নগরীতে আল্ট্রাপ্যাথ ডায়াগনস্টিকের দালাল আটক

আপডেট: জুলাই ১২, ২০১৭, ১:৩২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রোগির সাথে প্রতারণার অভিযোগে নগরীর লক্ষীপুর এলাকার আল্ট্রাপ্যাথ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক দালালকে আটক করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ওই ডায়াগনস্টিকের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক‘ দালাল নগরীর কোর্ট বুলনপুর ঘোষপাড়া এলাকার সানোয়ার হোসেনের ছেলে বিপ্লব (১৯)।
জানা গেছে, রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী জামালের স্ত্রী নেহারবানু গতকাল দুপুরে তার প্রতিবন্ধী স্বামীকে লক্ষীপুরের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ডাক্তার দেখান। ডাক্তার তাকে সেখানে রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। এরপর সে পরীক্ষার টাকা জমা দেয়ার জন্য ইসলামী হাসপাতালের কাউন্টারে যান। এসময় দালাল বিপ্লব ও মাইনুল এ টেস্ট এখানে হয় না বলে আল্ট্রপ্যাথে ডায়াগনস্টিকে নিয়ে যান। সেখানে রিসিপসনিস্ট সিবিসি এবং আরবিএস পরীক্ষার জন্য ৪৫০ টাকা নেন। পরে ওই কাউন্টারের এক নারী দালাল রক্ত পরীক্ষার নাম করে আরো ২০০ টাকা নেয়। কিন্তু  কোন মানি রিসিভ দেয়নি। এরপর রোগিকে নিয়ে আবার ইসলামী হাসপাতালের ডাক্তারের কাছে আসার পর জানতে পারেন তারা দালালের খপ্পরে পড়েছেন। পরে সেখানে পরীক্ষা করাবে না বলে দালালের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তারা দুর্ব্যবাহার করেন। এসময় অন্য রোগির স্বজনরা দালাল বিপ্লব কে ধরে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে লক্ষিপুর পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এটিএসআই আব্দুল হাই ও কনস্টেবল আব্দুর রহিম তাকে আটক করে পুলিশ বক্সে নিয়ে যান। তবে একই এলাকার আরেক দালাল মাইনুল পালিয়ে যায়।
রোগির স্ত্রী নেহারবানু অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী একজন প্রতিবন্ধী। সে এক পায়ে ভ্যান চালিয়ে কোনমতে সংসার চালায়। আল্ট্রাপ্যাথের দালালরা প্রতারণা করে প্রতিবন্ধি মানুষের কষ্টের টাকা কেড়ে নিয়েছে। এসব দুই নম্বর ডায়াগনস্টিক ও দালালের খপ্পরে পড়ে কোন অসহায় মানুষ যেন প্রতারিত না হয় সেজন্য তাদের বিচার চান তিনি।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, আল্ট্রাপ্যাথ ডায়াগনস্টিকের দালালরা প্রতিদিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও লক্ষিাপুরসহ নগীরর বিভিন্ন জায়গা থেকে সাধারণ রোগিদের ভুল বুঝিয়ে সেখানে নিয়ে যান। তারা জানান, উল্টা-পাল্টা পরীক্ষার নামে অসহায় লোকজনকে ঠকিয়ে বেশি টাকা আদায় করা হয় সেখানে। এছাড়া  ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি নি¤œমাণের হওয়ায় সেখানকার রিপোর্ট চিকিৎসকরা দেখেন না। ফলে সেখানে পরীক্ষা করার পর ওই পরীক্ষা আবার অন্য জায়গায় করাতে হয়। এভাবে প্রতিনিয়ত অনেক লোক আল্ট্রাপ্যাথ ডায়াগনস্টিকের দালালের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে লক্ষীপুর পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এএসআই আব্দুল হাই বলেন, লোকজন এক দালালকে ধরে পুলিশ বক্সে খবর দিলে তাকে আটক করে রাজপাড়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে আল্ট্রাপ্যাথ ডায়াগনস্টিকের মালিক ফজলুর রহমান পলাশের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে জানান। বিপ্লব ও মাইনুল নামে তার কোন দালাল নেই বলে তিনি দাবি করেন।
এবিষয়ে রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা. সঞ্জিত কুমার সাহা বলেন, তদন্ত করে ওই ডায়াগনস্টিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ