নগরীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এঁর ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপিত জাতীয় কবির আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে সুদৃঢ় করার আহবান

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২, ১১:০৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। জাতীয় কবি মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আলোচনা সভায় রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল এঁর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জাকীর হোসেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. অলিউল আলম।
নজরুল উপমহাদেশের একজন বলিষ্ঠ কবি আখ্যা দিয়ে বক্তারা বলেন, নজরুল উপমহাদেশের এমন একজন বলিষ্ঠ কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সংগীতজ্ঞ, দার্শনিক ও স্বাধীনতা সংগ্রামী যার মতো উদার ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন কোনো সাহিত্যিক এখনো পর্যন্ত পৃথিবার আলো দেখেনি, হোক সে মুসলমান, হোক হিন্দু, হোক বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান! নিজেকে বিকিয়ে দিয়ে নয়, নিজের স্বতন্ত্র চিন্তা ও চেতনাকে সযতেœ লালন করে তিনি ঐক্যবদ্ধ একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন। নজরুল সমগ্র বিশ্বের আপামর মুক্তিকামী মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয়, বরণীয় হয়ে মহাকালের মহাবিস্ময় হিসেবে চিরভাস্মর হয়ে থাকবেন।

আলোচনা সভায় ‘বাংলা সাহিত্যের ধূমকেতু নজরুল’ উল্লেখ্য পূর্বক উপস্থিত বক্তারা বলেন, অল্প বয়সেই ইসলামের মৌলিক আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান বাংলা সাহিত্যের ধূমকেতু নজরুল। যা পরে তার সাহিত্যকর্মকে বিপুলভাবে প্রভাবিত করে। মূলত তিনিই সর্বপ্রথম বাংলা সাহিত্যে সফলতার সঙ্গে ইসলামী চেতনার চর্চা শুরু করেছেন। বাংলায় ইসলামী গানের যাত্রা শুরু হয়েছিল নজরুলের হাত ধরে। নিজস্ব ধর্মীয় চেতনা অক্ষুণ্ন রেখে মানবতাবাদী হওয়া উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত কাজী নজরুল ইসলাম।

‘সাম্রাজ্যবাদী ও দখলদার অপশক্তির মূর্তিমান এক আতঙ্কের নাম নজরুল’ উল্লেখ্য পূর্বক উপস্থিত বক্তারা বলেন, ‘সাম্রাজ্যবাদী ও দখলদার অপশক্তির মূর্তিমান এক আতঙ্কের নাম নজরুল’। মূলত ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের স্বাধীনতা সংগ্রামে নজরুলের প্রত্যেকটি শব্দ এক একটি পারমাণবিক বোমার কাজ করেছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা নজরুলের কবিতায় দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। এমনকি স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর যে শ্লোগানটি পারমাণবিক বোমার চেয়ে বেশি কার্যকর ছিল, সেই ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানটি নজরুলের কবিতা থেকে নিয়েছিলেন সর্বকালের সেরা এই বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ