমরা অচিরেই অন্য সিটি করপোরেশনের সমান মজুরি চাই। আর দাবি পূরণ না হলে আগামি ৯ জুলাই থেকে আবারো দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সামনে ঈদের কারণে আন্দোলন আপাতত স্থগিত রাখা হলো।
অপরদিকে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী মজুরি বৃদ্ধি ছাড়াও অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, স্থায়ী কর্মচারীদের জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি প্রদান, স্থায়ী কর্মচারীদের গৃহ নির্মাণের ব্যাংক লোনের ব্যবস্থা, মৃত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পোষ্যদের চাকরি প্রদান, মৃত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের অবসরকালীন ভাতা সম্পূর্ণরূপে প্রদান, স্থায়ী কর্মচারীদের বদলি, শোকজ ও সাসপেন্ড বন্ধ এবং বরখাস্ত ১৫৪ জন কর্মচারিকে চাকরিতে পুনর্বহাল, সাংগঠনিক কাঠামো সংশোধন করে নিয়োগের ব্যবস্থা, মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী, কল্যাণ তহবিল বাস্তবায়নে চূড়ান্ত অনুমোদন এবং স্থায়ী কর্মচারীদের পোশাক, জুতা ও ছাতাসহ সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ