নগরীতে করোনা রিপোর্টে জাল সনদের অভিযোগ

আপডেট: July 30, 2020, 11:15 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের করোনা পরীক্ষার ল্যাবের সনদ জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্ম চারী করোনা পজিটিভ সনদটি তার প্রতিষ্ঠানে জমা দিয়েছিলেন। পরে সেই সদনটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যাচাই করার জন্য রামেকে পাঠানো হয়। এর পরেই কলেজ র‌্যাবের কর্তৃপক্ষ ধরে ফেলে যে সনদটি একটি জাল সদন। তবে সনদধারী ওই কর্মচারী দাবি করেছেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ওই কর্মচারীর নাম মমতাজ ইসলাম (২৬)। তিনি নগরীর হড়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তাই তার প্রতিষ্ঠান থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে করোনা পজিটিভ সনদটি যাচাই করার জন্য পাঠানো হয়। গত সোমবার কলেজ কর্তৃপক্ষ সদনটি হাতে পায়। সেদিনই যাচাই করে দেখা গেছে সনদটি এই ল্যাব থেকে দেয়া হয়নি। মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ল্যাবের প্যাড নকল করে কলেজের সনদের আদলে অবিকল নকল সনদ তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী জানান, গত মঙ্গলবার তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে সনদটি নকল। এটা ধরা পড়ার পরই তারা নগরের রাজপাড়া থানায় মামলা করার জন্য অভিযোগ দিয়েছেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যে প্রতিষ্ঠান এই সনদ যাচাইয়ের জন্য পাঠিয়েছে তারাই মামলা করবে।
এ বিষয়ে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী যে প্রতিষ্ঠান যাচাইয়ের জন্য সনদটি পাঠিয়েছে, তারাই মামলা করবে। তবে এ নিয়ে থানায় এখনো কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি। মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যাচাই বাছাই করছে বলে শুনেছি।
ভুক্তভুগি মমতাজ ইসলাম বলেন, গত ১৫ জুলাই করোনা পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহিবিভাগে তিনি গিয়েছিলেন। সেখানে অ্যাপ্রোণ ও মাস্ক পরা দুজন লোককে দেখে তিনি তাদের হাসপাতালের লোক মনে করেছিলেন। তিনি করোনা পরীক্ষায় ব্যাপারে তাঁদের কাছে পরামর্শ চেয়েছিলেন। তারা তাকে জানান, অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করলে বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর প্রতিবেদন দেয়া হবে। আর হাসপাতালে করলে এখানে নমুনা নেয়া হবে। তিনি অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে রাজি হলে তারা তার পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ও ফোন নম্বর নিয়ে সাথে সাথে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে দেন বলে তাকে নিশ্চিত করেন।
তিনি আরো জানান, পরে তার বাসায় একজন লোক যান। নমুনা নিয়ে নেন। সে সময় ওই ব্যক্তি বলেন, এই রেজিস্ট্রেশনের জন্য হাসপাতাল থেকে ২০০ টাকা করে নেয়া হয়। আর প্রতিবেদনের জন্য পরে ১ হাজার ৮০০ টাকা দিতে হবে এমন কথা হয়।
ভুক্তভুগি মমতাজ ইসলাম বলেন, ২১ জুলাই অন্য একজন লোক বাসায় এসে তার মায়ের কাছে করোনা পজিটিভ সনদ দিয়ে যান এবং ১৮০০ টাকা নিয়ে যান। সে সময় তিনি তখন বাসায় ছিলেন না। পরে করোনা পজিটিভ হওয়ার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানকে জানান। বর্তমানে প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে নকল সনদ সরবরাহের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, এই বিষয়ে তিনি আসলে প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ