নগরীতে কোটি টাকার জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ

আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০১৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :



নগরীতে মোসলেম আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ৬ শতাংশ জমি ‘জাল দলিলের’ মাধ্যমে জোর করে দখল করে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নগরীর বর্ণালী মোড় এলাকার ওই জমিটি নিয়ে এখন দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মোসলেম আলীর দাবি, জমিটি তিনি তার স্ত্রীর নামে কিনেছেন। তবে এই জমি নিজেদের পৈত্রিক সম্পত্তি বলে দাবি করছেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম-উল-আযীমের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) আজমীর আহমেদ মামুন ও তার দুই ভাই। বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে চলছে উত্তেজনা।
আজমীর আহমেদ মামুন জানান, দীর্ঘ সময় পূর্বে মোসলেম আলীর কাছে তার বাবা আব্দুল মান্নান দেড় লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন। তবে টাকা নেয়ার সময় একটি স্ট্যাম্পে মোসলেম আলী তার বাবার স্বাক্ষর নিয়ে রেখেছিলেন। পরবর্তীতে তার বাবার টাকা পরিশোধ করতে দেরি হয়। এ কারণে কৌশলে ওই স্ট্যাম্পের ওপর ভর করে মূল্যবান ওই জমিটির জাল দলিল করে নেন মোসলেম। কিন্তু স্ট্যাম্প থেকে কোনোভাবেই জমির দলিল হতে পারে না। ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে মোসলেম আলী এই কাজটি করেছেন বলেও দাবি করেন মামুন।
এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জমিটিতে কয়েক বছর আগে থেকে ৬টি দোকানঘর রয়েছে। কয়েকবছর থেকে দোকানগুলো মোসলেম আলী দখল করে রেখেছিলেন। জমি দখল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে গত এপ্রিলে আজমীর আহমেদ মামুন ও তার ভাই রেজমীর আহমেদ সামান দোকানগুলোতে তালা দিয়ে দেন। এরপর মোসলেম আলী প্রভাব খাটিয়ে ফের দোকানগুলো নিজের দখলে নেন।
পরে গত বুধবার সামান ও মামুন শ্রমিক নিয়ে গিয়ে দোকান ঘরগুলো ভেঙে জমিটি দখলে নেয়ার চেষ্টা করেন। বৃহস্পতিবার সকালেও তারা দোকানগুলো ভাঙছিলেন। এ সময় মোসলেম আলী র‌্যাবকে খবর দিলে র‌্যাব সদস্যরা দোকান ভাঙায় বাধা দেয়।
জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে মোসলেম আলী দাবি করেন, ১৯৯৫ সালে স্থানীয় আব্দুল মান্নানের কাছ থেকে ওই জমি তিনি তার স্ত্রীর নামে কিনেছেন। এরপর তিনিই সেখানে মার্কেট নির্মাণ করেন। কিন্তু ওই সম্পত্তি স্বল্প মূল্যে জোর করে কিনে নেয়া হয়েছে বলে আব্দুল মান্নানের ছেলেরা সম্প্রতি মার্কেটটি দখল করার চেষ্টা করেন। অথচ এই জমির দলিল দিয়ে তিনি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। তবে আব্দুল মান্নানের ছেলে রেজমীর আহমেদ সামান তার নামে জমি দখলের মামলা করেছেন। সে মামলা এখনও আদালতে চলছে।
রেজমীর আহমেদ সামান জানান, মোসলেমের নামে তিনি আদালতে মামলা করার পর মোসলেম আলীও আদালতে একটি মামলা করেন। মামলার আর্জিতে মোসলেম বলেছিলেন, জমিটি তার এবং তার নিজের দখলেই আছে। এ জন্য আদালতের বিচারক সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বোয়ালিয়া থানার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে নির্দেশ দেন। গত ২৬ অক্টোবর তিনি আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। এতে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে ওই জমি রেজমীর আহমেদ সামানের ভোগদখলে আছে। এরপর গত বৃহস্পতিবার আদালত তার পক্ষেই রায় দেন। এ দিন মামলার বাদী মোসলেম আলী আদালতে হাজিরও হননি।
তিনি বলেন, ‘আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এ জন্য আমাদের জমিতে রায়ের পরদিন থেকে আমরা পুরনো দোকান ভেঙে নতুন করে নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু মোসলেম আলী জমির দখল নিতে দিচ্ছেন না। তিনি এখনও আমাদের বাঁধা দিচ্ছেন। আমার ভাই সিটি মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী হওয়ায় মোসলেম আলী ও তার ছেলেরা আমার ভাইকে জড়িয়েও নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। ’
তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে মোসলেম আলীর বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান রিয়ন বলেছেন, জমিটি তাদেরই। এ জমির দলিল তাদের আছে। জাল দলিলের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা ফিক না। তবে গত বুধ ও বৃহস্পতিবারের দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় তার বাবা আদালতে আরও একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ