নগরীতে গাড়িপার্কিং ছাড়াই বহুতল ভবন || শর্ত লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক

আপডেট: মার্চ ৯, ২০১৭, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহী মহানগরী তার নাগরিকদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্য গতি হারাচ্ছে। এতে করে যে পথচারীদের দুর্ভোগ- ভোগান্তি বাড়ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ১০ বছরের আগের রাজশাহী আর বর্তমান রাজশাহীর মধ্যে এমনই পার্থক্য তৈরি হয়েছে। নগরীতে যানজট এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। এই যানজটের অনেকগুলি কারণের মধ্যে গার্ড়ি পার্কিঙের সুবিধা না থাকাও অন্যতম। কেনাকাটার প্রয়োজনে রাস্তার যেখানে সেখানে গাড়ি রাখার ফলে যানজট পরিস্থিতি আরো প্রকট হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশে প্রকাশিত হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নগরীর অধিকাংশ বহুতল ভবনে গাড়ি পার্কিঙের কোনো ব্যবস্থা নেই। আবাসিক এলাকার কিছু বহুতল ভবনে গাড়ি পার্কিঙের স্থান থাকলেও বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত বহুতল ভবনে গাড়ি পার্কিঙের স্থান নেই বললেই চলে। এর ফলে নগরীর ব্যস্ততম সড়কে যানজট লেগেই থাকে। এতে ভোগান্তিতে পড়ে জনসাধারণ।
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) আইনেও বলা আছে, বাণিজ্যিক বা আবাসিক যেখানেই হোক না কেন, বহুতল ভবনে অবশ্যই গাড়ি পার্কিঙের স্থান রাখতে হবে। আরডিএর কর্মকর্তারা বলছেন, নকশায় গাড়িং পাকিঙের স্থান দেখেই অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু ভবন নির্মাণের সময় তা মানেন না।
নগরীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হচ্ছে লক্ষ্মীপুর। যা চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত। অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনিস্টক সেন্টার গড়ে উঠেছে এই মোড়কে কেন্দ্র করে। অথচ এই মোড়ের আশেপাশে রাস্তার ধারে গড়ে উঠা কোনো ভবনে নেই গাড়ি পার্কিঙের স্থান।
বর্তমানে নগরীতে বাণিজ্যিক ও আবাসিকের জন্য বহুতল ভবনের নির্মাণের আধিক্য লক্ষনীয়। বাণ্যিজ্যিক সেন্টারগুলো ডেকোরেটেড কিন্তু উদ্বেগের বিষয় সেগুলোতে কোনো পার্কিঙের ব্যবস্থা নেই। অভিজাত বিপণী হওয়ায় এগুলোতে অভিজাতরাই কেনাকাটা করে থাকেন এবং তারা রাস্তার ওপরই গার্ড়ি পার্কিঙে রেখে কেনাকাটা করে। লক্ষ্য করা যায়, এ রকম দু’চারটি গাড়ি রাস্তায় দ-ায়মান থাকলেই ওই ব্যাপক রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ বিষয়টি কোনো কর্তৃপক্ষই ভাবছেন না। আগামী তে এই পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নেয়ার আশংকা আছে। সাবলিল চলাফেরার জন্য খ্যাত রাজশাহী মহানগরী তার সেই ঐতিহ্য ইতোমধ্যেই হারাতে বসেছে। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের গভীর মনোযোগের দাবি রাখে।
আরডিএর কর্মকর্তারা বলছেন, ‘নকশায় গাড়িং পার্কিঙের স্থান দেখেই অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু ভবন নির্মাণের সময় তা মানেন না।’Ñ কর্তৃপক্ষের এ ধরনের বক্তব্যও গ্রহণযোগ্য নয়। শর্ত মত ভবন নির্মাণ না করলে তা অবশ্যই বেআইনি হওয়ার কথা। এবং এ ক্ষেত্রে ওই নির্মাতা কিংবা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার এক্তিয়ারও আরডিএ-এর। কর্তৃপক্ষ শর্ত লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা। নতুবা যারা শর্ত লঙ্ঘন করছেন তারা অন্যের জন্য দৃষ্টান্তই সৃষ্টি করে যাবেন। অন্যদিকে আরডিএ একটি ‘কাগুজে বাঘ’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিগণিত হবেÑ যা নগরবাসীর জন্য মোটেও প্রত্যাশিত হবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ