নগরীতে আদালত চত্বর ও গৌরহাঙ্গায় ককটেল বিস্ফোরণ II আহত দুই, আটক তিন

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০২৩, ১১:২২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


নগরীতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুই এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দু’জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। বুধবার (২৯ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর আদালত চত্বর ও দুপুর একটার দিকে গৌরহাঙ্গা কামারুজ্জামান চত্বর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আহত দু’জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের সামনে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরিত হলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। একই সাথে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। এই ঘটনায় কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ককটেলটি কোন দিক থেকে ছোঁড়া হয়েছে তা বোঝা না গেলেও এটি যে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে, তা বোঝা গেছে। তবে ককটেলটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গাড়িতে না পড়ে পাশে বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য আহত হয়নি। ঘটনার পর সেখান থেকে পুলিশের গাড়িটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বিস্ফোরণের জায়গাটি ইট দিয়ে ঘিরে দিয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে ককটেলের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হক বলেন, দুপুরে আদালত চত্বরে সীমানা প্রাচীরের বাইরে থেকে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে হাতবোমা ছোঁড়া হয়। তবে বোমাটি গাড়িতে না পড়ে পাশে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে আদালতের জেনারেটর রুমের জানালার কাঁচ ভেঙে যায় এবং আদালত চত্বরে অবস্থানরত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এবিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়ধীন।

অপরদিকে, দুপুর একটার দিকে গৌরহাঙ্গা কামারুজ্জামান চত্বর এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় তিনজনকে আটক করে স্থানীয়রা পুলিশে সোপর্দ করেন। ককটেল বিস্ফোরণে অটোরিকশার চালক ও এক যাত্রী আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আটককৃতরা হলেন, মো. টিটো (৩২), মো. শাহাদত হোসেন (২৭), মো. মনিরুল ইসলাম। তারা জেলা ও থানা কৃষক দলের নেতাকর্মী বলে পুলিশ জানায়।

পরে তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। আহতরা হলেন, নগরীর হেতেম খাঁ এলাকার অটোচালক আব্দুল জলিল (৪৫) এবং যাত্রী মেহেরপুর গাংনী উপজেলার বাসিন্দা আবুল বাশার।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক শামীম আহমেদ জানান, আহত যাত্রীর বাম চোখের ভিতরে ককটেলের স্প্রিন্টার ঢুকে গেছে। চোখের অবস্থা ভালো না। সঙ্গে সঙ্গে অপারেশনে নেয়া হয়। অন্যদিকে অটোরিকশা চালকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাঁচ ঢুকে আছে। তাকেও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
বোয়ালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন জানান, এই ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যববস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ