নগরীতে এবার জমছে না পূজার বাজার

আপডেট: October 16, 2020, 12:19 am

সবনাজ মোস্তারী স্মৃতি:


দুয়ারে কড়া নাড়ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সব চেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। লকডাউন শেষে দিনের শুরু হচ্ছে রোদ ঝলমল সকাল দিয়ে। যে সকালের নতুন আলো দেখে ভালো বেচার আশায় প্রতিদিন বুক বাঁধছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু দিন শেষে মাথায় হাত উঠছে তাদের। আগের বছরের মত নেই সকাল-রাত পর্যন্ত বেচাকেনা।
এছাড়াও মার্কেটের পাশাপাশি ফুটপাতের দোকানগুলোতেও নেই কেনাবেচা। ক্রেতাদের আকর্ষণে বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানে ছাড় দেয়া হলেও বাবেও নেই কোনো সাড়া। করোনায় অনেকটাই চুপসে গেছে এবারের পূজার কেনাকাটাÑ এমনটাই বলছেন বিক্রেতারা। নগরীর মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতারা এখন বিভিন্ন মার্কেটে না ঘুরে এক ছাদের নিচে সবকিছু পাওয়া যায়Ñ এমনই দোকান ও মার্কেটকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।
নগরীর আরডিএ মার্কেটের শেখ কালেকশনের বিক্রেতা আনারুল আবেদিন বলেন, এবারের পূজায় মেয়েদের জন্য রয়েছে টপস, ফ্রোর চাট, ওয়ান পিস লাহেঙ্গাসহ নানা পোশাক। তবে মেয়েদের বেশি পছন্দ লাহেঙ্গা। লাহেঙ্গাগুলো সর্বনিম্ন আড়াই হাজার থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
হিট কালেকশনের বিক্রেতা নাসিম বলেন, এবার পূজায় বেচাকেনা নেই বললেই চলে। ছেলেদের জন্য এবার পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, বেল বটাম প্যান্ট থাকলেও তেমন ক্রেতা নেই।
শাড়ির দোকান ঘুরে দেখা গেছে, কিছু নতুন নামের শাড়ি বাজারে এসেছে। জমির উদ্দীন শাড়ি হাউসের মনসুর রহমান বলেন, এ বছর ব্যবসা একদম নেই। এবার বাজারে মালাই কাতান, কাশমেরি কাতান, মিনাকারি কাতান এসেছে। এগুলোর দাম ১৬শো থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে।
কুমকুম শাড়ি ঘরের মালিক মোহাম্মদ রফিক বলেন, এবার পূজায় বেচাকেনা চার ভাগের এক ভাগ। প্রত্যেক বছর পূজায় ভারত থেকে শাড়ি আনা হয়। তবে এবার প্রায় সব কিছু বন্ধ থাকায় আমরা নতুন কোনো মালপত্র নিয়ে আসতে পারিনি। একজন শাড়ি ক্রেতা শিবানী চ্যাটার্জি বলেন, এবার বাজারে তেমন নতুন কিছু আসেনি। তিনি তার পরিবার নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছেন।
এদিকে পূজার জন্য জুতা এবং গহনার দোকানেও কেনাকাটা নেই। শেফা অলঙ্কারের মালিক বিপুল বলেন, পূজার জন্য বেশ কয়েক রকম নতুন নামের গহনা বাজারে এসেছে। এর মধ্যে ‘শাড়ি মালা’ এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে আগের মতো ক্রেতা নেই।