নগরীতে উদ্যোক্তা মহাসম্মেলন ও আমমেলা অনুষ্ঠিত

আপডেট: জুন ৫, ২০২২, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


নগরীতে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের মহা সম্মেলন ও আম মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০ টায় নগরীর শিল্পকলা একাডেমিতে এই মেলার উদ্বোধন করা হয়।

এই মেলাটি সাড়ে ১০ টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যে ৬ টা পর্যন্ত চলে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ‘নিজের বলার মত একটা গল্প’ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাতা ইকবাল বাহার জাহিদ, বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা উদ্যোক্তারা, মেলার আয়োজকরা এবং সম্মানীত ব্যক্তিবর্গরা।

মেলার মাধ্যমে উঠে আসে উদ্যোক্তা তৈরির কথা। মেলার কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্যানুয়ায়ী, বাংলাদেশের ৬৪ জেলার, ৪৯২টি উপজেলা ও ৫০টি দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিসহ মোট ৬ লাখের বেশি তরুণ-তরুণীদেরকে ১৮টি ব্যাচের মাধ্যমে টানা ৯০ দিন করে বিনামূল্যে উদ্যোক্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে সারা দেশে ও বিদেশে, প্রায় ৪ হাজার মিটআপের মধ্যে দিয়ে চলছে অনলাইন/অফলাইন এই কার্যক্রম।

প্রত্যেকটি উদ্যোক্তাদের মূল মন্ত্র ‘চাকরি করবো না চাকরি দেব’ এই ব্রত সামনে রেখে গত ১ হাজার ৫৯১ দিন ধরে প্রশিক্ষণ কর্মশালা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। যা সারা বিশ্বে একটি ইতিহাস বলে দাবি করেন তারা।

ইতোমধ্যে এই প্লাটফর্ম থেকে লক্ষাধিক উদ্যোক্তা হয়েছেন এবং গত বছরে বদলে গেছে ৬ লক্ষ তরুণ তরুণীদের জীবন। এখন প্রতিটি উদ্যোক্তা দক্ষ, পজিটিভ ও ভালো মানুষ হচ্ছে এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা পাচ্ছেন পার্টনার পাবার সুযোগ, ভলান্টিয়ারিং, সামাজিক কাজ এবং ভালো মানুষি চর্চার সুযোগ। তারা আশা করেন, আগামী ২ বছরের মধ্যে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা অন্তত ৩ লক্ষ উদ্যোক্তা তৈরি করার মাধ্যমে।

এই মেলায় রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলা- নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাগঞ্জ, নাটোর, রাজশাহী, নওগাঁসহ শরিয়তপুর, ঢাকা, ওয়ারি, ভাংগা, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ৫০ টি স্টল নিজেদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করেন।

উদ্যোক্তাদের মধ্যে নওগাঁ রসুলপুর উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়্যারম্যান উদ্যোক্তা আব্দুর রহমান রানা এসেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্যোক্তাদের সাথে মিটআপ করার জন্য। প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন বেবি প্রোডাক্ট, গার্মেন্টস আইটেম, চাল ও বস্ত্র। মালিহা ও অক্ষর এসেছিলেন শরবত ই আকবরই নিয়ে।

এছাড়াও এসছেন পুন্ড্র ইউনির্ভাসিটি অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজির ক্যাম্পাসের এ্যাম্বাসেডর আশফাকুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বিশ্বাস এগ্রো ফুডের এন্টারপ্রেনেয়র আব্দুর রহমান ও শিবগঞ্জ থেকে সত্ত্বাধিকারী আসাদুর রহমান এসেছেন আম, লিচু, ঘি ও মধু নিয়ে।

এদিকে বিভিন্ন ধরনের পোশাক নিয়ে আসেন রেশম কণ্যার সিইও ও ফাউন্ডার আফরিন আহমেদ । তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের মহা সম্মেলন ও আম মেলা খুব ভালো লেগেছে। তবে কিছু কম ছিল প্রত্যাশা অনুযায়ী মিডিয়া কভারেজের বিষয়টা। আমরা যেভাবে আশা করেছিলাম সেরকম রেসপন্স পাই নি।

এখানে মূলত এসেছিলাম ব্র্যান্ডিং এর জন্য। আসলে এক দিনে ব্যবসা হয় না। তাই আশাও তেমন ছিল না। তবে সেল হয়েছে এবং অনেক জন গ্রামিন চেকের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনের কারণ জানতে চাইলে জানান, নিজেকে ভালো কোনো কাজের সাথে ব্যস্ত রাখতে চেয়েছি এবং সেটা স্বাধীন ভাবে। এই চিন্তা থেকেই উদ্যোক্তা হওয়া।

মেলায় নাটোর জেলার সমন্বয়ক আব্বাস উদ্দীন জানান, এই মেলার প্রধান কারণ রাজশাহীতে দেশের সকল উদ্যোক্তাদের সাথে মিটআপ করা এবং পণ্য প্রদর্শণ করা। প্রত্যেক উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ পেয়েছে। প্রশিক্ষণের হার বাড়াতে কাজ করা হচ্ছে।