নগরীতে আবাসিক এলাকায় মোবাইল টাওয়ার স্থাপন; মামলা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :


২০১৯ সালে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে মোবাইল টাওয়ার অপসারণে ১১ দফা নির্দেশনা সম্বলিত হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। এরপরও হাইকোর্টের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাজশাহী নগরীর আবাসিক এলাকায় নূন্যত কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করা হচ্ছে। যা নিয়ে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে নগরীর বিজিবি ক্যান্টনম্যান্ট সংলগ্ন শালবাগান প্রফেসর পাড়ার বাসিন্দাদের মাঝে। প্রতিকার পেতে এবার স্থানীয় বাসিন্দারা আদালতের দ্বারস্ত হয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইডটকো নামক একটি কোম্পানি ওই এলাকার বাসিন্দা প্রফেসর ওবাইদুল হকের চার তলা বাসায় মোবাইল টাওয়ার স্থাপন কাজ শুরু করেন। এরইমধ্যে টাওয়ারের ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে।

ঘনবসতিপূর্ণ স্পর্শকাতর ওই এলাকায় মোবাইল কোম্পানির টাওয়ার স্থাপন যেন না করা হয় সে লক্ষ্যে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রার্থণা করে ওই কোম্পানির পরিচালক ও প্রফেসর ওবাইদুল হকের নামে রাজশাহী সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে মামলা করেন ওই এলাকার বাসিন্দা ইসমত আরা। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী কামারুজ্জামান ইরান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিজিবি ক্যাম্প, একটি স্কুল, একটি মসজিদসহ ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই গত দুই বছর আগে মোটা অঙ্কের অর্থনৈতিক সুবিধার লোভে নিজ বাড়িতে ক্ষতিকর মোবাইল টাওয়ার স্থাপনে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন প্রফেসর ওবাইদুল হক। স্থানীয়দের বাঁধার মুখে বারবার ফিরে এসেছেন। এমনকি টাওয়ার স্থাপন করা হবে না বলেও স্থানীয়দের আশ^াস দিয়েছিলেন ওবাইদুল। কিন্তু আবারও কাজ শুরু করেছেন।

এলাকাবাসির দাবি, স্পর্শকাতর এলাকায় টাওয়ার স্থাপন করা হচ্ছে অথচ পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কোন দপ্তরই এবিষয়ে জানে না। এই টাওয়ার স্থাপন হলে রেডিয়েশনের ক্ষতিকর প্রভাব এলাকার মানুষের হৃদরোগ, ক্যান্সারসহ শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন ঝুঁকি তৈরি হবে যা বিশেষজ্ঞদের একাধিক গবেষণায়ও উঠে এসেছে। নিজ এলাকায় এমন আত্মঘাতি টাওয়ার মেনে নেবেন না বলেও জানান স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ওই বাড়ির মালিক প্রফেসর ওবাইদুল হক বলেন, ওই কোম্পানি প্রশাসনিকসহ অন্যান্য দিক ম্যানেজ করে নিয়ম-নীতি মেনেই তার বাড়িকে চয়েস করেছেন বলে তার সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন। তিনি শুধু বার্ষিক ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে টাওয়ার স্থাপনের জন্য জায়গা দিয়েছেন। এখন স্থানীয়রা ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে মামলা করেছেন। আবার টাওয়ার করতে না দিলে কোম্পানিও মামলার হুমকি দিচ্ছে। এখন আমি কি করবো।

এ বিষয়ে ইডটকোর সাব-কন্ট্রাক্টর ইঞ্জিনিয়ার সোহেল মুরাদ বলেন, সারাদেশে ইডটকোর টাওয়ার নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি আছে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টরা সবাই এই টাওয়ার স্থাপন সর্ম্পকে জানে। এই মামলাটা প্রতিহিংসামূলক। যিনি মামলা করেছেন, তার বাসায় টাওয়ারটা না করার কারণে মামলা করেছে।

তিনি আরও জানান, মামলা করলে কোম্পানিও মানহানির মামলা করতে পারে। এতে ওই ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।
এই টাওয়ার স্থাপন সর্ম্পকে রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাহমুদা পারভীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এই সর্ম্পকে আমি কোন কিছুই জানি না। লোকাশনটা আমাকে ম্যাসেজ করে রাখেন। আমি দেখবো।’

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত রায় প্রদানকারী বেঞ্চ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে মোবাইল টাওয়ার অপসারণে ১১ দফা নির্দেশনা সম্বলিত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন। যেখানে মোবাইল টাওয়ার বাসার ছাদ, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, ক্লিনিক, কারাগার, খেলার মাঠ, জনবসতি এলাকা, হেরিটেজ ও প্রত্মতাত্ত্বিক এলাকায় না বসানো এবং যেগুলো বসানো হয়েছে তা অপসারণের জন্য বলা হয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট অথরিটিকে আদালতের আদেশ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে আরও গবেষণা করে রিপোর্ট দিতেও বলা হয়েছিলো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ