নগরীতে ইমারত নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণের পূর্বে রাসিকের অনাপত্তিপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে

আপডেট: September 13, 2020, 9:44 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:


মহানগরী এলাকায় ইমারত নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণের পূর্বে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) অনাপত্তিপত্র (এনওসি) গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে একটি উপ-আইন তৈরি করতে যাচ্ছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের একটি প্রস্তাবনা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সিটি করপোরেশন এলাকায় ইমারত নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ নিয়ন্ত্রণ, ইমারত পরিদর্শন, অননুমোদিত নির্মাণ কাজ ভেঙ্গে ফেলা, ইমারত নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ সংক্রান্ত অপরাধ, ইমারত নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ ফিস নির্ধারণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিমিত্তে বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থার সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগর ভবনের সিটি হলসভা কক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মহানগরীর সবচেয়ে বড় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। প্রায় ১০ লাখ মানুষকে আমাদের সেবা প্রদান করতে হয়। একজন ব্যক্তির জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সকল সেবা প্রদান করতে হয়। মহানগরীতে যত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আছে, আমরা সবার সাথে সমন্বয় করে চলতে চাই। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর ও বাসযোগ্য মহানগরী গড়তে চাই। সুন্দর ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে প্রয়োজন পরিকল্পিত নগরায়ন। এজন্য ভবন/বাড়ি নির্মাণের পূর্বে আরডিএ এর পাশপাশি সিটি করপোরেশনের কাছ থেকেও অনাপত্তিপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
সভায় মেয়র আরো বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের অর্থনৈতিক বুনিয়াদি দুর্বল। এখানে শিল্পায়ন হয়নি। অতীতে কেউ সিটি করপোরেশনের আয় বৃদ্ধির চেষ্টা করেননি। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের আয় বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম। পরবর্তীতে আমি না থাকায় সেগুলো বন্ধ করা হয়। আমরা এখন সিটি কর্পোরেশনের আয় বৃদ্ধি করতে পদক্ষেপ গ্রহণ ও চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।
মেয়র আরো বলেন, মহানগরীতে বিগত সময়ে তেমন বহুতল ভবন ছিল না। গত ১০ বছর থেকে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। বহুতল ভবন নির্মাণ করতে হলে আরডিএ এর নিয়ম মেনেই করতে হবে। নিয়ম মানা হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে সিটি করপোরেশন তদারকি করবে।
মেয়র আরো বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় রাজশাহীর সুনাম দীর্ঘদিনের। এখন মহানগরী ফুলের শহরে পরিণত হয়েছে। এতো সুন্দর ফুলের শহর আর কোথাও নেই। এটি নিয়ে আমরা গর্ব করতেই পারি।
সভায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা বলেন, বাড়ি বা ভবন নির্মাণের পূর্বে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের অনাপত্তিপত্র গ্রহণ বাধ্যতামুলক উপ-আইন প্রণয়ন একটি সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আমরা রাজশাহী সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ ও তদারকির ফলে নাগরিকরা বিল্ডিং কোড মেনে চলতে বাধ্য হবে। ফলে অনেক অগ্নি ও দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
সভায় বক্তব্য দেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতান আব্দুল হামিদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. নজরুল ইসলাম, আরএমপির উপপুলিশ কমিশনার আব্দুর রকিব পিপিএম বক্তব্য দেন। সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাসিকের প্যানেল মেয়র-১ ও ১২নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম বাবু ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড.এবিএম শরীফ উদ্দিন। সভায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন সচিব আবু হায়াত মো. রহমতুল্লাহ।
সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন আরডিএর অথরাইজড অফিসার আবুল কালাম আজাদ, সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুজ্জোহা, রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড ডেভলপার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান কাজী, ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স ওয়ার হাউজ ইন্সপেক্টর ফারুক আহম্মেদ, ১৪নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আনোয়ার হোসেন, ১৯নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তৌহিদুল হক সুমন, নেসকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শিরিন ইয়াসমীন, ওয়াসার ডিএমডি সোহেল রানা, বিটিসিএল এর ডিজিএম গোলাম মোর্শেদ।
সভায় উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের এ্যাডিশনাল জিএম অজয় কুমার পোদ্দার, এলজিইডি‘র নির্বাহী প্রকৌশলী মোজাহার আলী প্রামাণিক, পরিচালক স্বাস্থ্য রাজশাহী কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডাঃ আনোয়ারুল কবির, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এসএম শামীম আহম্মেদ ও র‌্যাব-৫ এর সিনিয়র এএসপি শেখ মো. আনোয়ার হোসেন, জাতীয় গৃহায়ণ কতৃপক্ষের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী কাজী নজরুল ইসলাম।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামাল হোসেন, ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এসএম মাহবুবুল হক পাভেল, ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রবিউল ইসলাম তজু, ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুস সোবহান, ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়রুল আমিন আযব, ২৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ আশরাফুল হাসান (বাচ্চু), জোন-২ এর কাউন্সিলর আয়েশা খাতুন, মাননীয় মেয়রের একান্ত সচিব মোঃ আলমগীর কবির, প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার খায়রুল বাশার, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মোঃ নূর-ঈ-সাঈদ, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোর্শেদ, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন, বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম খান, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা নিজামুল হোদা প্রমুখ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ