নগরীতে এক সপ্তা বাড়লো লকডাউন

আপডেট: জুন ২৩, ২০২১, ১১:১৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:



রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় চলমান ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ এর সময়সীমা আরও এক সপ্তা বাড়িয়ে ৩০ জুন রাত ১২ টা পর্যন্ত করা হয়েছে। বুধবার (২৩ জুন) দুপুর সাড়ে ৩ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল জানান, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য লকডাউন আরও এক সপ্তাহ অর্থাৎ ৩০ জুন রাত ১২ টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। চলমান বিধিনিষেধ আরো এক সপ্তাহ বলবৎ থাকবে। রাজশাহীর জনপ্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্যবিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে এ লকডাউন বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনার ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার পর রাজশাহীতে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে গত ১০ জুন রাতে জরুরি বৈঠক ডেকে রাজশাহীতে ১১ জুন বিকাল থেকে প্রথম দফায় এক সপ্তাহের সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করা হয়। সেই লকডাউনের সময়সীমা ছিলো ১৭ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত। তবে সংক্রমণ না কমায় আগের দিন লকডাউনের সময়সীমা দ্বিতীয় দফায় বাড়িয়ে ২৪ জুন পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু সংক্রমণ ও মৃত্যু এখনও না কমায় তৃতীয় দফায় লকডাউন আবারও এক সপ্তাহ বাড়ানো হলো। ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত এই লকডাউন থাকবে। এ সময়ের মধ্যে রাজশাহীর সকল উপজেলা থেকে মহানগর বিচ্ছিন্ন থাকবে বলে জানান, জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।
তিনি জানান, রাজশাহীতে নমুনা পরিক্ষার বিপরীতে সংক্রমণের হার ৫০ শতাংশের ওপরে উঠে যাওয়ায় লকডাউন দেয়া হয়। এখন সংক্রমণের হার ওঠানামা করছে। কিন্তু মৃত্যু কমছে না। হাসপাতালেও এখন প্রতিদিন রাজশাহী থেকে ৪০ থেকে ৪৫ জন রোগি ভর্তি হচ্ছেন। রাজশাহীর দুটি আরটি-পিসিআর ল্যাবে লকডাউন শুরুর পরদিন ১২ জুন সংক্রমণের হার ছিল ৫৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। সর্বশেষ ২২ জুন সংক্রমণের হার পাওয়া গেছে ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। লকডাউন শুরুর পরও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতি ২৪ ঘন্টায় ১২ থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত মারা যাচ্ছেন। এর প্রায় অর্ধেক ব্যক্তিরই বাড়ি রাজশাহী মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু আসলাম, সহকারী কমিশনার ও অ্যাক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (সাধারণ শাখা) অভিজিত সরকার, সহকারী কমিশনার (এনডিসি) আব্দুল্লাহ আল রিফাত প্রমুখ।
এদিকে, নগরীতে লকডাউন বাস্তবায়নে দিনের বেলা অনেকটায় শীথিলতা দেখা গেছে। আগের চেয়ে নগরীতে যানবাহন চলাচল বেড়েছে। অপ্রয়োজনে মানুষ ঘর থেকে বেরও হচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত না করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জমছে আড্ডাও। তবে সন্ধ্যার পর নগরীজুড়ে নিরবতা থাকছেই।
নগরীর চায়ের স্টল বন্ধ থাকলেও ভ্রাম্যমাণ চা বিক্রেতাকে ঘিরে খোশ গল্পে মাতছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। নির্দেশনার বাইরে থাকা নগরীর অনেক ব্যবসায়ী অর্থ সাঁটারে আবার কখনো সাঁটার টেনে ব্যবসা করছেন। নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে যানচলাচল কম থাকলেও স্বাস্থ্যবিধির মানার বিষয়ে উদাসীনতা কমছে না। বুধবার (২৩ জুন) নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
তবে নগরীর প্রবেশপথে কড়াকড়ি রয়েছে। নির্দেশনার বাইরে থাকা গাড়িগুলোকে নগরীতে ঠুকতে দেয়া হচ্ছে না। তবে একটু দূরেই গাড়ির দীর্ঘ লাইন থাকছে। সেখান থেকে ভেতরের বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে বাড়তি ভাড়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের যাত্রীও পরিবহণ করছে তারা। নগরীর মোড়গুলোতে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও আগের মতো তৎপরতা নেয়। তবে মাঝে মাঝে কিছু সময়ের জন্য তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। যা বিকেলের পর বাড়ছে। তবে নগরীর লক্ষীপুর, রেলগেট, সাহেব বাজারের প্রধান সড়কগুলোতে সাধারণ গাড়ি চলাচলে কঠোরতা দেখা গেছে। মোড় থেকে পুলিশ গাড়ি ঘুরিয়ে দিচ্ছে। চালক সেখানে যাত্রী নামিয়ে দিচ্ছেন। যাত্রীরা কিছুদূর হেঁটে আবার গাড়ি নিচ্ছেন। সামনে মোড়ে আবার নামিয়ে দিচ্ছে। মোড় পেরিয়ে আবার মিলছে গাড়ি। এভাবে এই মোড় হেঁটে পার হয়ে গাড়ি পরিবর্তন করেই অসুস্থ রোগির গাড়ি, রিজার্ভ গাড়ি ও ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া অন্য জরুরি প্রয়োজনের মানুষগুলো চলাফেরা করছেন। আর এক্ষেত্রে গাদাগাদি করে যাত্রী নিয়ে অধিক ভাড়ায় যাতায়াত করছে কিছু চার্জার অটো ও অটো রিকশা। এছাড়া প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে শপিংমল ও মার্কেট বন্ধ রয়েছে। তবে বিচ্ছিন্নভাবে কৌশলে নির্দেশনার আওতার মধ্যে অনেকেই দোকান খুলছেন। কেউ বন্ধ সার্টারে আবার কেউ অর্ধসাটারেও দোকান খুলেছেন। তবে দুপুরের সেগুলোও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নগরীর কাঁচাবাজারে কিছুটা ভিড় বেশি থাকছে। সেখানে সঠিকভাবে মাস্ক না পরেই অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা কেনাবেচা করছেন। এক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্বের বালাইও নেই। অনেকে সঠিক নিয়মে মাস্কও পরছেন না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ